এবিসি-তে ছাঁটাই আতঙ্ক

রবিবার, ০৫/০৫/২০১৩ @ ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

abc radio  logoএবিসি রেডিও-তে চলছে ছাঁটাই আতঙ্ক। এই ছাঁটাই চলবে নিউজ সেকশনে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক সংবাদকর্মী এ কথা জানিয়েছেন।

বাংলা-ইংরেজি মেশানো খিচুড়ি ভাষায় এবং আহ্লাদী ঢংয়ে কথা বলে যখন কয়েকটি বেসরকারি এফএম রেডিও চ্যানেল নানা সমালোচনার মুখে পড়েছিল, তখন স্রোতের বিপরীতে গিয়ে প্রমীত বাংলা এবং সংবাদকে প্রাধান্য দিয়ে প্রথম আলোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল এবিসি রেডিও এফএম ৮৯.২।

দ্রুততম সময়ের মধ্যেই চ্যানেলটি শ্রোতাপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে প্রতি ঘণ্টায় এবিসির সংবাদ একটা বিশেষ জায়গা করে নেয়। কিন্তু সেই অবস্থা থেকে একেবারেই ইউটার্ন নিয়েছে দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী মিডিয়া গ্রুপের এই রেডিও চ্যানেল। এমনকি চ্যানেলটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সানাউল্লাহ লাবলুও আর এবিসিতে থাকছেন না, এমন গুঞ্জনও রয়েছে।

জানা যায়, ইতিমধ্যে এবিসি রেডিওর সংবাদ বিভাগ যথেষ্ট ছোট করে ফেলা হয়েছে। সংবাদের পরিমাণ এবং দৈর্ঘ্য কমানো হয়েছে। লোকবলও কমানো হয়েছে এবং শিগগিরই আরো অনেককে বাদ দেয়া হতে পারে বলে আভাষ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি শেষ পর্যন্ত পুরো সংবাদ বিভাগই বন্ধ করে দেয়া হতে পারে- এমনটাও শোনা যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এবিসির ইংরেজি বুলেটিন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

২০০৯ সালের ৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে এবিসি রেডিও। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিভাগে ছিলেন এক ঝাঁক উদ্যমী তরুণ, যাদের অনেকেরই ছিল টেলিভিশন ব্যাকগ্রাউন্ড। অনেকে এসেছিলেন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে। ফলে একটি পেশাদার নিউজ টিম নিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল এবিসির এবং সংবাদ পড়ার ঢংয়েও তারা একটা নতুনত্ব এনেছিলেন। এসব কারণে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এবিসির সংবাদ শ্রোতাপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিশেষ করে সাংবাদিক মহলে এবিসির নিউজের একটা বিশেষ কদর তৈরি হয়।

কিন্তু বছর দুই যেতে না যেতেই এবিসির সংবাদ বিভাগে ভাঙন শুরু হয়। অনেকেই নতুন টেলিভিশন চ্যানেল যেমন এটিএন নিউজ, সময়, মাছরাঙা ইত্যাদি চ্যানেলে চলে যান। কিন্তু এরপরে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তাদের অনেকেরই সেরকম শক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না বা কাজেও তারা খুব একটা দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেননি। ফলে এবিসির নিউজ টিম ক্রমেই দুর্বল হতে থাকে। এর মধ্যে চ্যানেলটির প্রথম বার্তা সম্পাদক গোবিন্দ শীলও এবিসি ছেড়ে যোগ দেন যমুনা টেলিভিশনে। শোনা যায়, তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

সংবাদের পাশাপাশি এবিসি বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান নির্মাণ করলেও অজ্ঞাত কারণে অনেক অনুষ্ঠানই জনপ্রিয় হয়নি। কোনো কোনো অনুষ্ঠান জনপ্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে রেডিওতে সিনেমা দেখানোর মতো একটা অদ্ভুত অনুষ্ঠানও তারা কিছুদিন প্রচার করে বন্ধ করে দেয়। শোনা যায়, অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে জনপ্রিয় আরজেদের অনেকেই চাকরি ছেড়ে দেন এবং তাদের পরে যারা আরজে হিসেবে যোগ দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই জনপ্রিয় হতে পারেননি।

এরকম বাস্তবতায় হঠাৎ করেই সংবাদ কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, গত ডিসেম্বরে ছয়টি প্রাইম বুলেটিন কমিয়ে চারটিতে নামিয়ে আনা হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় দুটি ইংরেজি বুলেটিন এবং দুপুর ১২টা ও রাত ৯টার প্রাইম খবর। আগে যেখানে প্রাইম বুলেটিনের দৈর্ঘ্য ছিল ২০ থেকে ৩০ মিনিট, তা কমিয়ে আনা হয় ১০ মিনিটে। আবার প্রতি ঘন্টার সংক্ষিপ্ত সংবাদের দৈর্ঘ্য ৫ মিনিট থেকে কমিয়ে আনা হয় ২ মিনিটে। শুধু তাই নয়, আগে যেখানে সব খবরই পড়তেন সংবাদ বিভাগের কর্মী এবং দুয়েকজন আরজে, সেখানে এখন প্রতি ঘর খবর পড়েন ওই সময়ে যিনি আরজে থাকেন, তিনি। এ নিয়ে সংবাদ বিভাগের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ আছে বলে জানা গেছে। কেননা তাদের দাবি, সংবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় অনেক আরজে খবর পড়তে গিয়ে প্রচুর ভুল করেন।

তবে এবিসির সংবাদ জনপ্রিয় হবার পরেও কর্তৃপক্ষ কেন সংবাদ বিভাগ গুটিয়ে আনছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দুয়েকজন সিনিয়র কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে বিব্রত বোধ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের এরকম ইউ টার্নে নিজেদের হতাশার কথা জানান। তবে মালিক পক্ষ খরচ কমানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এত বড় একটি মিডিয়া গ্রুপ কেবল খরচ কমানোর জন্য এরকম ইউটার্ন নিচ্ছে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, তা স্পষ্ট নয়।

শুধু সংবাদ কমিয়ে ফেলাই নয়, বরং এবিসির ভাষা এবং গান পরিবেশন নিয়েও অনেকে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। কেননা এক সময় প্রমীত বাংলার চর্চা করলেও এখন অনেক আরজে অন্যান্য রেডিওর মতো বাংলা-ইংরজি মিশিয়ে খিচুড়ি ভাষায় অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন এবং বাংলা সংস্কৃতির বিকাশের কথা বললেও এখন এবিসিতে প্রচুর পরিমাণে হিন্দি গান শোনা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এবিসির একজন কর্মী অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখন প্রতি পাঁচটি গান অন্তর একটি হিন্দি গান বাজানো হচ্ছে, যা বস্তুত এবিসির দর্শনের সঙ্গে একদমই বেমানান।

গোটা বিষয় সম্পর্কে চ্যানেলটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সানাউল্লাহ লাবলুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নিউজ সেকশন বন্ধ হচ্ছে না। তবে কলেবর ছোট করা হবে। ইতিমধ্যে বুলেটিনের সংখ্যা কমানো হয়েছে। এ কারণেই সাংবাদিকদের বলা হয়েছে, তোমরা যদি ভালো সুযোগ পাও তাহলে অন্যত্র চলে যাও।”

তিনি আরো বলেন, “জনবল বেশি হয়ে গেছে, কমানো হবে।”
সূত্র: নতুন বার্তা ডটকম

সর্বশেষ