“মাহমুদুরকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছে সরকার”

শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৩

প্রেসবার্তাডটকম প্রতিবেদন::

press-amardeshআমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে অনমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শুক্রবার আমার দেশ কার্যালয়ে মাহমুদুর রহমানের ওপর নির্যাতন চিত্র তুলে ধরতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ফরহাদ মজহার, বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, নগর সম্পাদক এম আবদুল্লাহ। এর আগে শুক্রবার সকালে কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মা মাহমুদা বেগম, স্ত্রী ফিরোজা মাহমুদ ও মাহমুদুর রহমানের পারিবারিক বন্ধু ও অভিভাবক ফরহাদ মজহার তাকে হাসপাতালে দেখতে যান।

সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার তাকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে বিভিন্নভাবে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তার অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে তাকে রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি বন্দি অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রয়েছেন। নির্যাতন ও অনশনের ফলে তার জীবন বিপন্ন। তিনি বলেন, সাত দিনের রিমান্ডে বর্বর নির্যাতন ও ৫ম দিনের অনশনে মাহমুদুর রহমানের ব্লাডপ্রেসার স্বাভাবিকের চেয়ে মারাত্মকভাবে কমে গেছে। সরকারের নির্যাতনে তিনি ইসকেমিক হার্টডিজিজে আক্রান্ত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি রয়েছে। শারীরিক নির্যাতন ও অনশনের কারণে মাহমুদুর রহমান এ পর্যন্ত ছয়টি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। রোগগুলো হলো—আনস্টেবল অ্যাঞ্জেইনা, ব্রাডিকার্ডিয়া (হার্টবিট কমে গেছে), ইলেকটোলাইট ইমব্যালেন্স (সোডিয়াম বেড়ে গেছে, পটাসিয়াম কমে গেছে), সিভিয়ার লো ব্যাকপেইন, অলিগো ইউরিয়া (প্রস্রাব না হওয়া), ইউরোমিয়া (ব্লাডে ইউরিয়ার পরিমাণ বেড়ে গেছে)। মাহমুদুর রহমানের হার্টবিট ৪৮-এ নেমে গেছে। একটি কিডনি যথাযথভাবে কাজ করছে না। প্রেসার ৪৯ থেকে ৯০-এ নেমে গেছে। অক্সিজেন গ্রহণের ক্ষমতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। অবিলম্বে অনশন ভাঙাতে না পারলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মাহমুদুর রহমানের শারীরিক অবস্থার এমন চরম অবনতিতে তার জীবন নিয়ে আশঙ্কা করেছেন আমার দেশ পরিবার।

নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, তার পরিবারের সদস্যরা দেখেছেন তার দুই হাতের কবজিতে অনেকগুলো কালো ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। একই ধরনের ক্ষতচিহ্ন তার দুই হাঁটুতেও দেখেছেন। তিনি নিজে কিভাবে তার ওপর নির্যাতন হয়েছে তা তার পরিবারের সদস্যদের বন্দি অবস্থায় বলতে চাননি, কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানিয়েছেন এই চিহ্নগুলো মূলত ইলেকট্রিক শকের। একটি পত্রিকার সম্পাদককে নির্যাতনের এই নজির বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সম্পূর্ণ নতুন। এ ধরনের উদাহরণ সৃষ্টি করে এ সরকার মূলত বিরোধী মতাবলম্বী সম্পাদকদের নির্মম নির্যাতনের যে উদাহরণ সৃষ্টি করল তার পরিণতি বাংলাদেশে কি দাঁড়াবে আমরা তা আপনাদের ভেবে দেখতে বলি। এখনই যদি আমরা সরকারের কাছে এর ব্যাখ্যা না চাই এবং জবাবদিহি করতে বাধ্য না করি বাংলাদেশে এটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন, সরকারের নির্বাহী আদেশে এ ভুয়া মামলাগুলো করা হয়েছে। অতএব নির্বাহী আদেশেই সরকার এ মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নিতে পারে। এই তিনটি দাবি মেনে নেয়া সরকারের জন্য কঠিন কিছু নয়। তার মায়ের বিরুদ্ধে মামলার প্রধান কারণ তাকে নৈতিকভাবে দুর্বল করা ও তার ওপর মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখা। গণমাধ্যম দমন ও সাংবাদিকদের নির্যাতন করার বেআইনি পদক্ষেপগুলো প্রত্যাহার করলেই মাহমুদুর রহমানের দেয়া তিন দাবি বাস্তবায়ন হয়ে যায়। মাহমুদুর রহমান তার নিজের মুক্তির জন্য অনশন করছেন না, তিনি আদালতের মুখোমুখি হবেন। কিন্তু, মাহমুদুর রহমানের মনোবল ভেঙে ফেলার জন্য বেআইনিভাবে আমার দেশ বন্ধ করে দেয়া, তার মায়ের বিরুদ্ধে মামলা ও প্রেসের স্বল্প আয়ের ১৯ জন নিরপরাধ মানুষকে ধরে নিয়ে যাওয়া তিনি সরকারের চরম কাপুরুষতার প্রমাণ বলে মনে করেন।

আমরা মাহমুদুর রহমানের পরিবার ও আমার দেশ-এর কর্মীদের পক্ষ থেকে মাহমুদুর রহমানের জীবন বাঁচানোর তাগিদে সরকারকে অবিলম্বে তিনটি দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সরকার জুলুম নির্যাতনের মাধ্যমে যে বিপন্ন অবস্থার সৃষ্টি করেছে তা যদি কোনো দুর্ঘটনায় রূপ নেয়, তাহলে সরকারকেই সব দায়ভার বহন করতে হবে।

নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, মাহমুদুর রহমানের হাত, পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যা দেখেছি, তা ভয়াবহ এবং অবিশ্বাস্য। একজন সম্পাদকের ওপর এমন নির্মম নির্যাতন হতে পারে তা অবিশ্বাস্য। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে জেনেছি, তার অবস্থা ভালো নয়। আমরা মাহমুদুর রহমানের জীবন নিয়ে উত্কণ্ঠায় আছি।

সংবাদ সম্মেলনে ডিইউজে আমার দেশ ইউনিট চিফ বাছির জামাল, চিফ ফটোগ্রাফার ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর আহম্মেদ মীরু প্রমুখ।