অদ্ভুত বেতনের সেই ২ পত্রিকা…

সোমবার, ২২/০৪/২০১৩ @ ১০:২৬ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

6553_1সাংবাদিক চেয়ে বেতন উল্লেখ করে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দিয়ে আলোচনার তৈরি করেছে প্রকাশিতব্য বলে ঘোষিত ‘দৈনিক স্বাধীন বাংলার কণ্ঠ’ এবং ‘দৈনিক বর্তমান বাংলাদেশ’ পত্রিকা দুটি। পত্রিকা দুটোর ডামি সংখ্যাও বেরোচ্ছে এখন।

সোমবার পত্রিকা দুটির কার্যালয়ে দেখা গেলো কর্মপ্রার্থীদের ভিড় বেশ জমেছে। আলাপ করে জানা গেলো বেশিরভাগ প্রার্থী বর্তমানে বেকার। অনেকে রয়েছেন কর্মরত সাংবাদিক যাদের বেতন অনিয়মিত বা পত্রিকা প্রকাশ আপাত বন্ধ।

অফিস সহকারি ও পিয়ন থেকে শুরু করে সহ-সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদক পদপ্রার্থীদের সঙ্গেও কথা হলো এই প্রতিবেদকের। সবাই আশাবাদী, তবে সবারই সন্দেহ; দেশের প্রতিষ্ঠিত ও বড় আকারের অনেক ব্যবসায় গোষ্ঠি যেখানে মানসম্মত বেতনে লাভজনকভাবে পত্রিকা চালাতে একের পর এক ব্যর্থ হচ্ছে- সেখানে সদ্য পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান এতো বেশি বেতনে একইসাথে দুটি দৈনিক কিভাবে চালাবে!

তবে জীবনে এই প্রথম তারা সবক’টি পদের বেতন উল্লেখ করে সাংবাদিক চেয়ে পত্রিকার প্রথম পাতায় বিজ্ঞপ্তি দেখেছেন। ফলে এসে যাচাই করা আর কি! এদিকে প্রার্থীরা অনেকে মনে করেন, যুগ্ম বা নির্বাহী সম্পাদক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্তা পর্যন্ত পদের বেতন কাঠামোও কেমন বেখাপ্পা। মনে হয় কোনো সুনির্দিষ্ট বেতন-কাঠামো অনুসরণ করা হয়নি- আন্দাজে পদ ছোটোবড় ধার্য করে ক্রমশ কম পরিমাণের বেতন ধরা হয়েছে নীচের পদগুলোতে- তাও পার্থক্য বেশি নয় অনেক ক্ষেত্রে, বললেন অনেক প্রার্থী।

তাছাড়া অনেক পদে যে পরিমাণ অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে এসব পদ সম্পর্কে ধারণাই নেই নিয়োগ কর্তাদের। তবুও প্রার্থীদের আশা, চাকরিটা হয়ে যেতে পারে।

নিয়োগকর্তা মুন গ্রুপের দফতরটি রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের দিলকুশা’য়। সানমুনস্টার টাওয়ারে পত্রিকার দফতরে ঢুকতেই দুইজন নারী অভ্যর্থনাকর্মীর সঙ্গে দেখা। তবে অভ্যর্থনা কাউন্টারের ওপাশ থেকে তারা দুজন জানালেন, তারা অভ্যর্থনাকর্মী নন- সানমুন গ্রুপের বাজারজাতকরণ নির্বাহী।

হাসিমুখে তারা জানান, পত্রিকার জন্য এখনো কোন অভ্যর্থনাকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়নি। শিগগিরই নিয়োগ দেয়া হলে তারা আবার আগের কাজে ফেরত যাবেন।

