সাংবাদিক দম্পতি হত্যা: ভরসা এখন বঁটি-মোজা

বুধবার, ১৭/০৪/২০১৩ @ ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

Sagor-runi-2বাসার দারোয়ান এনামুলকে পাওয়া গেলেই সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে দাবি করা হয়েছিল মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের পক্ষ থেকে। তাই এনামুলকে ধরার জন্য ১০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। এরপর সেই দারোয়ান ধরা পড়েছেন। পুরস্কারের টাকাও পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কিন্তু রহস্য উদ্ঘাটন তো দূরের কথা, মামলার তদন্তের সামান্যতম অগ্রগতি হয়নি।
এখন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোনো তদন্তসূত্র মেলেনি। তাই সর্বশেষ একটি বঁটি, দা ও মোজা ডিএনএ এবং অন্যান্য রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। এই দুটি আলামতই এখন তদন্তকারীদের একমাত্র ভরসা।

জানতে চাইলে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, মামলার আরও কিছু আলামত যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগারে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি বঁটি ও একটি মোজা। বঁটিটি খুন হওয়া দম্পতির শয়নকক্ষ থেকে এবং মোজাটি রান্নাঘরের গলি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এগুলো কারা ব্যবহার করেছে, সে প্রতিবেদন মিললে একটা সূত্র পাওয়া যেতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তার মতে, শুধু ডিএনএ-বৃত্তান্তের সাহায্য নিয়ে এ হত্যারহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে না। এ জন্য কিছু বস্তুগত প্রমাণ ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য লাগবে। এখন যে অবস্থায় আছে, তাতে মামলার গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে কিছুই আঁচ করতে পারছেন না তদন্তকারীরা।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই কারাবাস: এ মামলায় এ পর্যন্ত সন্দেহের ভিত্তিতে এনামুলসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, সাইদ, মিন্টু, কামরুল হাসান গত আগস্টে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন। পরে তাঁদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকি দুজন হলেন, নিহত দম্পতির বন্ধু তানভীর রহমান ও তাঁদের বাসার আরেক দারোয়ান পলাশ রুদ্র পাল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এঁদের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায়নি র‌্যাব।

তানভীরের বাবা মাহাবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছয় মাসের বেশি হলেও তানভীরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনতে পারেনি র‌্যাব। এনামুলের কাছ থেকে কী পেল, তা-ও প্রকাশ করছে না। কিন্তু আমার ছেলেটার জীবন বিপন্ন হচ্ছে।’

দারোয়ান পলাশের স্ত্রী ময়না বেগম জানান, পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

সর্বশেষ