প্রিন্ট মিডিয়ার পাঠক : পশ্চিমে কমছে, এশিয়ায় বাড়ছে

সোমবার, ০৩/০৬/২০১৩ @ ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

print media(০৩ জুন ২০১৩)- এশিয়ায় বাড়ছে ছাপা হওয়া সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যা। কিন্তু পশ্চিমা দুনিয়ায় এ সংখ্যা কমছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে পাঠকরা অনলাইনেই বেশি পত্রিকা বা খবর পড়ে থাকেন। ফলে সেখানে ছাপা হওয়া পত্রিকার প্রচার সংখ্যা কমছে। ওয়ার্ল্ড এসোসিয়েশন অব নিউজপেপারস অ্যান্ড নিউজ পাবলিশার্স (ডব্লিউএএন-আইএফআরএ) পরিচালিত বার্ষিক ওয়ার্ল্ড প্রেস ট্রেন্ডস শীর্ষক জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে আজ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে।

সেখানে ডব্লিউএএন-আইএফআরএ-এর প্রধান নির্বাহী পরিচালক ভিনসেন্ট পেরিগনি বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন। ওয়ার্ল্ড নিউজপেপার কংগ্রেস, ওয়ার্ল্ড এডিটরস ফোরাম এবং ওয়ার্ল্ড এডভারটাইজিং ফোরামের যৌথ উদ্যোগে এতে যোগ দেয়ার কথা দেড় হাজারেরও বেশি প্রকাশক, প্রধান সম্পাদক ও প্রতিনিধির। বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বৈশ্বিক ডাটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জেনিথ অপটিমিডিয়া, আইপিএসওএস, কোমস্কোর এবং আইটিইউ-এর সহায়তা নেয়া হয়েছে এতে।

ওই রিপোর্টে (পৃষ্ঠা ৮ কলাম ১) বলা হয়েছে, বিশ্বের পূর্ণ বয়স্কদের অর্ধেকের বেশি মানুষ দৈনিক পত্রিকা পড়ে। তার মধ্যে ২৫০ কোটি পাঠক পড়েন ছাপা হওয়া পত্রিকা। ডিজিটাল অর্থাৎ ইন্টারনেটে পাওয়া পত্রিকা পড়েন ৬০ কোটির মতো পাঠক। সংবাদপত্র শিল্প বছরে ২০০০০ কোটি ডলারে রাজস্ব আয় করে বছরে। অঞ্চলভেদে পত্রিকার প্রচার ও বিজ্ঞাপনী পারফরমেন্সের তারতম্য হয়। ২০১২ সালে সারা বিশ্বের সংবাদপত্রের প্রচার কমে গিয়েছিল শতকরা ০ দশমিক ৯ ভাগ। তবে এশিয়ায় প্রচার সংখ্যা বাড়তে থাকে। ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বিশ্বে সংবাদপত্রের প্রচার কমে যায় শতকরা ২ দশমিক ২ ভাগ। তার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত প্রচার সংখ্যা কমে ইউরোপে। এক বছরে প্রচার সংখ্যা উত্তর আমেরিকায় কমেছে শতকরা ৬ দশমিক ৬ ভাগ। পশ্চিম ইউরোপে শতকরা ৫ দশমিক ৩ ভাগ, পূর্ব ইউরোপে ৮ দশমিক ২ ভাগ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় শতকরা ১ দশমিক ৪ ভাগ।

তবে প্রচার সংখ্যা বেড়েছে এশিয়ায় শতকরা ১ দশমিক ২ ভাগ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ৩ দশমিক ৫ ভাগ, লাতিন আমেরিকায় ০ দশমিক ১ ভাগ। আবার ৫ বছর সময়ে প্রচার সংখ্যা উত্তর আমেরিকায় কমেছে শতকরা ১৩ ভাগ, লাতিন আমেরিকায় দশমিক ৮ ভাগ, পশ্চিম ইউরোপে শতকরা ২৪ দশমিক ৮ ভাগ, পূর্ব ইউরোপে ২৭ দশমিক ৪ ভাগ। এ সময়ে প্রচার সংখ্যা এশিয়ায় বেড়েছে শতকরা ৯ দশমিক ৮ ভাগ, মধ্য প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ১০ দশমিক ৫ ভাগ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে শতকরা ১ ভাগ। ২০১২ সালে সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন আয় বিশ্বব্যাপী কমেছে শতকরা ২ ভাগ। ২০০৮ সাল থেকে এ সময় পর্যন্ত এ হার শতকরা ২২ ভাগ। বিশ্বে বিজ্ঞাপনের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। সেখানেই ৫ বছরে বিজ্ঞাপনের পরিমাণ কমে গেছে। ৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ছাপা হওয়া সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন কমে গেছে শতকরা ৪২ ভাগ।

এতে আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে প্রকাশকরা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। অর্থের বিনিময়ে যেসব বিষয় ইন্টারনেটে পাওয়া যায় তা থেকেও রাজস্ব আসছে। অ্যালায়েন্স অব অডিটেড মিডিয়ার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি প্রকাশক এখন অর্থের বিনিময়ে সংবাদ বা ফিচার এমন ধারণার দিকে এগিয়ে গেছেন। শতকরা ৪০ ভাগ প্রকাশক পাঠকের পরিমাণ নির্ধারণের চেষ্টা করছে। এক-তৃতীয়াংশ সর্বনিম্ন চার্জের বিনিময়ে তার পত্রিকা পড়তে দিচ্ছেন। যে কোন বিষয় পড়তে গেলেই অর্থ দিতে হবে এমন পত্রিকার সংখ্যা শতকরা ১৭ ভাগ। শতকরা ১০ ভাগ পত্রিকা অন্যান্য মডেল ব্যবহার করে থাকে। মোবাইল এবং ট্যাবলেটে পাঠক সংখ্যা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ফ্রান্সে দেখা গেছে ট্যাবলেটে যে পরিমাণ পাঠক পত্রিকা পড়েন তাদের সংখ্যা ছাপা পত্রিকা পড়া পাঠকের সমান।

সূত্র: মানবজমিন

সর্বশেষ