গ্রামীণ জনগণের কন্ঠ কমিউনিটি রেডিও

সোমবার, ২৭/০৫/২০১৩ @ ৫:৩৪ অপরাহ্ণ

মো. তারেক মাহমুদ ::

radioডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কমিউনিটি রেডিও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

একটি নির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখার মধ্যে কমিউনিটি রেডিও সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালন করে থাকে। এলাকাবাসীর অংশগ্রহণ ও তাদের জীবন কেন্দ্রিক সমস্যা ও সম্ভাবনা, চাওয়া- পাওয়া ইত্যাদির উপর অনুষ্ঠান নির্মানে এতে গুরুত্ব দেয়া হয়। সংবাদ, তথ্য বিনোদন, নাটক, জীর্বিকা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আলোচনা অর্থাৎ স্থানীয় সর্ববিষয়ে প্রচার প্রক্রিয়ায় এলাকাবাসী সরাসরি অংশগ্রহণ করে। স্থানীয় যে কোনো গুরুত্ব¡পুর্ণ তথ্য সংবাদ এ কেন্দ্র থেকে স্থানীয় জনগণ পেয়ে থাকে। যার মাধ্যমে বিনোদন, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয় অনুষ্ঠানাদি প্রচার করে।

বিশ্বে কমিউনিটি রেডিও`র বয়স প্রায় ৬৫ বছর। ল্যাটিন আমেরিকায় এর উৎপত্তি। দারিদ্র্য ও সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই রেডিও যাত্রা শুরু করে ১৯৪৮ সালে। ১৯৪৮ সালে বলিভিয়ায় `মাইনার্স রেডিও` এবং কলম্বিয়ায় `রেডিও সুতাতেনজা` কমিউনিটি রেডিওর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে অগ্রদূত। সেই প্রেরণায় এখনো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এই রেডিও স্থাপন হচ্ছে। মাইনার্স রেডিও মাক্সবাদী ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থার দ্বন্দ্বের মাঝের শক্তি হিসেবে কাজ করত। প্রচার করত খনি শ্রমিকদের উপযুক্ত কাজের পরিবেশ এবং শ্রম নিযুক্তির জন্য জনগণকে সংগঠিত করতে অনুষ্ঠান। শ্রমিকরাই অর্থ দিয়ে পরিচালনা ও সম্প্রচার করত এই রেডিও। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম কমিউনিটি রেডিও নীতিমালা করে ভারত, ২০০৬ সালে। ভারতে বর্তমানে কমিউনিটি রেডিও এবং ক্যাম্পাস রেডিও আছে।

বাংলাদেশে তথ্য মন্ত্রণালয় ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমবার কমিউনিটি রেডিও পরিচালনার অনুমোদন দেয়। অনুমোদন পাওয়ার পর এক এক রেডিও এক এক সময় সম্প্রচার শুরু করে। বর্তমানে দেশব্যাপী ১৪ টি কমিউনিটি রেডিও স্টেশন রয়েছে। যার প্রত্যেকটিই ১৭ বর্গ কিলোমিটারের পরিধিতে সম্প্রচার করে থাকে, যেগুলোর অধিকাংশই ঘনবসতিপূর্ণ।

স্থানীয় ডিএই অফিসের তথ্য অনুযায়ী বরগুনার রেডিও লোকবেতারের সম্প্রচার শুনতে পায় প্রায় ৬৫০,০০০ জন। অপরদিকে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী সীতাকুন্ডের রেডিও সাগরের সম্প্রচার শুনতে পায় ২৭৭,৬০০ জন। আর রাজশাহীর রেডিও পদ্মার তথ্য অনুযায়ী তাদের সম্প্রচার শুনতে পায় প্রায় ৪৫০,০০০ জন।

কমিউনিটি রেডিওকে অধিক মাত্রায় গতিশীল ও জনপ্রিয় করে তুলতে দক্ষ জনবলের অংশগ্রহণের কোন বিকল্প নেই। সেবামূলক সব কার্যক্রম প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য স্টেশনগুলোর উন্নয়ন আরো জোরদার করতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থানীয় জনগণদের অংশগ্রহণে বিশেষ দলভিত্তিক আলোচনার (এফজিডি) মাধ্যমে এই রেডিওগুলো শ্রোতাদের চাহিদা চিহ্নিত করছে এবং সেই অনুযায়ী অনুষ্ঠান প্রচার করছে। মানসম্মত অনুষ্ঠান প্রচার এবং শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে রেডিওর কর্মীরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের অনুষ্ঠান তৈরি এবং কারিগরি শিক্ষা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। শ্রোতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের মাঝে রেডিও স্টেশনের প্রচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সচেতনতা মূলক কার্যক্রমও পরিচালন করছে।

ভারত, নেপাল, উগান্ডা এবং জাম্বিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কমিউনিটি রেডিও সফলতার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদগুলোতেও এ রেডিও গুলো সফলতা অর্জন করছে তার সাড়া আমরা ইতিমধ্যে পাচ্ছি।

লেখক : স্টেশন ম্যানেজার
রেডিও লোক বেতার