কেন আলোকিত বাংলাদেশ

সোমবার, মে ২০, ২০১৩

কাজী রফিকুল আলম ::

editor-alokito bdআলোকিত বাংলাদেশের শুভ সূচনালগ্নে পাঠক, গ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। দেশে এতগুলো দৈনিক পত্রিকা থাকতে আরেকটি নতুন দৈনিক কেন? নতুন একটি পত্রিকা আত্মপ্রকাশে এমন প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক। সে কারণেই কিছু কথার অবতারণা।

আজকাল সংবাদপত্রের পাতায় চোখ বোলালে আঁৎকে উঠতে হয়। সবগুলো পত্রিকাই যেন নেতিবাচক সংবাদে ঠাসা। আমরা এ অবস্থা বদলাতে চাই। সমাজ সেবা ও মানবকল্যাণের দৃষ্টিতে চালিত হতে হবে আমাদের সাংবাদিকতা। তথ্য ও সংবাদ পরিবেশন করে উন্নয়ন সম্ভাবনার বাস্তবায়নে যথাযথ সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ভূমিকা রাখতে চায় এ পত্রিকা। এ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে পত্রিকাটি দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরিতে সহায়ক হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

বাংলাদেশের মতো অমিত সম্ভাবনার দেশে সম্ভাবনাগুলোকে জাগিয়ে তুলতে এ ধারার একটি কাগজ প্রয়োজন আছে বলে মনে করি আমরা। প্রচলিত ধারার সংবাদপত্রগুলোতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও উন্নয়ন প্রায় অবহেলিত। আলোকিত বাংলাদেশ ভালোকে সরাসরি ভালো বলতে চায়। আর সমস্যার ভেতরে সন্ধানী চোখ ফেলে জাগিয়ে তুলতে চায় সম্ভাবনাকে। আজকাল নানামুখী সেøাগানের ভিড়ে সংবাদপত্রের মাধ্যমে সেবাটা যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। অধিকাংশ সংবাদপত্রে সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রায় অনুপস্থিত। সে ক্ষেত্রে আরও কিছু আলো ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয় সামনে রেখে গুণমান, বৈচিত্র্য, মননশীলতা আর নতুনত্বের জন্য লড়াই করতে চায় আলোকিত বাংলাদেশ। নতুন এ দৈনিকটি মান ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে কোন আপস করবে না।

বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে উন্নয়নবান্ধব সংবাদপত্র আছে বলে জানা নেই। এত কাগজের ভিড়ে ‘গণমানুষের’ কাগজ কোনটা? এমন প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক। আমাদের ধারণাÑ সংবাদপত্র ‘গণমানুষের’ হয়ে উঠতে পারছে না বলেই বাংলাদেশের সম্ভাবনাটা সেভাবে জাগ্রত হচ্ছে না দেশে ও বহির্বিশ্বে। নেতিবাচক খবরের ভিড়ে গোটা দেশটাই যেন প্রায় তলিয়ে যেতে বসেছে। এসব খবরের সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা কতটা সেটা অনেক ক্ষেত্রেই বিবেচনায় আনা হয় না। করপোরেট যুগে পত্রিকাগুলো ব্যবহƒত হয় প্রধানত গোষ্ঠীস্বার্থে। সে কারণে ‘গণমাধ্যমকে’ আজকাল বরং বিশেষ মহলের ‘প্রচার মাধ্যম’ বলেই মনে হয়।

বাংলাদেশের কাগজগুলো প্রধানত রাজনীতিতে ঠাসা। মন্ত্রীদের পেছনে পেছনে থাকেন সংবাদকর্মী। কাগজের বেশি জায়গাজুড়েই সরকার ও বিরোধীদলের নেতাদের বক্তব্য ও ছবি। এমনকি মানুষের সংকট নিয়ে প্রতিবেদন লিখতে গেলেও জুড়ে দেয়া হয় রাজনীতি। এ কারণে মানুষের সমস্যা সেভাবে কাগজে উঠে আসে না। প্রতিবেদক কোনটাকে প্রাধান্য দেবেন? রাজনীতির দিকে, নাকি সমস্যার গভীরে? কর্তৃপক্ষ যা চাইবেন, সেটাই হবে। সমস্যার কথা সবিস্তারে লেখা হয় না বলে সমস্যার সমাধানও হয় না। নানামুখী সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে সমস্যার গভীরে যাবে আলোকিত বাংলাদেশ। সংবাদ পরিবেশনের নৈপুণ্যে যে কোন সাধারণ বিষয়ও অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে। সংবাদপত্র বিকাশের সুস্থ ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতাকে আলোকিত বাংলাদেশ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখাতে চায়। ব্যতিক্রমী ধারার এ নতুন কাগজটি প্রচলিত ধারার বৃত্ত ভাঙার দলে যোগ দিতে সচেষ্ট থাকবে।

