গণমাধ্যমের লড়াই-সংগ্রামের দলিল

শুক্রবার, ০৮/০২/২০১৩ @ ৭:০২ অপরাহ্ণ

হাসান সাঈদ

mediaশাসকরা চিরকালই শাসনবিলাসী। এ বিলাসিতার পথের কাঁটা তাদের তুলে ফেলতে হয়। শাসকশ্রেণীর অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে জনমত গড়তে গণমাধ্যম বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই বৃটিশ আমল থেকে আজ পর্যন্ত সেজন্য গণমাধ্যমকে শাসকশ্রেণী বরাবরই ‘প্রতিবন্ধকতা’ মনে করে আসছে। আর তাই এগুলোর কণ্ঠরোধ করা তাদের ক্ষমতা দখলে রাখার জন্য অনেক সময় ‘জরুরি’ হয়ে পড়ে। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধে গণতান্ত্রিক কোনো সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের ভয়াল দৃশ্য তাই খুব বিস্ময়ের কিছু নয়।

সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারপক্ষ ও বিরোধীপক্ষের গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্কটা অনেকটা ভারন্ড পাখির মতো দুই মুখওয়ালা। বিরোধী দলে থাকলে গণমাধ্যম নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার আর ক্ষমতায় গেলে দমন। ফলে বাংলাদেশ জন্মের পর থেকেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। গত ৪০ বছর ধরে চলছে এ লড়াই। সাংবাদিকদের এ লড়াই ও সংগ্রামের ইতিহাস সম্প্রতি দলিল আকারে মলাটবদ্ধ হয়েছে। চমৎকার এ কাজটি করেছেন সাংবাদিক হাসান শান্তনু তার ‘গণমাধ্যম নিপীড়ন ১৯৭২-২০১২’ বইয়ে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত সব সরকারের সময়কার গণমাধ্যম নিষ্পেষণের চিত্র বইটিতে নিখুঁত ও নিরপেক্ষভাবে উঠে এসেছে।

বইটি নিয়ে আলোচনার আগে বলতে হয়, সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় একবার বলেছিলেন, “সাহেবরা যদি পাখী মারিতে যান, তাহারও ইতিহাস লিখিত। কিন্তু বাঙ্গালীর ইতিহাস নাই।” বঙ্কিম আজ বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, সাংবাদিকরা এতো সংগ্রাম, অধিকারের লড়াই নিয়ে লেখালেখি করেন। অথচ তাদের লড়াই নিয়ে বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ বই নেই। কেন নেই? এ প্রশ্নের উত্তর অনেকের অজানা।

অথচ এক সময় ঢাকাকে বলা হতো মসজিদের নগর। ঢাকাকে এখন বলা যাবে গণমাধ্যমের নগর। শুধু ঢাকা নয়, দেশের এমন কোনো জেলা নেই, যেখান থেকে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২টি দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক পত্রিকা বেরোয় না। বেশ কয়েক বছর আগে পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক সিডনি সেনবার্গ নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ব্যাঙ্গোক্তিপূর্ণ এক প্রতিবেদনে লিখেছিলেনÑ ‘মনে হচ্ছে, বিশে¡র অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে জনসংখ্যার চেয়েও সংবাদপত্রের সংখ্যা বেশি’ (গণমাধ্যম নিপীড়ন ১৯৭২-২০১২, পৃষ্ঠা-৭২)। আর এ দেশে ৪০ বছরের নিপীড়িত গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ দলিলচিত্র শুধু হাসান শান্তনুর বইটিই।

বইটিতে আছে ১২টি অধ্যায়। অধ্যায়গুলোর শিরোনাম হচ্ছে- সাংবাদিক, প্রকাশক বঙ্গবন্ধুর সরকার; জিয়ার সরকারের প্রকাশনার সুযোগ এবং…; কবি, স্বৈরাচারী এরশাদের কালে ভয়ংকর জনপদ; গণতন্ত্রের যাত্রাকালে সবকটা জানালা খোলেনি; সেই পুরনো ছবি, ’৯৬-’০১; সরকারে নতুনত্ব, নির্যাতনে নতুন মাত্রা, ’০১-’০৬; সেনাসমর্থিত অগণতান্ত্রিক শাসনের দুই বছর; আবার আওয়ামী লীগ, ’০৯-’১২; সরকার বনাম দৈনিক আমার দেশ; ২৮৮ দিন কারাবন্দি সম্পাদক মাহমুদুর রহমান; পাকিস্তান আমল থেকে এখনো সামরিক কৌশলে নিপীড়ন এবং পরাশ্রিত বামদের পত্রিকা।

এসব অধ্যায়ে বিন্যস্তভাবে উঠে এসেছে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে গত ৪০ বছরের মধ্যে প্রণীত আইনগুলো, ওই সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের পরিসংখ্যান, আহত ও নির্যাতিত আর নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা, সংসদে গণমাধ্যম সম্পর্কে বিষোদগার, সংসদ সদস্যদের গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনাগুলো।

