ঝুঁকি নিয়েই খবর সংগ্রহে নারী সংবাদকর্মীরা

বুধবার, এপ্রিল ১০, ২০১৩

সাংবাদিকতা ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। মেয়েরা এই পেশায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে এগিয়ে চলেছেন। ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ চলাকালে একুশে টিভির প্রতিবেদক নাদিয়া শারমিন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। তবু থেমে নেই মেয়েরা। লিখেছেন তৌহিদা শিরোপা

নারীদের পিছিয়ে গেলে চলবে না
শাহনাজ মুন্নী
বার্তা সম্পাদক, এটিএন বাংলা
shanaj munniসাংবাদিকতা করছি প্রায় ১৫ বছর। কখনো নাদিয়া শারমিনের মতো শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়নি। আসলে এর আগে কখনো সাংবাদিকতা করতে গিয়ে কোনো নারী এমন পরিস্থিতিতে পড়েননি। এটা খুবই আশঙ্কাজনক। এতটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আমরা আগে ছিলাম না। আমার নিজের কাজের ক্ষেত্রে কখনো হয়তো হুমকি দিয়েছে কিংবা অফিসে অভিযোগ করেছে। নিজের আত্মবিশ্বাস আর সবার সহযোগিতায় সেসব পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি। কিন্তু আমাদের সমাজ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে নারীর কাজ আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার কথা। নাদিয়াকে যে কারণে নির্যাতন করা হলো, তাতে মনে হচ্ছে নারীরা আসলেই নিরাপদ না। সমাজের মূল্যবোধ নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে। কেননা নারীর প্রতি সহিংসতা দূর না হলে, তিনি ঝুঁকিহীন অবস্থায় কাজ না করতে পারলে সমাজ কখনো এগোবে না। নাদিয়ার ঘটনার পর মনে হয়েছে, সমাজে সাংবাদিক বা কর্মজীবী নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে নারীদের তাই বলে পিছিয়ে গেলে চলবে না। নতুনভাবে তাঁকে এগিয়ে যেতে হবে।

দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেখতে চাই
শাহনাজ বেগম, বিশেষ প্রতিনিধি, দ্য ডেইলি ইনডিপেনডেন্ট
shanaj begumপ্রায় ২০ বছরের সাংবাদিকতা জীবন আমার। দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় কাজ শুরু করেছিলাম। এর আগে আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গেও যুক্ত ছিলাম। প্রতিবেদক হিসেবে জীবনের প্রথম সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম গোলাম আযমের। সময়টা ১৯৯৩ সালের দিকে। অনেক কৌশল অবলম্বন করে এই সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। নানা ধরনের নিশ্ছিদ্র বেষ্টনী পার হয়ে তাঁর কাছে পৌঁছে ছিলাম আমি। এরপর নানা সময়ে ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছি। সাংবাদিকতায় ঝুঁকি থাকবে, তবে পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে কাজ করতে হবে।
নাদিয়া শারমিনের ঘটনাটি দেখে কিছু বলার ভাষা পাচ্ছি না। এতটাই মর্মাহত আমি। স্বাধীনতার পর এই ৪২ বছরে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে কি না, আমার জানা নেই। তবে হামলাকারীদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেই তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত দেখতে চাই। জানতে চাই কারা সমাজকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চান। কেননা নারীকে অবমাননা করলে সমাজ পিছিয়ে পড়বে।

ভয় পাওয়ার কিছু নেই
ফারজানা রূপা
বিশেষ প্রতিনিধি, একাত্তর টিভি
farjana rupaসাংবাদিকতা করতে গিয়ে নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি তো হতেই হয়েছে। ৬ এপ্রিল শাহবাগের গণজাগরণের খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ হেফাজতে ইসলাম ও গণজাগরণের মানুষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। আমার তখন মনে হয়েছে, নিজেকে বাঁচিয়ে সবচেয়ে ভালো ছবি ও খবর যেন সংগ্রহ করতে পারি। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে মাইক্রোফোনে লাগানো চ্যানেলের লোগোটা তুলে ফেলি, যাতে কারও বিশেষ আক্রোশের শিকার হতে না হয়। এমনও হয়েছে, ঢাকার বাইরে কাজে গিয়েছি, নানা জনের নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছে। অনেকেই বলেন, ঢাকার বাইরে গেলে রাতে কোথায় থাকেন, কত টাকা বেতন পান যার জন্য ঘর-সংসার ফেলে কাজ করেন। সেসব মন্তব্য যথাসম্ভব এড়িয়ে গিয়েছি কিংবা পরিস্থিতি বুঝে মুখের ওপর জবাবও দিয়েছি। সব সময় বুদ্ধিমত্তা ও কৌশল যে কাজে লাগবে তা নয়। তাই বলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নাদিয়া শারমিনের ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে সঙ্গে থাকা পুরুষ সহকর্মীদের সবার আগে এগিয়ে আসা উচিত। তাঁদের সমর্থন দরকার। সাংবাদিকতার মতো পেশায় নারীরা যোগ্যতা দিয়েই পুরুষের সঙ্গে সমানে সমানে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে তাঁদের কাজকে ছোট করে দেখার কিছু নেই।

