‘আমার দেশ’ বন্ধ করা কঠিন!

বৃহস্পতিবার, ১১/০৪/২০১৩ @ ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

amar deshআইনের কারণেই সরকার আপাতত আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করতে পারবে না। আমার দেশ’র বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়-এই নিয়ে সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্যেও বিষয়টি টের পাওয়া যাচ্ছে।

জানা যায়, ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন ১৯৭৩ এর ২০ (১) ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট চারটি ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পত্রিকার ঘোষণাপত্র বাতিল করতে পারেন। এগুলোর মধ্যে ধর্মীয় উন্মাদনা এবং রাষ্ট্র ও সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কথা উল্লেখ নেই।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং রাষ্ট্র ও সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পত্রিকা বন্ধের বিষয়ে জেলা ম্যাজিষ্টেটের এখতিয়ার নেই।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, মুদ্রণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ১৯৭৩ সালে ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধিকরণ) আইনের সাত ধারার ক্ষমতাবলে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ঘোষণাপত্র বাতিল করা হয়েছিল। ওই বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত চেয়্যারম্যান আনওয়ারুন নবী তালুকদার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এবং এ বিষয়ে স্থগিতাদেশ পান। ওই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হলে ২০১০ সালের ১৫ জুন চেম্বার জজ হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। ফলে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে স্বরাষ্ট্র সচিবের পক্ষ থেকে সিভিল পিটিশন লিভ টু আপিল দায়ের হলে চেম্বার জজের আদেশ প্রত্যাহার হয়। হাইকোর্টের আদেশ পুনর্বহাল হওয়ায় বর্তমানে পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মামলার শুনানিকালে আদালত ‘আমার দেশ’ পত্রিকার নথিটি তলব করে নেন। এরপর সেটি আর ফেরত পায়নি জেলা প্রশাসন। এর ফলে জেলা প্রশাসন পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারছে না।

এ প্রসঙ্গে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের চিঠিতে বলা হয়েছে, কয়েকবার পত্র যোগাযোগ করে নথিটি পাওয়া যায়নি।

গত ২ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি হাইকোর্ট স্থগিত মামলাটি শুনানির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।
এদিকে ‘দৈনিক আমার দেশ বন্ধের বিষয়টি নিয়ে তৎপর রয়েছেন বিএনপি-জামায়াত পন্থী সাংবাদিকরা।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা বন্ধের সরকারি তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।

সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “খোদ তথ্যমন্ত্রী একটি অনুষ্ঠানে পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধে দেশে বর্তমানে কোনো আইন নেই স্বীকার করেও নির্বাহী আদেশে বা অন্য কোনো উপায়ে আমার দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন। তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যেই বোঝা যায় সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় আমার দেশ-এর প্রকাশনা বন্ধে নানা অপতৎপরতা শুরু করেছে।”

বিবৃতিতে ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “সাংবাদিকদের আন্দোলনের ফলেই সংবাদপত্রের প্রকাশনা নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত আইন রহিত হয়েছে। এই আইন অমান্য করে আমার দেশ বন্ধের কোনো অপ-উদ্যোগ নেয়া হলে তা দৈনিকটিতে কর্মরত ডিআরইউ’র সদস্যসহ পাঁচ শতাধিক সংবাদকর্মীর ওপর সরাসরি আঘাত বলে বিবেচিত হবে। তারপরও ক্ষমতাসীন সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় দৈনিক আমার দেশ বা অন্য কোনো গণমাধ্যম বন্ধের অপচেষ্টা চালালে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।”

ইলিয়াস খান তথ্যমন্ত্রীসহ সরকারের নীতি নির্ধারকদের দৈনিক আমার দেশসহ গণমাধ্যমের ওপর নেতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।