”আমাকে বাঁচাতে গিয়ে ওরা যথেষ্ট মার খেয়েছে”

মঙ্গলবার, ০৯/০৪/২০১৩ @ ২:৫৩ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

Nadia Sharmeen-5‘‘আমাকে বাঁচাতে গিয়ে ওরা (দিগন্ত টেলিভিশনের সংবাদ কর্মীরা) যথেষ্ট মার খেয়েছে৷ সাংবাদিক যখন চাকরির লিখিত-অলিখিত, বলা-না বলা নিয়মের শত বেড়াজাল সরিয়ে শুধু ‘মানুষ’ হয়ে দাঁড়ান, বিপন্নের কাছে তখন বোধহয় সেই মনুষ্যত্বই সবচেয়ে বড় কথা৷
সেদিন অসহায়ভাবে ছোটাছুটির মাঝেও পাশে পেয়েছিলাম কয়েকজন সহমর্মীকে৷ তাঁদের কয়েকজন সাধারণ মানুষ৷ বাকিরা দিগন্ত টেলিভিশনের সাংবাদিক৷”

গত ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে বর্বরোচিত হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে একুশে টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার নাদিয়া শারমিন সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে এসব কথা বলেন।
যদিত্তবা কিছু কারণে ‘জামায়াতের চ্যানেল’ বলে পরিচিত দিগন্তকে বর্জন করা উচিত মনে করেন মুক্তিযু্দ্ধের পক্ষের অধিকাংশ মানুষ৷

নাদিয়া শারমিন এখন কিছুটা সুস্থ৷ তবে পুরোপুরিভাবে সেরে উঠতে আরো সপ্তাহখানেক লাগবে। সেদিনের হামলার ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই সাহসী সাংবাদিক প্রশ্ন রেখেছেন হেফাজতের ভূমিকা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়েও৷

নাদিয়া বলেন, সমাবেশে ‘সাংবাদিকরা গনজাগরণ মঞ্চের দালাল ‘ এ কথা বলে উসকানি দেয়া হয়েছে প্রকাশ্যেই৷ সেই অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দায়িত্ব আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর, বিশেষ করে পুলিশের৷ সেই পুলিশ সেদিন পাশ থেকে নাদিয়া শারমিনকে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘‘আপা, মাথায় কাপড় দিয়ে পালিয়ে যান৷”

যে সমাবেশে অবর্ণনীয় লাঞ্চনার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, যে সমাবেশ থেকে গনজাগরণ মঞ্চের দিকে ছুটে গিয়েছিল উন্মত্ত কিছু মানুষ, যে সমাবেশে যোগ দেয়া মিছিল থেকে মহাখালীতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমাবেশে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর ঘটনা কারো অজানা নয়, সেই সমাবেশকে ‘শান্তিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে আয়োজক হেফাজতে ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷
এ প্রসঙ্গে নাদিয়া শারমিনের মন্তব্য, ‘‘বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে যাঁরা মানুষ বলে পরিচিত, তাঁরা যে চোখে দেখেন এ বিষয়টিকে আমিও সেই চোখেই দেখছি৷”

ব্যথায় হাঁটতে পারছেন না, ঘাড় নাড়া এখনো অসম্ভব, মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা – এ অবস্থাতেও নাদিয়া শারমিন জানিয়েছেন, সেরে ওঠার পর হেফাজতে ইসলাম আবার কোনো সমাবেশ করলে সাংবাদিকের দায়িত্ব পালন করতে তিনি অবশ্যই যাবেন!

সর্বশেষ