তৃতীয় বছরে সকালের খবর

বুধবার, ২২/০৫/২০১৩ @ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম প্রতিবেদন ::

shokaler khabor logo২২মে দু’বছর অতিক্রম করে তৃতীয় বছরে পা রাখল দৈনিক সকালের খবর। ২০১১সালের ২২মে পত্রিকাটি বাজারে আসে।
সাংবাদিক রাশিদুন্নবী থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন সম্পাদক বদলের পর বর্তমানে পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন রোমো রউফ চৌধুরী।

শুরুর দিকে সকালের খবর ছিল পাঠকপ্রিয় একটি পত্রিকা। তখন পত্রিকাটির নিয়মিত আয়োজনে ছিল- সংবাদ, সম্পাদকীয়, রাজধানী, খবর, ঢাকা, বিদেশ, অন্যমত, ব্যবসা বাণিজ্য, চট্টগ্রাম অঞ্চল, সিলেট অঞ্চল, খুলনা-বরিশাল অঞ্চল, রাজশাহী-রংপুর অঞ্চল, খেলা, বিনোদন, পাঠ প্রতিদিন, প্রযুক্তি খবর, চিঠিপত্র। ফিচারপাতা হিসেবে ছিল- শনিবারে-স্কোর, রবিবারে-অর্থ বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অটোমোবাইল, সোমবারে-পরমা, মঙ্গলবারে-বাড়ি ঘর, বুধবারে-tooফান স্বাস্থ্য কথা, ঘুরে আসি, , বৃহস্পতিবারে-বর্ণালী এবং শুক্রবারে-পান্ডুলিপি, শিল্প-সংস্কৃতি, আলোয় আঁকা, ছুটির ঘন্টা, ক্যাম্পাস, ক্যারিয়ার ও পাঠকসভা।

কিন্তু পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ পত্রিকাটির বিভিন্ন আয়োজন একেবারে সীমিত করে ফেলে। ফলে পূর্বের চেয়ে পাঠকপ্রিয়তা হারায় সকালের খবর। বর্তমানে সংকটে রয়েছে পত্রিকাটি। চলছে ছাঁটাই আতঙ্ক। কে কখন চাকরি হারান তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছে না। কারণ সিনিয়ররাই চাকরি হারাচ্ছেন প্রথম। ইতোমধ্যেই চাকরিচ্যুত হয়েছেন নির্বাহী সম্পাদক আতাহার খান, সহকারী সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া ও বার্তা সম্পাদক আফাজউদ্দিন বিপ্লবসহ অনেকেই। কেউ কেউ আবার আগেভাগেই পদত্যাগ করেছেন/করছেন।

কিছুদিন আগে সকালের খবরের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক তারিক উল ইসলাম যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হিসেবে আলোকিত বাংলাদেশে যোগ দিয়েছেন। পত্রিকাটির স্টাফ রিপোর্টার মাহবুব হাসান একই পদে যোগ দিয়েছেন যুগান্তরে।

তৃতীয় বছরে পদাপর্ণ উপলক্ষে সকালের খবরের ২২মে প্রিন্ট সংষ্করণে একটি সম্পাদকীয় ছাপা হয়েছে। তা নিম্নে দেয়া হল-