অভ্যর্থনা থেকে একটু সামনে এগোলেই কর্মপ্রার্থীদের জীবন বৃত্তান্ত জমা নেয়ার জন্য টেবিল পাতা। সেখানে এক এক করে বৃত্তান্ত জমা নিয়ে বলে দেয়া হচেছ সাক্ষাতের জন্য আর ক’জনের পর ডাকা হবে। সবাইকে টোকেনও দেয়া হচ্ছে নম্বর লিখে। এখানে দায়িত্বরত কর্মীরা বললেন, তারা এই পত্রিকার জন্য নিয়োজিত নন, নিজস্ব কর্মী নিয়োগের আগে তাদের অন্য একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আনা হয়েছে।

প্রার্থীদের সুবিধে হচ্ছে যেদিন জীবন বৃত্তান্ত জমা দিতে আসা, সেদিনই সাক্ষাতকার। নিয়োগ সাক্ষাতকারে প্রধান সাক্ষাতকারগ্রহীতা হিসেবে থাকছেন পত্রিকা দুটির সম্পাদক ও প্রকাশক মিজানুর রহমান নিজেই। মুন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। তার সঙ্গে দেখা গেল সাক্ষাতকার পর্ষদে আরও চারজন কর্মকর্তা রয়েছেন। পর্ষদ প্রধান বা সদস্যরা কখনো সাংবাদিকতা করেননি, জানা গেল।

নিয়োগ প্রত্যাশীদের লাইনে দাঁড়িয়ে সাক্ষাতে অপেক্ষা করতে দেখা যায় এবং প্রত্যেককে সর্বোচ্চ চার থেকে পাঁচ মিনিট সাক্ষাত করে সাক্ষাত নেয়া হচ্ছিল।

সাক্ষাতকারের প্রশ্নও সহজ। কোথায় কাজ করছেন এখন বা আগে করতেন, কতদিন কাজ করছেন, কোন পদের জন্য এবং কত বেতন চান? প্রশ্নোত্তর শেষে বলা হচ্ছে, পরে ডাকা হবে।

একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এখানে একই পদে সাক্ষাত দিতে এসেছেন। বের হয়ে জানালেন, বিজ্ঞাপনে দেয়া তালিকা অনুসারে বেতন কি আসলেই দেয়া হবে?- এমন প্রশ্ন করলে সম্পাদক বলেন, পরে জানানো হবে।

প্রার্থীরা আরো বলছেন, এখানে অনেক পদে যেমন অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে তা অর্জন করা রীতিমত ‘অসম্ভব’ ব্যাপার। যেমন একজন বললেন, ফিচার লেখক পদে অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে ৬ বছর। কিন্তু একজন ফিচার লেখক মোটামুটি মানের কাজ করলেও ছয় বছরের আগেই যেকোনো পত্রিকায় পদোন্নতি নিতে হবে তাকে। সাধারণত নতুনরা ফিচার লেখক হিসেবে কাজ করেন বেশ অনেকটা সময়, পরে ফিচারে সাব-এডিটর হিসেবে বা অন্য কোনো পদে নিয়মিত হন।

তবে এমন বেতন কাঠামো ও শর্তের কারণ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি পর্ষদের কেউ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে দফতরের কোথাও আলোকচিত্রীদের প্রবেশ বা ছবি তোলাও নিষিদ্ধ দেখা গেল।

দেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এই পত্রিকা দুটির বিজ্ঞাপনে দেখা যায় ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের বেতন ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা, সাথে বলা হচ্ছে ‘গাড়ি ও ড্রাইভার ফ্রি’। অন্যান্য বেতন হচ্ছে যুগ্ম সম্পাদক ৩ লাখ, সহযোগী সম্পাদক ২ লাখ, সহকারি সম্পাদক ১.৫০ লাখ টাকা, ফিচার সম্পাদক ১.৫০ লাখ, ফিচার লেখক ৫০ হাজার, বিশেষ সংবাদদাতা ১.২৫ লাখ, প্রধান প্রতিবেদক ১ লাখ, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৮০ হাজার এবং প্রতিবেদক ৫০ হাজার টাকা; যা সাধারণত দেশের আর কোনো পত্রিকায় সবাইকে দেয়া হয়না। সূত্র: আরটিএনএন