হৃদরোগে আক্রান্ত মাহমুদুর সিসিইউ-তে

বৃহস্পতিবার, ১৮/০৪/২০১৩ @ ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

mahmudur- hospitalঅনশনের চতুর্থ দিনে দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকরা তার জীবনের ঝুঁকির কথা জানিয়ে অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করলেও সন্ধ্যার পরে আরও অবনতি ঘটে। পরে তাকে সিসিইউতে রাখা হয়েছে।

সাত দিনের রিমান্ড এবং চার দিনের অনশনে মাহমুদুর রহমানের ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিকের চেয়ে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে কমে গেছে। তিনি ইসকেমিক হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হয়েছেন। মাঝে মাঝে তার পালস পাওয়া যাচ্ছে না। হৃদস্পন্দনের হার অত্যন্ত কম।

এ পরিস্থিতিতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি রয়েছে বলে দাবি করেছেন মাহমুদুর রহমানের আইনজীবীরা।

সূত্র জানিয়েছে, রিমান্ডে শারীরিক নির্যাতন ও অনশনের কারণে মাহমুদুর রহমান এ পর্যন্ত ছয়টি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে তার মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে।

রোগগুলো হলো- আনস্টেবল এঞ্জেইনা, ব্রাডিকার্ডিয়া (হার্ট রেট কমে গেছে), ইলোকটোলাইট ইম্ব্যালেন্স (সোডিয়াম বেড়ে গেছে, পটাশিয়াম কমে গেছে), সিভিয়ার লো ব্যাক পেইন, অলিগো ইউরিয়া (প্রসাব না হওয়া), ইউরোমিয়া (ব্লাডে ইউরিয়ার পরিমাণ বেড়ে গেছে)।

জানা যায়, মাহমুদুর রহমানের হার্টবিট ৪৮ এ নেমে গেছে। একটি কিডনি যথাযথভাবে কাজ করছে না। রক্তচাপ ৪৯ থেকে ৯০। অক্সিজেন গ্রহণের ক্ষমতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। দ্রুত অনশন ভাঙাতে না পারলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে, তিন দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন মাহমুদুর রহমান। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন বলে কারাকর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের জানিয়েছেন।

তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বৃহস্পতিবার কারাকর্তৃপক্ষ তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করে। বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে ভর্তি করা সেখানেও চিকিৎসকরা মুখে খাবার খাওয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তার মা ও আমার দেশ পাবলিকেশন্সের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগম ও সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ছাপাখানা খুলে দেয়া ও সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করে আমার দেশ প্রকাশের সুযোগ করে দেয়া এবং প্রেসের গ্রেপ্তারকৃত ১৯ কর্মচারীকে মুক্তি দেয়ার পরই তিনি অনশন ভাঙবেন। দাবির বাস্তবায়ন না হলে আমৃত্যু তিনি অনশন করবেন।

মাহমুদুর রহমানের শারীরিক অবস্থার এমন চরম অবনতিতে তার প্রাণহানির আশঙ্কা করেছেন আমার দেশ পরিবার।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের সামনে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তার স্ত্রী ফিরোজা মাহমুদ দেখা করতে পারেননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মাহমুদুর রহমানের শারীরিক চরম অবনতি হয়েছে বলেই তাকে দেখা করতে দেয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। মাহমুদুর রহমানের কিছু হলে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায় নিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে, অনশনের ব্যাখ্যায় মাহমুদুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, অনশনের মাধ্যমে শরীরকে কষ্ট দেয়া ইসলামে বৈধ নয়। কিন্তু, সরকারের জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে তিনি না খেয়ে থাকছেন।

তার মতে, পবিত্র কোরআন ও হাদীস অনুযায়ি জালিম শাসকের বিরুদ্ধে মুসলমানদের প্রতিবাদ করতে হবে। শক্তি থাকলে হাত দিয়ে, তা না পারলে মুখ দিয়ে এবং তাও না পারলে অন্তর থেকে ঘৃণা করতে হবে।

মাহমুদুর রহমান বলেন, যেহেতু আমি বন্দি এবং রিমান্ডে নির্যাতনে রয়েছি, সেহেতু আমার প্রতিবাদের সর্বোচ্চ শক্তি হিসেবে অনশন করছি। তার অক্ষমতার পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ এই ত্যাগের চেষ্টাকে আল্লাহতায়ালা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যানের স্কাইপ কেলেঙ্কারি ফাঁস করার অভিযোগে দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গত ১১ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন রাতেই রাজধানীর তেজগাঁওয়ে পত্রিকাটির ছাপাখানা সিলগালা করে দেয় পুলিশ।

স্কাইপ যোগে আদালত বহির্ভূত এক ব্যক্তির সঙ্গে মামলার সম্ভাব্য রায় নিয়ে কথোপকথন ফাঁস হয়ে গেলে ওই বিচারককে তার পূর্ববর্তী পদ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে বিচারক হিসেবে ফেরত নেয়া হয়। সূত্র: আরটিএনএন

সর্বশেষ