নতুন যাত্রার তৃতীয় বর্ষ

সুস্থ, সত্ সাংবাদিকতাই আমাদের শক্তি
নতুন ব্যবস্থাপনায়, নতুন আঙ্গিকে প্রকাশের দু’বছর অতিক্রম করেছে সকালের খবর। মহাকালের হিসাবে দুটি বছর খুব দীর্ঘ সময় নয়। কিন্তু একটি দৈনিক পত্রিকার পথপরিক্রমায় দুটি বছর একেবারে কম সময় বলা যায় না। কারণ এ দু’বছর আমাদের পেরুতে হয়েছে অনেক সীমাবদ্ধতার দেয়াল, অতিক্রম করতে হয়েছে বাধাবিপত্তির অমসৃণ পথ। এই কঠিন অভিযাত্রায় পাঠকের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং ভালোবাসা ছিল আমাদের অমূল্য পাথেয়। পত্রিকা প্রকাশের প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত পাঠকের আগ্রহ এবং প্রত্যাশা আমাদের সামনে চলার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সকালের খবর জন্মলগ্ন থেকেই লেখক, শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়ে এসেছে। নিজেদের মুখপত্র মনে করে সব শ্রেণির পাঠক তাদের চাহিদা, প্রত্যাশাসহ অন্যান্য সুচিন্তিত মতামত দিয়ে যে সহযোগিতা করেছেন এর জন্য সবাইকে আমাদের অপরিসীম কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
অনেক দৈনিক পত্রিকার ভিড়ে নতুন একটি পত্রিকা কতটুকু কী করতে পারবে, এমন দ্বিধার কথা কেউ কেউ বলেছেন। কিন্তু আমরা ছিলাম প্রতিশ্রুতিতে স্বচ্ছ, প্রতিজ্ঞায় অটল, কর্মযোগে নিরলস। আজ দু’বছর পর এইটুকু অন্তত প্রমাণ করতে পেরেছি, সত্য প্রকাশে আমরা পিছপা হইনি, বস্তুনিষ্ঠতা থেকে একচুলও নড়িনি। দু’বছরের পথচলায় আমরা যে কেবল নিরবচ্ছিন্ন এগিয়েই গিয়েছি তা নয়, কখনও কখনও থমকে দাঁড়াতে হয়েছে, কখনওবা এক-দু’কদম পিছু হটেছি। তীর যেমন সামনে যাওয়ার আগে সামান্য পেছনে আসে, আমরা তা-ই করেছি। অতীতের মতো স্থির লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতেও আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
মানুষের স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষার পাশে দাঁড়াতে পারে এমন একটি পত্রিকা হিসেবে সকালের খবরকে দাঁড় করাতে চেয়েছিলাম। কতটুকু পেরেছি-এর জবাব দেবেন পাঠককুল। আমরা শুধু এইটুকু বলতে পারি, বিরুদ্ধ পরিবেশ মোকাবেলা করে অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যবিরোধী অবস্থান নিয়ে আমরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সুস্থ, সত্ সাংবাদিকতার একটি সেতু আমরা রচনা করতে চাই। সেতুর এ-পারে যত ব্যর্থতা, গ্লানি, পাঁক থাকুক না কেন, সেতুর ও-পারে দেখতে চাই নতুন সূর্যোদয়, সাফল্যের হাজার কুসুম।
একটি সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা। চার দশকের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার এবং স্বাধীনতার সুফল সবার ঘরে পৌঁছেনি। শেকড়ের সন্ধান, আত্ম-আবিষ্কার আর জাতিসত্তার স্বরূপ উন্মোচনে বাংলাদেশের যে অভিযাত্রা, তা অবশ্যই স্বাধীনতার সুফল। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করার দায় আমাদের সবার। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ক্ষুধা-দারিদ্র্য-বঞ্চনার অবসান আজও হয়নি। গণতন্ত্র ও মানবিকতার অগ্রযাত্রা বারবার বিঘ্নিত হয়েছে। অপশাসনের জগদ্দল পাথর জাতির বুকে চেপে বসেছে। পরিবেশ-বৈরিতায় দেশের মানুষ নিশ্চুপ থাকলেও ভুলে যায়নি তাদের আকাঙ্ক্ষার কথা, প্রতিজ্ঞার কথা। সুযোগ পেলেই তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, জানান দিয়েছে তাদের অধিকারের বিষয়টি। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সকালের খবর যথাযথ অবদান রাখতে সচেষ্ট।
‘সত্য আমাদের শক্তি’ এই অমোঘ সত্যটি ধারণ করেই আমাদের পথচলা। তবে এ-কথাও আছে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা সহজ কাজ নয়। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম’। আমরা কঠিনকেই ধারণ করছি। যা কিছু সুন্দর, কল্যাণকর-সকল শুভ চেতনা এবং শুভ চিন্তার পাশে দাঁড়াতে চাই। বিবেকের আয়নায় সত্য-সুন্দরের যে প্রতিচ্ছবি, সকালের খবর তা-ই প্রকাশ করছে। গত বছরগুলোর মতো লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষী, বিজ্ঞাপনদাতা, পত্রিকা বিক্রেতা-সবার সহযোগিতায় আমরা এগিয়ে যেতে চাই। মঙ্গল আলোয় উদ্ভাসিত হোক সবার জীবন।