বইটির প্রথম অধ্যায় থেকে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সরকারের সাড়ে তিন বছরের শাসনকালের সব বছর পত্রিকা বন্ধ, সাংবাদিক, সম্পদককে গ্রেফতার, হয়রানির ঘটনা ঘটে। পত্রিকা দমনে তখন কয়েকটি আইন প্রণীত হয়। এসব আইনে চলে নির্যাতন। বইটিতে বঙ্গবন্ধু অনেক পাঠকের কাছে ‘সাংবাদিক, প্রকাশক’ হিসেবে নতুনভাবে উপস্থিত হন। তিনি স্বাধীনতার আগে ‘সাপ্তাহিক নতুন দিন’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন আর কিছুদিন পত্রিকাটিতে সাংবাদিকতাও করেন (পৃষ্ঠা ১১/১২)।

বঙ্গবন্ধুর সরকারের গণমাধ্যমের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ, কার্যক্রমগুলো বইটিতে নিরপেক্ষভাবে আলোচিত হয়েছে। পত্রিকা বন্ধের পর বঙ্গবন্ধু সরকার ডিফাঙ্কড সাংবাদিকদের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা, প্রথম শ্রেণির পদে চাকরি দেয়া, সাংবাদিকদের চাকরি না হওয়ার আগে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলোতে অন্যদের নিয়োগ না দিতে সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি, সাংবাদিকদের চাকরির আগ পর্যন্ত মূলবেতনের অর্ধেক সরকারি কোষাগার থেকে দেয়া এবং স্বাধীনতা লাভের পর কয়েকটি পত্রিকা পরিচালনার ভার সরকার বহন করার বিষয়েও বইটিতে উল্লেখ আছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে পত্রিকা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়া, সাংবাদিকদের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মাণে জিয়াউর রহমানের সরকারের উদ্যোগগুলো আলোচিত হয়েছে। জিয়ার শাসনামলে তিনবার নিউজপ্রিন্টের দাম বাড়ানো, সরকারি সেন্সরশিপ। সংবাদের সম্পাদক জহুর হোসেন চৌধুরী গ্রেফতার হওয়ার কথা উল্লেখ আছে।

এরপর আছে স্বৈরাচারী এরশাদের নয় বছরের শাসনামলে সংবাদপত্র যেভাবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত থাকত, তার সরকারের তথ্য বিভাগের নানা পরামর্শ, গভীর রাতের টেলিফোন নির্দেশ ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।

স্বৈরতন্ত্রের আশ্রয়ে গড়ে ওঠে কঠোর দুঃশাসন। একে হটাতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছে গণমাধ্যম। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের শুরুতে গণতন্ত্রের যাত্রাপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি গণমাধ্যমের ওপর নেমে আসে খড়গ। ‘সবকটা জানালা’ তখন তাই খোলেনি। তখন গণমাধ্যম আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার ঘটনাগুলোও আছে।

লেখকের মতে, “দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা দেখেছিল মানুষ। গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ বাধামুক্ত গণমাধ্যমের যাত্রার সম্ভাবনাও তারা দেখে। স্বৈরাচারী এরশাদের বন্ধ করে দেয়াসহ আরো কয়েকশ’ পত্রিকা প্রকাশের সুযোগ করে দেয় সরকার। তখন পত্রিকা প্রকাশের নতুন প্রবাহ সৃষ্টি হয়। …তবে গণতন্ত্রের যাত্রাকালে গণমাধ্যম নিয়ে দেখা সাংবাদিক, কবি, লেখক, সাহিত্যিক, পাঠকের স্বপ্ন ভেজাল চুন, সিমেন্ট, ইটে গড়া দেয়ালের মতো ভেঙে পড়তে বেশিদিন লাগেনি। সাংবাদিকদের রক্তে পত্রিকার পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা রক্তাক্ত হতেও লাগেনি বেশিদিন।”

অধ্যায় নয়ে ‘সরকার বনাম দৈনিক আমার দেশ’ শিরোনামের অধ্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে এ সরকারের আমলে পত্রিকাটির সরকারের রোষানলে পড়ার ইতিহাস। ২০১০ সালের ১ জুনে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হওয়া, এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান গ্রেফতার হওয়া, এর আগে তার বিরুদ্ধে অর্ধশত মামলা দায়ের, গত বছরের শেষ দিকে স্কাইপ সংলাপ প্রকাশের পর পত্রিকাটির বিরুদ্ধে সরকারের রোষানলের বিষয়গুলোও উঠে এসেছে।

অধ্যায় দশে ‘২৮৮ দিন কারাবন্দি সম্পাদক মাহমুদুর রহমান’ অধ্যায়ে মাহমুদুর রহমানের নির্যাতনের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়ে বিবস্ত্র করার বর্ননাও আছে।

গবেষণাধর্মী হলেও হাসান শান্তনুর এ বইয়ে উপস্থাপনায় নতুনত্ব আছে। তথ্যভিত্তিক বইয়ের প্রচলিত ফর্মেটে আবদ্ধ থাকেননি লেখক। বইটির পরতে পরতে আছে গল্প ও চুটকি। যেমন শুরু হয়েছে এ চুটকি দিয়ে- বঙ্গবন্ধুর সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা স্বপ্নে দেখেন, মৃত্যুর পর তাকে নরকে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। তিনি নরকের দূতের কাছে এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের পরও কি স্বর্গে যাওয়ার সৌভাগ্য হতে পারে না?’

