সাংবাদিকতায় নারী

রবিবার, ২৬/০৫/২০১৩ @ ১১:৩২ অপরাহ্ণ

Journalistঘরে-বাইরে নানা প্রতিবন্ধকতা আর বৈষম্যের শিকার হলেও সব পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে দিন দিন।

একসময় নারীদের জন্য শিক্ষকতা পেশাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হলেও বর্তমানে ব্যবসা, ইঞ্জিনিয়ারিং, ড্রাইভিং, সমাজসেবা, সাংবাদিকতাসহ নানা চ্যালেঞ্জিং পেশায় প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের যুক্ত করছেন নারীরা। আর এসব পেশায় সফলতাও কম নেই তাদের।

বর্তমানে চ্যালেঞ্জিং পেশাগুলোর মধ্যে সাংবাদিকতা একটি। এ পেশায় দিন দিন নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। কেউ সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করে এ পেশায় আসছেন, আবার কেউ অন্য বিষয়ে পড়াশোনা করেও যুক্ত হচ্ছেন এ পেশায়। সবচেয়ে বড় কথা, পুরুষদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারীরা নিজেদের জায়গা তৈরি করে নিচ্ছেন নিজ যোগ্যতায়।

সাংবাদিকতায় কোনো লিঙ্গ নেই। এরপরও পেশার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন নারীরা। অফিসে বসে যারা কাজ করেন তারা যেমন ছোটখাটো কিছু সমস্যা মোকাবিলা করেন, তেমনি যারা সংবাদ সংগ্রহ করতে মাঠে কাজ করছেন, তাদেরও মুখোমুখি হতে হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতার।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিনিয়র রিপোর্টার সেলিনা শিউলী বাংলামেইলকে বলেন, ‘পরিবারই নারীদের প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। সমাজের মাইন্ডসেট আরেকটা প্রতিবন্ধক। পুরুষ নারীকে এ পেশায় প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে মেনে নিতে চায় না অনেক ক্ষেত্রে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীর সহনশীল মনোভাবেরও অভাব রয়েছে।’

প্রতিবন্ধকতার ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাব-এডিটর রশিদা আফরোজ বলেন, ‘আমার অনেক নারী সহকর্মীর মুখে শুনেছি অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নারী সহকর্মীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করেন না। আড়ালে নারী সহকর্মীকে নিয়ে আলোচনার পাশপাশি সমালোচনা করতেও ভুল করেন না।’

তিনি বলেন, ‘নারীরা বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রাপ্য ছুটি নিতে গেলে নানা অজুহাত দেখানো হয়। নারীর কাজের স্বীকৃতি বা প্রশংসা করতে তাদের কষ্ট হলেও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কটুক্তি করে থাকেন।’

পেশা সংশ্লিষ্ট কোনো কমিটিতেও নারীদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ দেয়া হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কালের কণ্ঠের সাংবাদিক শরীফা বুলবুল বলেন, ‘আমরা নারীরা এখনও পিছিয়ে পড়া জেলার মতো। তবে যত বাধাই আসুক, সেদিকে নারী সাংবাদিকদের তাকালে চলবে না। আমাদের সামনে অদৃশ্য যে বার্লিন প্রাচীর আছে, এই প্রাচীর ভাঙতে হবে। পেছনে কে কি বলল সেসব না ভেবে সামনে এগোতে হবে।’

নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সফলতা কম নেই নারী সাংবাদিকদের। ধৈর্য, মেধা, দক্ষতা দিয়ে তারা নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক বলেন, ‘স্টার ম্যাগাজিনের এডিটর আশা মেহেদী আমীন, প্রথম আলোর ফিচার এডিটর সুমনা শারমিন, এটিএন নিউজের বার্তা প্রধান মুন্নী সাহাসহ অনেক নারী সাংবাদিকতা পেশায় উচ্চ পর্যায়ে রয়েছেন। বর্তমানে মেয়েরা এই পেশায় ভালো করছে। মেয়েরা রাজনীতি, ক্রাইম, ইসি বিটেও কাজ করছে। নারীদের এই সম্ভবনাকে কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মিডিয়া নারীবান্ধব হলে নারীরা আরও এগিয়ে আসবে। আমরা নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক সমাজ চাই। যতদিন নারীর অধিকার সমাজে প্রতিষ্ঠা না হবে। নারীরা সাংবাদিকতা পেশায় আরও বেশি বেশি আসবে। নারীরা তাদের যোগ্যতায় আরও সামনে এগিয়ে যাবে। নারীদের কাজের মূল্যায়ন করা হলে নারীরা এই পেশায় আরও এগিয়ে আসবে। নারী স্টাফদের প্রতি অফিসের বসদের আচরণবিধির কোড থাকতে হবে।’

তবে নারী সহকর্মীদের নিয়ে আশাব্যঞ্জক মন্তব্য পুরুষ সহকর্মীরাদের। এ পেশায় নারীদের আগমনকে অনেকে ততটা গুরুত্ব না দিলেও বেশিরভাগ পুরুষই স্বাগত জানিয়েছেন।

একুশে টিভির অ্যাসিস্টেন্ট নিউজ এডিটর মাসুম মাহবুব বাংলামেইলকে বলেন, ‘নারীরা সাংবাদিকতায় অনেকে আগে থেকেই কাজ করছে। তারা আগের চেয়ে এখন অনেক এগিয়ে গেছে। একটি রিপোর্টের জন্য যা যা প্রয়োজন তার সব জায়গাতেই নারীরা কাজ করছে। তবে মুসলিম রক্ষণশীল সমাজের কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা কাজ করতে পারছে না বা কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না। তবে তারা এগিয়ে যাচ্ছে।’

সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় নারীরা নারী হওয়ার কারণে সুযোগ-সুবিধাটা আরও বেশি পায়। তবে অনেক জায়গায় নারীর সৌন্দর্যটাকে কোয়ালিটির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।’

আরটিভির ডেপুটি চিফ রিপোর্টার রিপন আশরাফ বলেন, ‘আমি মনে করি সাংবাদিকদের কোনো লিঙ্গ নেই। সাংবাদিক হচ্ছে সাংবাদিক। নারী বলে তারা নাইট ডিউটি করবে না, তারা ঝুঁকিপূর্ণ রিপোর্ট করবে না তা নয়। তবে অফিসের পাশাপাশি যেহেতু পরিবারও সমলাতে হয়, তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের উচিত নারীদের প্রতি সহনশীল হওয়া।’

দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য মেয়েদের কর্মক্ষেত্রে বেশি বেশি অংশগ্রহণ খুবই প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

সূত্র- বাংলামেইল২৪ডটকম