চ্যালেঞ্জ নিতে জানতে হবে
কিশোয়ার লায়লা
সহকারী প্রধান প্রতিবেদক, বৈশাখী টেলিভিশন
kishoar laila১১ বছরের কর্মজীবনে হরতালসহ নানা সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ সব জায়গায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছি। কখনো পিছপা হইনি। পুলিশের তাড়া, কাঁদানে গ্যাসের শিকার হতে হয়েছে। পাকিস্তানে যখন ওসামা বিন লাদেনের মারা যাওয়ার চার দিন পর খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম, তখনো এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। সেখানকার স্থানীয় কিছু লোক আমাকে বেশ ভয় দেখিয়েছিলেন, হুমকি দিয়েছিলেন। তবু আমি কাজ থেকে সরে আসিনি। সাংবাদিককে যেমন বিচক্ষণ হতে হবে, তেমনি বুদ্ধিমানও হতে হবে। তা না হলে প্রতিবন্ধকতা দূর করা যাবে না। অনেক নারী সাংবাদিকতায় এলেও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়নি। তার প্রমাণ হলো নাদিয়া শারমিনের ঘটনা। অনেককেই বলতে শুনেছি, হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে নাদিয়ার যাওয়ার দরকার কী ছিল? কেন তাঁকে অনুমতি দেওয়া হলো ইত্যাদি নানা কথা। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যে সমাজে নারীরা সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং কাজে নিজেদের প্রমাণ করেছেন, সেই সমাজে সাংবাদিকটি নারী বলে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় খবর সংগ্রহ করতে যাবেন না, এটা কোনো কিছুর সমাধান হতে পারে না। বরং তাঁকে নিরাপত্তা দিতে হবে। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সহকর্মীদের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়লে পিছু না হটে এটাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। মনে করতে হবে, এটাই সাংবাদিকতার একটি অংশ।

নিজের অধিকার আদায় করে নিতে হবে
সবিতা রহমান
ফটো সাংবাদিক, ফোকাস বাংলা
sobita rahmanছবি তোলা একসময় নেশা ছিল। এখন হয়েছে পেশা। দুই বছর ধরে ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ করছি। এর মধ্যে হরতালেও কাজ করা হয়েছে। একজন পুরুষ ফটোসাংবাদিক যেভাবে ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি করে ছবি তোলে, আমিও তা-ই করি। ফলে নারীর কাজকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণ নেই। মাঝেমধ্যে কয়েকজন পুরুষ ফটোসাংবাদিক নারী ফটোসাংবাদিককে নিয়ে তির্যকপূর্ণ মন্তব্য করেন। যথাযথ সম্মান দেন না তাঁরা নারীকে। তখন খুব আহত বোধ করি। এ সময় পরিবারের সদস্যরা খুব সমর্থন দেন। আমি মনে করি, নিজের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। কাজের ক্ষেত্রও নিজেকেই তৈরি করতে হবে। কারও নেতিবাচক মন্তব্য শুনে পিছিয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে
শারমিন ইব্রাহীম
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বাংলাভিশন
sarmin ibraimকাজ করতে গিয়ে কখনো নাদিয়া শারমিনের মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। তবে হরতালে ও জামায়াতে ইসলামীর বৈঠকে কয়েকবার দায়িত্ব পালন করেছি। একবার ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষের মধ্যেও পড়েছিলাম। বুদ্ধিমত্তা ও পরিস্থিতি বুঝে সেখান থেকে উদ্ধার পেয়েছি। যেকোনো পরিস্থিতিতে না পড়লে বোঝা যায় না, কীভাবে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। সাংবাদিকতা ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। সেটা আমরা জেনেই এই পেশায় এসেছি। নারী-পুরুষনির্বিশেষে এখানে কাজ করেন। তবে বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে একটু কৌশলী হলে আমার মনে হয় পরিস্থিতি জটিলতর হয় না।

