“আমার মনে হয়, আমি যেটা বুঝি অ্যাঁ অ্যাঁ অ্যাঁ…”

রবিবার, ১৯/০৫/২০১৩ @ ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ

রাফে সাদনান আদেল ::

Rafe sadnan adelআমার যেটা মনে হয় সেটা টক শোতে গিয়ে বলি! তা না করে, সরাসরি সম্প্রচারে!!! যখন আছি সাংবাদিকতায়, বলি সেটাই, যেটা বলেছে কেউ.. যেটা ক্যামেরাবন্দি.. কিংবা যেখানে আমি উপস্থিত, সেইখানকার খবর।

উদ্ধারকাজে বাধা দিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীর ইন্টারভিউয়ের ব্যর্থ চেষ্টা, নিখোঁজ শ্রমিকদের দিশেহারা স্বজনদের আবেগকে পুঁজি করা, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গর্তে প্রবেশের চেষ্টা আর সেই চেষ্টার শ্যুটিংয়ে উদ্ধারকাজে বাধা দেয়া, অবলীলায় বিকৃত লাশ আর পড়ে থাকা মরদেহ সরাসরি সম্প্রচার, ১৭ দিন পরে বেরিয়ে আসা নারী শ্রমিকের উদ্ধারকর্মীকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করা এই সন্দেহে যে- নতুন জামা কেন? জিজ্ঞাসা করা- অনুভূতি কি? বেওয়ারিশ নিহত শ্রমিকদের জন্য খোঁড়া কবরে নেমে দিব্যি পিটিসি দেয়া, আর সেটার সরাসরি সম্প্রচার করা টাইট ফ্রেমে.. ধ্বংসস্তুপে আগুন লাগার সংবাদকে গুজব বলা সরাসরি সম্প্রচার… আরো কতো কি…

মহাসেন প্রসঙ্গ: বেহুদা এবং অযথা সরাসরি সম্প্রচার এবং সম্প্রচারে ‘মনে হয়’ টাইপের তথ্য দেয়া।

এসব ঘটনায় আমার কিছু প্রশ্ন আছে:

প্রশ্ন এক এবং শেষ. কেন এতো সরাসরি সম্প্রচার? সরাসরি সম্প্রচারের সংজ্ঞা এবং নীতি কি? কিইবা নীতি সাংবাদিকতার? নাকি সরাসরি সম্প্রচারের সময় সাংবাদিকতা নীতিরহিত থাকে? সরাসরি সম্প্রচার কি ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী-পেশা আর বয়সে নির্বিশেষে সব সাংবাদিকই করতে পারে? বিভিন্ন দুর্যোগে দাঁড়িয়ে একই কথা, শব্দের ফুলঝুরি থেকে নানান ফুলের মালা গাঁথলেই হয়!?

সবচাইতে নাজুক ব্যাপার হলো, এসব কি শুধু আমারই মনে হয়? নাকি ঐ স্রষ্টা স্তরের সাংবাদিকদেরও ভাবনায় কখনো সখনো উঁকি দেয়??

প্রেজেন্টার প্রশ্ন করে- আপনার কি মনে হচ্ছে? বোঝেন অবস্থা!!! যতদূর জানি-বুঝি, সাংবাদিকের মনে হওয়ার কিছুই নাই, তা তিনি যত কোটি বছর ধরেই সাংবাদিকতা করেন না কেন! তিনি যা দেখবেন তাই বলবেন, যা শুনবেন তাতে তখনই কান দেবেন যখন তার সোর্স থাকবে। তার তাই বলবেন যার প্রমাণ হয় তার ছবিতে অথবা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বরাতে তিনি বলতে পারবেন! কিন্তু হায়, কি দিব্যি বলে যাচ্ছেন অনেকেই, আমার মনে হয়, আমি যেটা বুঝি অ্যাঁ অ্যাঁ অ্যাঁ………..

সরাসরি সম্প্রচারে সম্পাদনার তেমন কোনো সুযোগ দেখি না .. যেটুকু আছে তা শুধু ডিলেয় টুকু… সেক্ষেত্রে সাবধানতা আর সতর্ক থাকাই কি কাম্য নয়? ওকেয়, না হয় মানুষ মাত্রই ভুল – ম্যান ইজ মরটাল!!! তাই বলে জবাবদিহিতা থাকবে না? এসব ভুল করেও তো সবাইকে বাহবাই পেতে দেখছি।… শো-কজ নামক বস্তুটি কি শুধুই কর্পোরেট অফিসে দেরিতে আসার জন্য বরাদ্দ!! তাও আবার সাংবাদিকদের, যাদের ওভার টাইম হিসেব করলে বেতনের সমান বৈ কম হবে না। দয়া করে এই জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় কঠোর হন।
কেন?
কারণ, আমার দেশের হতদরিদ্র মূর্খ মানুষটাও সব বোঝে..আসুন নায়ক না হয়ে একজন কর্মী হই

লেখক: সংবাদকর্মী।