হেফাজতের সংবাদ বর্জনের দাবি নারী সাংবাদিকদের

রবিবার, ০৭/০৪/২০১৩ @ ৫:২৪ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

Protibad_somabash-3মতিঝিলের সমাবেশে সহকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের মতো সংগঠনগুলোর সংবাদ বর্জনের দাবি তুলেছেন নারী সাংবাদিকরা।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের এক সমাবেশে গণমাধ্যমের প্রতি এই দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ সংহতি জানিয়ে নারী সাংবাদিকদের ওপর হেফাজতকর্মীদের হামলার প্রতিবাদে আগামী ৯ এপ্রিলে প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সমাবেশের ডাক দিয়েছেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

শনিবার মতিঝিলে সমাবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনে গিয়ে হেফাজতকর্মীদের হামলার শিকার হন একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদক নাদিয়া শারমীন। এছাড়াও কয়েকজন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করে হেফাজতকর্মীরা।

নারীবিহীন ওই সমাবেশে হেফাজতকর্মীরা শুধু নারী হওয়ার কারণেই ওই হামলা চালিয়েছিল বলে নাদিয়া জানান। নারী হওয়ার কারণে আরো কয়েকজন সাংবাদিকককে কটাক্ষও করা হয় সেখানে।

নাদিয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদে নারী সাংবাদিক কেন্দ্র সমাবেশ ডাকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে।
সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান বলেন, “গতকাল হেফাজতের সম্মেলনে নারী সাংবাদিকদের প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে; তাতে মনে হচ্ছে, আফগানিস্তানে তালেবান নারীদের যেমন পশ্চাৎপদ করে ফেলেছিল, বাংলাদেশেও তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে।”

“যারা ইসলাম বা ধর্মের নামে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি কোনো কিছু করতে চাইবে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা আগেও আন্দোলন করেছে; এখনো তেমন কিছুর চেষ্টা হলে প্রতিবাদ জানানো হবে,” বলেন তিনি।

বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, হেফাজত যে ১৩ দফা দাবি পেশ করেছে তার একটিও বাংলাদেশের পক্ষে নয়।

“বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের ৯০ শতাংশ শ্রমিক নারী। এসব নারী যদি কাজ বন্ধ করে ঘরে চলে যায়, দেশের অর্থনীতির কি হবে?”

“এছাড়া বড় একটি অংশ আসে বিদেশি আয় থেকে। সেসব শ্রমিকেরও প্রায় অর্ধেক নারী। তাদেরও যদি ঘরে ফিরিয়ে আনা হয় তাহলে অর্থনীতির কী হাল হবে?”

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, নারী কেন্দ্রের সহ সভাপতি মনোয়ারা মনু, সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নারী বিষয়ক সম্পাদক আইরিন নিয়াজি মান্না প্রমুখ।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্লাস্টসহ আরো কয়েকটি সংগঠনও নারী সাংবাদিকদের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছেন।

আহত সাংবাদিক নাদিয়া বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রোববার দুপুরে তাকে দেখতে হাসপাতালে যান জাসদ নেতা শিরীন আখতার।

হেফাজতে ইসলামকে সমর্থন দেয়ায় নারী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেন তিনি।

ঢাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ

নাদিয়া শারমিনসহ সাংবাদিকদের ওপর হেফাজতকর্মীদের হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

রোববার অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ পরিবার’ ব্যানারে প্রতিবাদ এই সমাবেশ হয়।

নাদিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।

সমাবেশে অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, “এই হামলা কেবল মাত্র একজন নারী সাংবাদিকের ওপর নয়, দেশের সব নারীদের ওপর হামলা, দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা।”

হামলাকারী এবং তাদের সহযোগী সবার শাস্তি দাবি করেন তিনি।

সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, “এই হামলায় নারী সমাজকে হেয় করা হয়েছে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত আনা হয়েছে।”

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক শেখ আব্দুস সালাম, ড. আবুল মনসুর আহমদ, টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিউল আলম ভূইয়া, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রাজীব মীরসহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

নারী সাংবাদিকদের ওপর হেফাজতকর্মীদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাসদ, সিপিবি ও ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।