এ কেমন বর্বর আচরণ?
Nadia Sharmeen-5৬ এপ্রিল বিকেল সাড়ে তিনটা। একুশে টিভির প্রতিবেদক নাদিয়া শারমিন হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের আশপাশে খবর সংগ্রহ করছিলেন। এমন সময় পাশ থেকে কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তারা বলতে থাকে, কেন পুরুষের সমাবেশে নারী এসেছে? এই সময় নাদিয়া শারমিন পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁকে কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ৫০-৭০ জনের একটি দল এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এই সময় পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন নাদিয়া। তাঁকে বাঁচাতে সহকর্মীরাও এগিয়ে আসেন। নাদিয়া বলেন, ‘আমার থেকে ১০ গজ দূরে পুলিশের একটি দল ছিল। আমাকে মারছে দেখেও তারা এগিয়ে আসেনি। আমার সঙ্গে থাকা সহকর্মীরা আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা না করলে কী যে হতো।’
৮ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন তিনি। সঙ্গে থাকা বড় বোন প্রতিবাদী কণ্ঠে বলেন, এ কেমন বর্বরতা। স্বাধীন দেশে সবাই মিলে একটা মেয়েকে রাস্তায় মারল। এখন তো মনে হচ্ছে কেউই নিরাপদ না। আজ নাদিয়া এমন নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে, কাল যে আরেকজন নারী হবেন না—সেই নিরাপত্তা, নিশ্চয়তা কে দেবে?
নাদিয়া শারমিনকে মারার সময় তাঁর ব্যাকপ্যাক ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এমনকি তাঁকে যখন উদ্ধার করে গাড়িতে তোলা হয়, তখন আশপাশের মানুষ বলেছে, মাথায় কাপড় দিয়ে যাও। এরপর নাদিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। বাড়ি গিয়ে নাদিয়া দেখেন মাথার বেশ কিছু জায়গা জখম হয়েছে, রক্তপাতও হচ্ছে। পরে তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নাদিয়া বলেন, ‘সেদিনের ঘটনার পর অনেকে বলেছেন, কেন আমি গিয়েছি। আমি তো একজন অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক। আর পুরুষেরা যদি যেতে পারেন, তাহলে আমি কেন পারব না। সরাসরি সমাবেশেও আমি যাইনি। আশপাশের বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করছিলাম। এর আগেও নানা ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়েছি। তখন পরিস্থিতি সামলে নিজেই বের হয়ে এসেছি। এবার তো আমার কিছু বলা ও করার সুযোগ ছিল না।’
দুই বোনের মধ্যে নাদিয়া ছোট। বড় বোন আইনজীবী। নাদিয়ার মা ছোট মেয়েকে নিয়ে খুব চিন্তিত। এবার বেঁচে গেলেও পরে তাঁর নিরাপত্তা কে দেবে? কিন্তু নাদিয়া দমে যাওয়ার পাত্রী নন। সাহস ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে আবার নতুন উদ্যমে কাজ করতে চান।

::সাংবাদিক নেতাদের মতামত::

নারীর কাজের মূল্যায়ন করতে হবে
ইকবাল সোবহান চৌধুরী
সভাপতি, (একাংশ) বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন
গত কয়েক বছরে সাংবাদিকতায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী এসেছেন। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে। আর প্রিন্ট মাধ্যমে আগে বেশির ভাগই ফিচার বা ডেস্কে কাজ করতেন। সেই জায়গাটারও পরিবর্তন লক্ষণীয়। কখনো তাঁরা ক্যামেরা হাতে ছবি তোলেন, কখনো বা ভিডিও করেন আর প্রতিবেদক হিসেবে কোনো অংশেই তাঁরা পুরুষের থেকে পিছিয়ে নেই। দুই মাধ্যমেই তাঁরা পুরুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে যোগ্যতা প্রমাণ করে এগিয়ে চলেছেন। সমাজের অগ্রসরমান অবস্থায় নারীকে কোনো ফতোয়া দিয়ে দমিয়ে রাখা মানে দেশকে পিছিয়ে দেওয়া। কর্মক্ষেত্রে কিংবা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নারীরা যেন লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার না হন, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। এমনিতেই আমাদের সমাজে নারীরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকেন। প্রতিনিয়ত তাঁরা নানা রকমের হয়রানির শিকার হন। সাংবাদিক নাদিয়া শারমিন সমাজের অনগ্রসর দৃষ্টিভঙ্গির শিকার, যা মেনে নেওয়া যায় না। নারীকে নারী মনে না করে মানুষ ভেবে তাঁর কাজের মূল্যায়ন করতে হবে। তবেই বোঝা যাবে আমরা কতটা সভ্য হয়েছি। রাষ্ট্র নারীর নিরাপত্তা দিতে না পারলে কখনো দেশের উন্নয়ন হবে না। আর যত বাধা আসবে, তত নারীদের এগিয়ে আসতে হবে, তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্র বাধ্য হবে তাঁদের কথা ভাবতে।

এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না
শওকত মাহমুদ
মহাসচিব, (একাংশ) বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন
সাংবাদিকতায় অনেক মেয়ে এসেছেন, তাঁদের সব সময় স্বাগত জানাই আমরা। এটি সমাজের জন্য খুব ইতিবাচক দিক। কিন্তু ৬ এপ্রিল সাংবাদিক নাদিয়া শারমিনের ঘটনাটিতে সত্যিই মর্মাহত আমরা। এর তীব্র নিন্দা জানাই। কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠীর কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতি ক্ষোভ থাকলে তা আইনের মাধ্যমে কিংবা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারে। কিন্তু কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের হামলা মানে গণমাধ্যমের তথ্য অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ। এ ছাড়া নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। আর যেকোনো পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সূত্র: প্রথম আলো।