ডয়চে ভেলের ৬০ বছর পূর্তি

মঙ্গলবার, ৩০/০৪/২০১৩ @ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

dw.de logo১৯৫৩ সালের ৩ মে যাত্রা শুরু করে ডয়চে ভেলে৷ শুরু হয় শর্ট ওয়েভে জার্মান ভাষায় বেতার অনুষ্ঠান৷ তত্কালীন জার্মান প্রেসিডেন্ট থেওডোর হয়স ‘‘সারা বিশ্বে প্রিয় দেশবাসীদের উদ্দেশে’’ তার শুভেচ্ছা বাণী পাঠান এই বেতারের মাধ্যমে৷

কয়েক সপ্তাহ পর ১৯৫৩ সালের ১১ জুন জার্মান পাবলিক ব্রডকাস্টার এআরডি-র সদস্যরা ডয়চে ভেলের শর্ট ওয়েভ প্রোগ্রাম চালু করার ব্যাপারে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে৷ এই প্রোগ্রামের সামগ্রিক দায়িত্বে ছিল তৎকালীন নর্থ-ওয়েস্ট জার্মান রেডিও৷ পরবর্তীতে ওয়েস্ট জার্মান রেডিও এই দায়িত্ব হাতে নেয়৷

বছর খানেক পর ডয়চে ভেলে ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, পর্তুগিজ, ও পোলিশ ভাষায় প্রচার শুরু করে৷

স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান
১৯৬০ সালে ফেডারেল আইনের মাধ্যমে ডয়চে ভেলে একটি স্বায়ত্ত শাসিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে৷ ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠানটি তার ভাষার পরিধি বিস্তৃত করে৷ চালু হয় ফার্সি, তুর্কি, রাশিয়ান, চেক, হাঙ্গেরিয়ান, সার্বিয়ান, ক্রোয়েশিয়ান ইত্যাদি ভাষায় প্রোগ্রাম ৷

১৯৬৩ সালে যুক্ত হয় আফ্রিকান ভাষা কিসুয়ালি৷ এছাড়া ইন্দোনেশিয়ান, বুলগেরিয়ান, রুমানিয়ান ইত্যাদি ভাষাও আসে এই সারিতে৷ ১৯৬৪ সালে যুক্ত হয় গ্রিক, ইটালিয়ান, হিন্দি, ও উর্দু, ১৯৭০ পশতু ও দারি৷ ১৯৭৫ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয় বাংলাভাষার যাত্রা৷

কোলন শহরের ছোট কেন্দ্র থেকে রাডারব্যার্গ গ্যুর্টেলের নতুন ভবনে উঠে আসে ডয়চে ভেলে৷ উদ্বোধন হয় ১৯৮০ সালে৷ ১৯৯০ সালে বার্লিনেও স্থাপিত হয় ডয়চে ভেলের শাখা৷ ১৯৯২ সালের পয়লা এপ্রিল সূচিত হয় আর এক নতুন অধ্যায়৷ বার্লিন কেন্দ্র থেকে জার্মান ও ইংরেজি ভাষায় টেলিভিশন প্রোগ্রাম শুরু করে ডয়চে ভেলে৷ এরপর টিভি প্রোগ্রামের তালিকায় যুক্ত হয় স্প্যানিশ, আরবি ও আলবেনিয়ান ভাষাও ৷

দুর্দিনের কথা
তবে ডয়চে ভেলের দুর্দিনের কথাও এ প্রসঙ্গে বলতে হয়৷ ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকেই আর্থিক সংকট দেখা দেয় প্রতিষ্ঠানটিতে৷ ওই দশকের শেষ দিকে এসে অনেক বিভাগ বন্ধ হয়ে যায়৷ বিদায় নিতে হয় ডেনিশ, নরওয়েজিয়ান, ডাচ, ইটালিয়ান, সংস্কৃত, জাপানি, স্প্যানিশ, চেক, হাঙ্গেরিয়ান ইত্যাদি ভাষাকে৷ বাজেটে অর্থ কমিয়ে দেয়া হতে থাকে৷ পাঁচ বছরের মধ্যে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ইউরো কমে যায় বাজেটে৷

অ্যাসবেস্টস সমস্যা দেখা দেয়ায় কোলনের ভবনটি ছাড়তে হয় ডয়চে ভেলেকে৷ ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ২০০৩ সালের জুন মাসে বাড়ি পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠানটি৷ শুধু ভবন নয়, শহরও ছাড়ে ৷ থিতু হয় বনে৷ বন কেন্দ্র থেকে রেডিও প্রোগ্রাম প্রচারিত হতে থাকে, আর টিভি প্রোগ্রাম বার্লিন থেকে৷

অনলাইনের যাত্রা
ইতোমধ্যে প্রযুক্তির আরেকটি দুয়ারও খুলে যায়৷ শুরু হয় অনলাইনের যাত্রা৷ ডয়চে ভেলের ৩০টি ভাষা অনলাইনের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে৷ শুধু তাই নয়, ডয়চে ভেলের জন্য প্রণিত নতুন আইন অনুযায়ী অনলাইনকে রেডিও এবং টেলিভিশনের সমমর্যাদা দেয়া হয়৷

এর মধ্যে অবশ্য বেতার, টিভি ও অনলাইনকে একত্র করার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ ওদিকে, আরো কমিয়ে দেওয়া হয়েছে রেডিওর প্রোগ্রাম৷ টেলিভিশনের গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে৷ ইন্টারনেটের মাধ্যমে টিভির প্রোগ্রাম প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷

বাংলা বিভাগের চলার পথ
অন্যদিকে, দীর্ঘ চলার পথে বাংলা বিভাগেও আসে বেশ কিছু পরিবর্তন৷ বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে এক চুক্তিতে খুলে যায় এফএম ব্যান্ডের পথ৷ ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সালের ৮ই মার্চ পর্যন্ত দিনে দুবার এই ব্যান্ডের মাধ্যমে প্রচার হয়েছে বাংলা অনুষ্ঠান৷

২০১৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে ডয়চে ভেলের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ বিষয়ক টেলিভিশন অনুষ্ঠান বাংলাতেও প্রচার হচ্ছে, যার নাম ‘অন্বেষণ’৷ বাংলাদেশের একুশে টেলিভিশনে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে এই অনুষ্ঠান৷ পাশাপাশি ওয়েবসাইটেও উপভোগ করা যাবে অন্বেষণ৷ সূত্র: ডিডব্লিউ।