ঈশ্বর তাকে বলেন ‘যে পরিস্থিতি তোমরা সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশে তৈরি করেছ, এরপর নরকই তোমার কাছে মনে হবে স্বর্গের মতো।’ এটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের আমলে তথ্য মন্ত্রণালয়, খবরের কাগজের প্রকাশনা বন্ধ নিয়ে চালু হওয়া অনেক চুটকির মধ্যে একটি।

আলোচনা প্রসঙ্গে বইয়ের বিভিন্ন অধ্যায়ে লেখক পাঠকদের জানিয়েছেন জাতীয় পর্যায়ের প্রায় সব দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশনা শুরুর দিন তারিখ। কোন সরকারের আমলে কতোটি পত্রিকা, টিভি চ্যানেলের প্রকাশ, প্রচার শুরু হয়েছে, এসব তথ্য আছে। যা সংবাদকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিশেষ কাজে লাগবে। বইটিতে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমের এগিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। নতুন সম্ভাবনার গণমাধ্যম অনলাইন পত্রিকা দমনে নীতিমালা চাপিয়ে দেয়ার সরকারি চেষ্টার বিষয়েও আলোচনা আছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত শিশু, সবুজপত্র, নবারুণ পত্রিকাগুলোর আমলাতন্ত্রের কবলে পড়ে যে বেহাল দশায় আছে, এরও উল্লেখ আছে বইটিতে।

‘প্রেমের প্রতীক’ ও এদেশে ভালোবাসা দিবসের প্রবর্তক প্রখ্যাত সাংবাদিক শফিক রেহমানের কিছু গল্প, তার ও তালেয়া রেহমানের বিয়ের আগে পাকিস্তান অবজার্ভার পত্রিকায় তাদের বিয়ে হয়ে গেছে বলে এবিএম মূসার প্রতিবেদন প্রকাশ, প্রখ্যাত সাংবাদিক আতাউস সামাদের বিবিসিতে শেষ রিপোর্টের বিষয়, তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে প্রয়াত সাংবাদিক মিনার মাহমুদের নিউইয়র্কে নতুন উপলদ্ধি, স্বাধীনতার পর দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত আবেদ খানের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘ওপেন সিক্রেট’, রাষ্ট্রীয় টিভির ধরন সম্পর্কে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের খোলামেলা বক্তব্য, দৈনিক আজকের কাগজ (অধুনালুপ্ত) সম্পাদক কাজী শাহেদ আহমেদের যৌনতামিশ্রিত কয়েকটি লেখার প্রসঙ্গ বইটিতে এসেছে।

গণমাধ্যমের নিপীড়নের ইতিহাসের বর্ণনায় বিষয়গুলো খুব প্রাসঙ্গিক না হলেও পাঠকদের দেবে ভিন্ন স্বাদ। যেমন, বইটির ৫৮ পৃষ্ঠায় আছে, “তসলিমা আসলে কী, মিনার মাহমুদ বিয়ে বা ছাড়াছাড়ির সময় হয়তো তা বুঝতে পারেননি। বুঝতে পেরেছিলেন ছাড়াছাড়ির পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে। অসংখ্য প্রতিভাধরের সূতিকাগার ময়মনসিংহের তসলিমা নাসরিনের পরিচিতি তখন প্রায় বিশ¡ময়। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মিনার মাহমুদ বেঁচে থাকার তাগিদে এক সময় ট্যাক্সি চালাতেন। একদিন ট্যাক্সিতে উঠেন দুই ভদ্র মহিলা। চালক মিনার মাহমুদের সঙ্গে আলাপ প্রসঙ্গে তারা জানতে পারেন, তার বাড়ি বাংলাদেশে। তারা জানতে চান, আপনি কি তসলিমাকে চেনেন?

মিনার জানালেন, তসলিমা আমার বউ ছিল।

তার কথা শোনে দুই ভদ্র মহিলা হেল্প, হেল্প বলে চিৎকার শুরু করেন। মিনার মাহমুদ ট্যাক্সি থামালে দৌড়ে আসেন কয়েক পথচারী। তারা কী হয়েছে জানতে চাইলে দুই মহিলা বলেন, চালক পাগল। বলে কী তসলিমা নাসরিন নাকি তার বউ ছিল!”

এবারের একুশে বইমেলা উপলক্ষে বইটি চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যবহুল এ বই প্রকাশ করেছে বিভাস প্রকাশন। বইয়ের ছাপা, বাঁধাই বেশ ঝকঝকে ও আধুনিক। প্রচ্ছদ করেছেন গৌতম ঘোষ। ফ্যাপে নেই লেখকের জন্ম সাল। লেখকের জন্মসাল লুকানো পত্রিকার কাটতি সংখ্যা লুকানোর মতো বিষয় নয়। তবু সেটা কেন হলো, অনেক পাঠকের প্রশ্ন জাগবে। বইটির দাম রাখা হয়েছে ২০০ টাকা।