গ্রামের অবহেলিত, বঞ্চিত, শোষিত মানুষের খবর জাতীয় সংবাদপত্রে প্রধান খবর হওয়ার নজির খুব কমই আছে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, যোগাযোগ যতই বাড়ছে, ততই যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে মানুষ। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় গণযোগাযোগ মাধ্যমগুলো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যখন মানুষকে আধুনিক তথ্যবেষ্টনীর মধ্যে এনে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের চেষ্টা করছে, তখন দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি অংশ তথ্যবিচ্ছিন্ন থাকছে। সমাজ কাঠামোর অপরিবর্তনশীলতা, শিক্ষা ও সচেতনতার সংকট, অর্থনৈতিক বৈষম্য একটি শ্রেণীকে করেছে তথ্যসমৃদ্ধ, আর আরেকটি শ্রেণীকে করেছে একেবারেই তথ্যবঞ্চিত। আধুনিক গণযোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনকে সম্পৃক্ত করার ব্যর্থতাই সমাজকে ডুবিয়ে রাখছে সমস্যার আরও গভীরে। এ অবস্থা থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চায় আলোকিত বাংলাদেশ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ এদেশে প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এককালে দুর্যোগের একটা মৌসুম থাকলেও, এখন আর দুর্যোগের মৌসুম বলতে কিছু নেই। প্রায় সারাবছরই কোন না কোন ধরনের দুর্যোগের কবলে পড়ে বাংলাদেশ। জলবায়ু ও পরিবেশ পরিবর্তনের বড় শিকার বাংলাদেশ। এর মধ্যেই পরিবর্তনের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কি সেই পরিবর্তন? মানুষই বা কিভাবে সেগুলোর সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে? এসব বিষয়ে থাকবে নিয়মিত সরেজমিন প্রতিবেদন।

পড়ার অভ্যাস সৃষ্টি করা আলোকিত বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশে শিক্ষিত লোক ৫১ শতাংশ ধরা হলেও তাদের মধ্যে ক’জন খবরের কাগজ পড়েন? তাদের হাতে খবরের কাগজ পৌঁছাতে হবে। আমরা নতুন পাঠক সৃষ্টি করতে চাই। সাংবাদিকতায় আমাদের পেশাগত দায়বদ্ধতা সার্বিকভাবে দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি। এই দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকার আমাদের কাছে দাবি করে উচ্চ পেশাগত সততা, নৈতিকতা ও কাজের মান।

বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগী ও দাতাগোষ্ঠী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে বিস্ময় প্রকাশ করে দেখতে পেয়েছে অমিত সম্ভাবনা। ভিশন-২০২১ আলোকেও আমরা একে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সে ক্ষেত্রে আমাদের উন্নয়নের ক্ষেত্র ও সম্ভাবনাগুলোকে আরও বিশদভাবে খুঁজে বের করত হবে। প্রবাসী বাংলাদেশীরা দীর্ঘদিন পর দেশে এসে বিদ্যমান পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখে তাই হতাশ হয়ে পড়েন। বিদেশিরাও নিরুৎসাহিত বোধ করেন বিনিয়োগে। এই নেতিবাচক অবস্থা ও পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে দ্রুত।

সংবাদপত্র হলো শক্তিশালী গণমাধ্যম। সর্বস্তরের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। মানুষের মধ্যে সৃজনপ্রতিভা খুঁজে বের করা, উন্নয়ন সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলাসহ বিকাশ ঘটাতে পারে উন্নয়ন চিন্তা। আলোকিত বাংলাদেশ তা করতে সচেষ্ট থাকবে সর্বদাই। আলো দিয়ে আলো জ্বালান হবে আমাদের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

আলোকিত বাংলাদেশ হবে জনগণের কাগজ। জনগণের স্বার্থই আমাদের এজেন্ডা। জনগণের এজেন্ডাকে আমরা সামনে আনতে চাই। আমরা কিছু ইস্যু তুলে এনে সেগুলো নিয়ে কাজ করতে পারি। শিক্ষার্থীদের মাঝে মূল্যবোধ সৃষ্টি করা যায়। স্কুলের ছেলেমেয়েদের এ পত্রিকার মাধ্যমে সংগঠিত করতে পারি। তরুণরা দেশ গঠনের জন্য বড় শক্তি। তাদের বিকাশের স্থান করে দিতে হবে। আলোকিত বাংলাদেশ সমাজ উন্নয়নের আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা যা করতে চাই, টেকসই করার চেষ্টা করব। শুধু বিদেশিদের অর্থ নিয়ে কোনোদিন আমরা স্বনির্ভর হতে পারব না। আমাদের হতে হবে আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। নিজেদের ভাগ্য বদলের দায়িত্ব নিতে হবে নিজেদেরই। অসংখ্য উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে হবে। ইতিবাচক বাংলাদেশকে খুঁজে বের করতে হবে। সুযোগ কেউ সৃষ্টি করে দেবে না। সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে নিজেদেরই।

আমরা আধিপত্য চাই না। ভালো একটা কাজ করতে চাই। সৃজনশীলতায় আমরা সবিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই। সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে সৃজনশীলতাকে। যথার্থ অর্থে উৎসাহী, উদ্যমী, উদ্যোগী সৃজনপ্রতিভাকে খুঁজে বের করতে হবে। এজন্য আমাদের গ্রহণ করতে হবে কঠিন চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে একটি ইতিবাচক পত্রিকা জনগণের জন্য অপরিহার্য হয়ে দেখা দিয়েছে। এ কারণেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে আলোকিত বাংলাদেশ প্রকাশের।

সৌজন্যে-দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ।