ছাত্রলীগের হামলার শিকার ৫ সাংবাদিক

রবিবার, ১৪/০৪/২০১৩ @ ৬:২৪ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

bcl logoঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্রলীগের ‘চাঁদাবাজির’ সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পাঁচ সাংবাদিক। রোববার ভোর রাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২১ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে চিহ্নিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে ছয়জনকে পুলিশেও দিয়েছে তারা।

এ প্রসঙ্গে প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী সাংবাদিকদের জানান, ছিনতাইয়ের প্রতিবাদ করার কারণেই সাংবাদিকরা হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে আটক ছয়জন দাবি করেন, তারা ছিনতাই করছিলেন না, তবে গাড়ি থামিয়ে নববর্ষ উপলক্ষে কিছু ‘বকশিস’ তুলছিলেন। কিন্তু পরে অন্যরা এসে সাংবাদিকদের মারধর করে।

আহত পাঁচ সাংবাদিক হলেন: প্রথম আলোর সিনিয়র প্রতিবেদক শরিফুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জায়িফ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সুজন কুমার মণ্ডল, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মলয় কুমার দত্ত এবং ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক প্রতীক চক্রবর্তী।

হামলার শিকার হয়েছেন ঘটনার সময় উপস্থিত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দুলাল সমদ্দারও।

জানা যায়, মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত এসএম হল ছাত্রলীগের ১০/১২ জন নেতাকর্মী ফুলার রোড দিয়ে যাওয়া গাড়ি থামিয়ে পয়লা বৈশাখের ‘বকশিসের’র নামে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করছিলেন।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ খবর পেয়ে ভোর সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি মোটরসাইকেল থামানোর চেষ্টা করছিল।

একাধিক সাংবাদিক জানান, পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের এসএম হল ছাত্রলীগের কর্মী বলে পরিচয় দেয়। সেখানে থাকা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফকে প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আহমেদ জায়িফ জিঞ্জাসা করেন “গণযোযোগের শিক্ষার্থী হয়ে তুমি ছিনতাই করছ কেন?”

একপর্যায়ে আসিফকে নিয়ে জায়িফসহ অন্য সাংবাদিকরা জগন্নাথ হলের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। তখন এসএম হলের ছাত্রলীগের কর্মীরা এসে আসিফকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে জানান তারা।

সাংবাদিকরা জানান, সাংবাদিকতা বিভাগের ছোট ভাই হিসেবে আসিফকে বোঝাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের কোনো কথা না শুনেই পাঁচ সাংবাদিককে এলোপাতাড়ি পেটায়। পরে এসএম হল থেকে লাঠিসোটা এনেও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় তারা।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ ঘটনাস্থলে যান। তবে এর আগেই ছাত্রলীগ কর্মীরা এসএম হলের দিকে চলে যায়।

প্রক্টর ও ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা হামলাকারী সাইদ (সঙ্গীত বিভাগ), ঐতিহ্য (ইতিহাস), আসিফ উদ্দিন আহমেদ (গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা), তানভির (ফিন্যান্স), মুরাদ (ফিন্যান্স) ও তাপসসহ ছয়জনকে চিহ্নিত করে পুলিশে দেয়। তারা সবাই দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

বাকি ১৫ জন হলেন: শাহীন (অর্থনীতি), শাহাদত (আইন), শামীম (ইংরেজি), পলাশ (মাস্টার্স), নাহিদ (চতুর্থ বর্ষ), হাসান (ইসলামিক স্টাডিজ), রাসেল (মাস্টার্স), ওবায়দুল (মাস্টার্স, সমাজবিজ্ঞান), ওসমান (মাস্টার্স, সমাজবিজ্ঞান), জামান (মাস্টার্স), লিটন (দর্শন)। এছাড়া রয়েছেন আলমগীর, বান্না, পিকুল এবং রসেল।

হামলাকারী ২১ জনই এসএম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে স্বীকার করেছেন এসএম হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আমরা চিহ্নিত করেছি। তাদেরকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।”