আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১১, ২০১৩

প্রেসবার্তাডটকম প্রতিবেদন::

mahmudur rahman-3দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় রাজধানীর কারওয়ানবাজারে আমার দেশের অফিস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছিলেন। গ্রেফতারের সময় মাহমুদুর রহমান লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি পরে ছিলেন।

গ্রেফতারের পর তাকে মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান।
মাসুদুর রহমান জানান, ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় স্কাইপি সংলাপ সংক্রান্ত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার মামলা নম্বর ২০।

মামলায় তথ্যপ্রযুক্তি আইন-২০০৬ এর ৫৬/৫৭ ধারা তৎসহ দণ্ডবিধি ১২৪/১২৪(ক)/১২০(খ)/৫০৫(ক) ও ৫১১ ধারায় অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এসব ধারায় রয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ, কথা ইত্যাদির মাধ্যমে অনিষ্টকর কাজ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতার অভিযোগ।
তেজগাঁও থানায় দায়ের করা ওই মামলার বাদী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. সাহিদুর রহমান।

প্রকাশক মো. হাশমত আলীও এ মামলার আসামি।

স্কাইপি সংলাপ হ্যাকিং করে তা প্রকাশ ও প্রচার করার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে এ মামালা করা হয়েছে।

মামলায় বলা হয়, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর আমার দেশ পত্রিকার প্রথম পৃষ্টায় ‘গভর্নমেন্ট গেছে পাগল হইয়া, তারা একটা রায় চায়’ এবং একই বছরের ১০ ডিসেম্বর ‘ড. কামাল ক্রিমিনাল বোঝে না, আমীর উল গ্যানজাম করে ওয়ালিউর চোর’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ ধরনের প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস মাত্র, যাতে জনমনে বিভ্রান্তি ও বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগেও তিনি ২০১০ সালে ১ জুন একই পত্রিকার প্রকাশক হাসমত আলীর দায়ের করা মামলায় তিনি গ্রেফতার হন। এরপর একে একে তার নামে সারা দেশের আদালতে ও ঢাকার থানাগুলোতে ৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে তার মামলার সংখ্য ৬২টি।

মামলাগুলোর মধ্যে পাঁচটি মামলায় সে সময় তিনি ১৪ দিন রিমান্ডও খেটেছিলেন। মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেজবাহ জানিয়েছেন, “মাহমুদুর রহমানের নামে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোর মধ্যে ৪টি শাহবাগ থানায় ও একটি রমনা থানায়।”

তিনি আরও বলেন, ৫২টি মামলার মধ্যে সারা দেশে বর্তমানে ২১টি মামলা চলমান আছে। হাসমত আলীর দায়ের করা মামলাটি তিনি প্রত্যাহার করেছেন এবং ৪০টি মামলা হাইকোর্টে স্থগিত আছে।

আমার দেশ-এর ব্রিফিং
মাহমুদুর রহমান গ্রেফতারের সময় তার সঙ্গে থাকা আমার দেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, “তাকে গুম করার উদ্দেশ্যেই ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কেউ যাতে কোনো ফুটেজ না পায় সেজন্য প্রথমেই অফিসের সিসি ক্যামেরাগুলো জব্দ করা হয়। এছাড়া অন্য সহকর্মীদের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ক্যামেরাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “৯টা বাজতে ৫ মিনিট বাকি থাকতে অফিসের ভেতরে ঢোকে এবং ৯টা ৮ মিনিটে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তার দিকে অস্ত্র তাক করা হয়। এ সময় নারী সহকর্মীরা তাকে আটকাতে গেলে তাদের সঙ্গে দুব্যবহার করে ডিবি সদস্যরা।” গ্রেফতারের প্রতিবাদে আমার দেশ কার্যালয়ের ভেতরে স্লোগান দিচ্ছেন মাহমুদুর রহমানের সহকর্মীরা।

ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আমার দেশ সাংবাদিকদের অভিযোগ, মাহমুদুর রহমানের কক্ষ থেকে তার কম্পিউটারের সিপিও, ৭টি সিডি ডিস্ক, প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র ও সিসি টিভির ক্যামেরার বেশকিছু ডকুম্যান্টস নিয়ে গেছে ডিবি পুলিশ।

মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন।

গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমার দেশ পরিবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বলেও তারা জানায়।