‘গণজাগরণ’ নামে পত্রিকা আনছে শাহবাগ

সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০১৩

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

tarunnoযুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সংবাদ তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছাতে পত্রিকা বের করার উদ্যোগ নিয়েছে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ।
‘গণজাগরণ’ নামে সাপ্তাহিক এ পত্রিকাটি শিগগিরই আলোর মুখ দেখবে বলে জানিয়েছেন মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।

তিনি সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পত্রিকার মেক-আপের (অঙ্গসজ্জা) কাজ চলছে। আশা করছি, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে ‘গণজাগরণ’ নামের পত্রিকাটি আত্মপ্রকাশ করবে।”

ইমরান বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তারা প্রতি সপ্তাহে বুলেটিনটি প্রকাশের চেষ্টা করবেন।

দেশে আন্দোলনের প্রচলিত ধারার মতো গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে সারা দেশের মানুষকে আন্দোলন সম্পর্কে জানাতে কোনো ধরণের প্রচারপত্র এই পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়নি।

এই আন্দোলন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতাকারী পক্ষ নানা মাধ্যমকে ব্যবহার করে শুরু থেকেই যে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, সে সম্পর্কে জনতাকে সচেতন করতেও এই পত্রিকা ভূমিকা রাখবে বলে জানান ইমরান।

তিনি বলেন, “পত্রিকাটিতে দেশের বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীর ভাবনা, আমাদের বক্তব্য, আন্দোলনের ভবিষ্যত এবং আন্দোলনের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের অপপ্রচারের জবাব দেয়া হবে।

“এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে আন্দোলনকে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তাও স্থান পাবে এতে।”
শাহবাগের আদলে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চগুলোর কার্যক্রমের সংবাদও এ পত্রিকার মাধ্যমে তুলে ধরা হবে বলে জানান ইমরান।

রোববার রাতে দেশের বাইরের ২৪টি গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আন্দোলনের বিষয়ে তিনি আলোচনা করেন মঞ্চের সমন্বয়কারী। তখন সাপ্তাহিক পত্রিকাটির বিষয়েও কথা হয়েছে।

ইমরান বলেন, “অনেকেই জিজ্ঞেস করেছেন আমাদের আর্থিক সাহায্য লাগবে কি না? অনেকেই আর্থিক সাহায্য পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় প্রত্যাখ্যান করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থেকে শুরু হয় গণজাগরণ আন্দোলন।

শুরুতে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি পরে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির নিষিদ্ধসহ ছয়দফা দাবিতে রূপ নেয় আন্দোলন।

আন্দোলনের মুখে যুদ্ধাপরাধের যে কোনো রায়ের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনেরও আপিলের সুযোগ এবং যুদ্ধাপরাধী সংগঠনের বিচারের বিধান রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করেছে সরকার।