চাকরি খোয়াতে পারেন সাংবাদিক নাদিয়া!

রবিবার, ১২/০৫/২০১৩ @ ৭:৫০ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

Nadia Sharmeen-5চাকরি খোয়াতে পারেন একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক নাদিয়া শারমিন! ‘নারী হয়ে হেফাজতে ইসলামীর সমাবেশে যাওয়ার অপরাধে’ চাকরি হারাতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন নাদিয়া শারমিন। ৮ মে বুধবার নাদিয়াকে কারণ দর্শাতে (শো’কজ) বলেছেন একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। একদিকে নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত হওয়া অন্যদিকে নিজের প্রিয় কর্মস্থল থেকে এমন প্রচ্ছন্ন হুমকির পর যারপর নাই দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। বিষয়টি সাংবাদিক মহলে রীতিমত বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। তারা এটিকে কর্তৃপক্ষের নিষ্ঠুরতা বলেও মন্তব্য করে এর প্রতিকার চেয়েছেন।
সাংবাদিক নাদিয়া শারমিনকে দেয়া শো’কজ নোটিশে একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ তার কাছে দুটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছেন ১. একজন নারী হয়েও তিনি কেন হেফাজতের সমাবেশে গিয়েছিলেন? ২. তিনি কেন এখন পর্যন্ত কাজে যোগ দেননি?

শো’কজের বিষয়টি নিশ্চিত করে নাদিয়া শারমিন বলেছেন, আমার কাছে দুটি বিষয় জানতে চেয়েছেন টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। প্রথম প্রশ্নের বিষয়ে আমার কোন অভিমত নেই। আর দ্বিতীয় প্রশ্নের বিষয়টি হচ্ছে চিকিৎসকরা আমাকে বলেছেন, একটা মেজর অপারেশন করাতে হবে। চিকিৎসকদের অভিমতে বিশ্রামে থেকে পুরোপুরি সুস্থ্য হওয়ার পরেই তা আমাকে করাতে হবে।

শো’কজের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, “এ বিষয়ে এই মুহুর্তে অফিসে যাওয়া বা কাজে যোগদান করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পরে অফিসে যাব। এর পরে কি হবে বলতে পারি না। চাকরি যেতেও পারে !”

নাদিয়া শারমিনের শো’কজের বিষয়ে এটিএন নিউজের সাংবাদিক ও কলাম লেখক প্রভাষ আমিন বলেন, আহত নাদিয়াকে শো’কজ করে খুবই বিস্ময় ও অবাক করেছে একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। নাদিয়াকে এভাবে মারল অথচ তার প্রতিষ্ঠান তার পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছে। মিডিয়াতে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি, একজন রিপোর্টার কোন অ্যাসাইনমেন্ট ছাড়া স্পটে যেতে পারে না। নাদিয়াও অ্যাসাইনমেন্ট নিয়েই অকুস্থলে গেছেন। সুতরাং সেখানে যদি তার কোন ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটে এর দায়িত্বও কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের।”

সাংবাদিক প্রভাষ আরো বলেন, যদি একুশে টেলিভিশন তাকে বরখাস্ত করে (আশা করছি সে রকম কিছু যেন না হয়) আমরা সাংবাদিক সমাজ এর বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেব।

পুলক ঘটক ও কয়েকজন সাংবাদিক জানান, “প্রথম প্রশ্নটির উত্তর রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে জানার দাবি রাখছি আমরা। নাদিয়ার পায়ের হাড় ফেটে গিয়েছে। তার একটি মেজর অপারেশন বাকি রয়েছে। সে এখনও সিড়ি ভাঙতে পারে না।
বিষয়টি আমরা যেমন জানি, একুশে টেলিভিশনে তার সহকর্মীরাও ভাল করেই জানেন। মালিক হয়তো জানেন না। আমরা কি সবাই মিলে মালিককে একটা জানান দিতে পারি না? আমরা কি পারব না সহকর্মী ও সুধী সমাবেশ নিয়ে একুশে টেলিভিশন ভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশ করতে, বিষয়টার জানান দিতে?

সহকর্মীরা জানান, ৫ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামীর মহাসমাবেশ কাভার করতে রিপোর্টিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে সেখানে যান নাদিয়া। সেখানে তোপের মুখে পড়েন তিনি। ঘটনার এক পর্যায়ে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে পুরানা পল্টন মোড়ে হেফাজতের ১০-১২জন কর্মী তাকে মারধর করেন। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

দুর্ঘটনার পরপরই গণমাধ্যমকে তার বোন অ্যাডভোকেট সাদিয়া আফরিন বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা নাদিয়ার মাথায় সিটিস্ক্যান এবং এক্সরে করেন। তবে বিপদ মুক্ত হতে তাকে আরো ১০ দিন বিশ্রামে থাকতে বলেছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার ৫ দিন পর বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি।
এ দিন সন্ধ্যায় শাহবাগ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইফতেখারুল আলম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করে ৫০/৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় পেনাল কোডের ১১টি ধারা ছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১০টি ধারার কথা উল্লেখ করা হয়। (মামলা নম্বর- ১৪, তারিখ-১১.০৪.২০১৩)।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসাধীন নাদিয়াকে দেখতে গেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য আ আ ম স আরোফিন সিদ্দিকি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ আরো অনেক গণমান্য ব্যক্তি। শুধু দেখতে যাননি একুশে কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসার ব্যয়ভার নেননি এই কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসার ব্যয়ভার প্রায় পুরোটাই তার নিজের (কিংবা পরিবারের) কাঁধে নিতে হয়েছে। মেডিকেলের বেড ভাড়া বাবদ একুশে কর্তৃপক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও পুরোটাই দিতে হয়েছে তাকে। নাদিয়ার বিষয়ে একুশে টেলিভিশনের চিফ নিউজ এডিটর ইব্রাহিম আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। কয়েকবার মোবাইলে ফোন করা হলে ‘কি বিষয়’ জানতে চান তিনি। পরে বিষয়টি তোলা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই বলতে চাননি।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে নাদিয়ার দুই সহকর্মী বলেছেন, নাদিয়ার শো’কজের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা আশা রাখি একুশে কর্তৃপক্ষ শো’কজের বিষয়টি মানবিকতার সাথে বিবেচনা করবেন। আর তা না হলে এই টেলিভিশনের দায়িত্ব পালনে সকল কর্মী সর্বদা ভীত সন্ত্রস্ত থাকবেন। যা একুশের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। সূত্র: পরিবর্তনডটকম

সর্বশেষ