বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস শুক্রবার

বৃহস্পতিবার, ০২/০৫/২০১৩ @ ১০:৫১ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

এবারের প্রতিপাদ্য ‘সেফ টু স্পিক: সিকুরিং ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ইন অল মিডিয়া’।

এবারের প্রতিপাদ্য ‘সেফ টু স্পিক: সিকুরিং ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ইন অল মিডিয়া’।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস শুক্রবার। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার শপথ গ্রহণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ক্ষতিগ্রস্ত ও জীবন দানকারী সাংবাদিকদের স্মরণ এবং তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হবে।

১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ অনুযায়ী জাতিসংঘ ১৯৯৩ সাল থেকে এ দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সেফ টু স্পিক: সিকুরিং ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ইন অল মিডিয়া’।

সারা বিশ্বে দিবসটি পালনে ব্যতিব্যস্ত থাকবে গণমাধ্যমকর্মীরা। আর এই দিনটিকে ঘিরে সাংবাদিক সমাজও জেগে ওঠে পেশাদারিত্ব পালনে স্বাধীনতা ও ন্যায্য দাবির অধিকারে। বাংলাদেশর সাংবাদিক সমাজও দিবসটি পালন করবে। দিবসটি পালনে গনমাধ্যম কর্মীদের মাঝে কাজ করে দায়বদ্ধতা ও পেশাগত শৃঙ্খলা।

স্বাধীনতার ৪২ বছরের পথচলায় বাংলাদেশের গণমাধ্যম এগিয়ে গেছে। বৈশ্বিক গণমাধ্যমের চাকচিক্য-জৌলুসতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ও প্রযুক্তিক অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে জনগণের তথ্য চাহিদার খোরাক মেটাচ্ছে।

বাংলাদেশের জাতিসত্ত্বা থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভুত্থান, সত্তরের নিবার্চন, স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সর্বোত্তোম ভূমিকা পালন করে গণমাধ্যম। এছাড়াও ওয়ান ইলেভেনের পর পরোক্ষ সামরিক শাসনের রোষানল থেকে জনগণকে উদ্ধারে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখে গণমাধ্যম।

দেশ ও জাতির জাতীয় উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক উন্নয়নেও রাখে অপরিসীম অবদান।

কিন্তু এই দায়িত্ব পালনের কাণ্ডারিরা পথে পথে লাঞ্ছনা-বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। এমনকি জীবন দিতে হচ্ছে অনেককে। তারপর চলতে থাকে বিচারের নামে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতির শিকার হয়ে দেশে ১৬ বছরে ১৭ সাংবাদিক হত্যার বিচারের দাবি নিভৃতে কাঁদছে।

অপরদিকে নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এর তথ্য মতে, সারা বিশ্বে গণমাধ্যম কর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ঝুঁকি বাড়ছে।
এছাড়া ‘অ্যাটাকস অন দি প্রেস’ প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১১ সালে সারাবিশ্বে অন্তত ৪৬ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। কারাবন্দি হয়েছেন অন্তত ১৭৯ জন।

অন্যদিকে সিপিজে আরও প্রকাশ করে, ১৯৯২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে অন্তত ১৫৬ জন সাংবাদিক হত্যার বিচার, মামলা এখনও অমীমাংসিত।

এ ব্যাপারে সিপিজে বলছে, সারাবিশ্বে অপরাধ, মতানৈক্য ও দমন-পীড়নের সংবাদ চাপা দেয়ার জন্য সরকার ও অপরাধীরা পুরানো কৌশলের পাশাপাশি নতুন নতুন সব হুমকির মোকাবিলা করতে হচ্ছে সাংবাদিকদের।

সাংবাদিক নির্যাতন-হত্যা-মামলার ভয়াবহ চিত্রও আছে আমাদের দেশে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একটি হত্যাকাণ্ডেরও সুষ্ঠু বিচার হয়নি।

সে কারণে সর্বশেষ নিজ বাসায় খুন হওয়া সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির নির্মম হত্যাকাণ্ডের এখনও কোনো বিচার হয়নি।

এভাবে কতো সাংবাদিক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও দুর্নীতিগ্রসস্থদের রোষানলে পড়ে কত জীবন দিয়েছেন। আর বিচার বিচার চিৎকার করেও বিচার পায়নি সাংবাদিক সমাজ।

বেসরকারি সংস্থা অধিকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ৩১ মার্চ ২০১৩ পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছেন ১২ জন, আহত হয়েছেন ৫০২ জন, ১৯১ জন লাঞ্ছিত, ৭৪ জন গ্রেপ্তার, তিনজন অপহরণ এবং ২৫০ জন বিভিন্নভাবে হুমকির শিকার হয়েছেন।