নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের একটি জম্পেস আড্ডা

বৃহস্পতিবার, মে ১৬, ২০১৩

মাহমুদ মেনন ::

ABtv-Addaআড্ডাটি আরেকটু হলেই প্রেস কনফারেন্সে রূপ নিতো, যদি না কোনো ঘটনা কভার করতে গিয়ে সাংবাদিকের দায়িত্বের বিষয়টি সামনে আসতো। সাংবাদিকেরা কে কতটা ভুল করে, কেনো করে, কিভাবে করে এমন সব বিষয়ে কঠোর সব আত্মসমালোচনায় মেতে ওঠেন জনা বিশেক সাংবাদিক। প্রায় সবারই মাঠ পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আবার কয়েকজনই ছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে কিছুটা তাত্ত্বিক বিষয়ও ঢুকে পড়লো। বেশ আড্ডা আড্ডা রূপ নিলো ছোট্ট হলরুমটি।

দিন দুয়েক হলো নিউইয়র্ক সফরে এসেছেন দৈনিক আমাদের সময় ডটকম ও দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল ইসলাম যার নিউইয়র্ক থেকেও কাজ করার রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। আরও কয়েকদিন আগে এসেছেন নাজমুল আশরাফ। বুধবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটস্ এলাকার টক অব দ্য টাউন রেস্টুরেন্টে তাদেরকে ঘিরেই আড্ডার আয়োজন। নিউইয়র্ক থেকে আনুষ্ঠানিক সম্প্রচারের অপেক্ষায় থাকা টেলিভিশন চ্যানেল এবিটিভি এর আয়োজক। এবিটিভির প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আল মামুন সবাইকে স্বাগত জানান। পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন এবিটিভির অন্যতম উদ্যোক্তা ফরিদ আলম।

এদিকে আড্ডার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এসেছিলেন নিউইয়র্কে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মইনুদ্দিন নাসের, তাসের খান মাহমুদ, বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের, বাংলানিউজের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট শিহাবুদ্দিন কিসলু, ইত্তেফাকের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট শহীদুল ইসলাম, সাপ্তাহিক বর্ণমালার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, এটিএন বাংলা ইউএসএ’র বার্তা সম্পাদক দর্পন কবীর, সাপ্তাহিক এখন সময়ের সম্পাদক শামসুল হক, সাংবাদিক ওয়ালিউর রহমান, মুহাম্মদ সাইদ, রিজু মোহাম্মেদ, সাজ্জাদ হোসেনসহ আরও কয়েকজন।

আড্ডার আগেই প্রশ্নোত্তর স্টাইলে অবশ্য নাঈমুল ইসলাম খান সাভারের ভবন ধস, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী দলের হরতালসহ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নানা ঘটনা-অঘটন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। আর দিগন্ত, ইসলামিক টিভি ও আমার দেশ বন্ধ করে দেয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মত দেন, সাংবাদিকরা কেউ কেউ নিজেদের একটি বিভাজনের মধ্যে ফেলেই অন্যদের সঙ্গে আচরণ করেন। ফলে একজনের বিপদে বা দুঃসময়ে অন্যজন কোনো ভূমিকা নেন না।

গণমাধ্যমের দলীয়করণের বিরুদ্ধে আলোচকরা বেশ সোচ্চার বলেই মনে হলো। সম্পূর্ণ পেশাদারী তর্ক- বিতর্কও চললো কিছুটা সময় জুড়ে। তাতে সংবাদমাধ্যমের নানা দূর্বলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কর্তৃপক্ষের অসহিঞ্চু আচরণ নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন নিউইয়র্ক ও ঢাকার সাংবাদিকরা। শেষে পরিবেশিত খাবারটিও ছিলো বেশ মুখরোচক। আর রেস্টুরেন্টের আড্ডা শেষ করে বাইরে এসেও তার জের চলছিলো বেশ কিছুটা সময়।

সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

লেখক: মাহমুদ মেনন, হেড অব নিউজ, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম