আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল: নাদিয়া শারমিন

রবিবার, এপ্রিল ৭, ২০১৩

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

nadia-5“ওরা আমাকে পরিকল্পিতভাবে গনপিটুনী দিয়ে হত্যার চেষ্ট‍া করেছিলো। সহকর্মীর‍া এগিয়ে না আসলে ওরা আমাকে মেরে ফেলতো। পল্টন মোড় থেকে বিজয় নগর পর্যন্ত ওরা আমাকে মারতে মারতে ৬ থেকে ৭ বার ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে এলোপাতাড়ি লাথি মারে। যখন উঠে দৌড়াতে থাকি পেছন থেকে আবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে আমার মাথায় লাথি মারে। বারবার তারা আমার কাপড় টেনে হিঁচড়ে কিল ঘুষি মারতে থাকে।” – খবর বাংলানিউজের।

শনিবার দায়িত্ব পালনকালে হেফাজতে ইসলামের বর্বরতার শিকার একুশে টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার নাদিয়া শারমিন এভাবে বাংলানিউজের কাছে হামলার ঘটনার বর্ননা দেন।

নাদিয়া জানান, হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ ও সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহের জন্য শনিবার বেলা ১২টা থেকে পল্টন মোড় এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেডের পাশে অবস্থান করছিলেন তিনি। বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে লম্বা সাদা আলখেল্লা (লম্বা পাঞ্জাবি) পরা কয়েক জন এসে নাদিয়া কে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে, “আপনি মহিলা মানুষ, আপনার এখানে কি? আপনি এখান থেকে চলে যান।”

উত্তরে নাদিয়া বলেন, “আমি মহিলা না, এক জন সাংবাদিক। সংবাদ সংগ্রহ করতে এখানে এসেছি।” একথা শেষ হত্তয়া মাত্র হেফাজতে ইসলামের ৫০ থেকে ৬০ জন কর্মী আমার দিকে তেড়ে আসে, আমাকে আচমকা চর-খাপ্পড় মারতে থাকে। নাদিয়া সেখান থেকে দ্রুত চলে আসার চেষ্টা করলে হেফাজতে ইসলামের সদস্যরা প্রথমে পিছন থেকে তাকে লক্ষ্য করে পানির বোতল ও ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে।

পরে তারা নাদিয়াকে কিল ঘুষি মারতে থাকে। ঘটনার শুরু থেকে সেখানে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক পুলিশ সবকিছু দেখলেও তাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি।

তিনি আরো জানান, পল্টন মোড় থেকে মারতে থাকলে বাঁচার জন্য নাদিয়া ড্যাবের (ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)এর একটি ভ্রাম্যমান চিকিৎসা কেন্দ্র মাইক্রোবাসে উঠে পরেন। কিন্ত তারপরও হেফাজতের লোকজন তাকে সেখান খেকে জোর করে টেনে হিঁচড়ে বের করে নিয়ে এসে বেধড়ক পেটায়।এরপর নাদিয়া কয়েকজনকে ধাক্কা মেরে ফেলে দৌঁড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়।পিছন থেকে হেফাজত কর্মীরা বার বার তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে মারধর করে। এ সময় তারা নাদিয়াকে বলছিলো আমাদের ১৩দফা পড়োনি? সেখানে নারী নীতিতে মেয়েদের অবাধ চলাফেরা নিষেধ করা হয়েছে, একথা বারবার বলতে থাকে আর মারধর করতে থাকে, বলেন নাদিয়া।

এ সময় নাদিয়া ৬ থেকে ৭ বার মাটিতে লুটিয়ে পরে উঠে দাঁড়ানো পর সহকর্মীসহ দিগন্ত টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন খলিলের সহযোগিতায় তার অন্য সহকর্মীরা তাকে একটি মাইক্রোবাসে তোলে। এরপর হেফাজতের কর্মীরা গাড়ীটি লক্ষ করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এসময় নাদিয়া মাথায়, বাম পা, বাম পাঁজর, বাম বাহুতে আঘাত পান।

আহত অবস্থায় নাদিয়াকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

নাদিয়ার বড় বোন অ্যাডভোকেট সাদিয়া আফরিন অভিযোগ করে বলেন, নাদিয়া একুশে টেলিভিশনে অপরাধ বিষয়ক রিপোর্ট করে। শ‍াহবাগ জাগরণ মঞ্চ হওয়ার পর থেকে নাদিয়া মঞ্চের সংবাদ সংগ্রহ করতো।

নাদিয়ার বোন জানান, হামলার সময় হামলাকারীরা নাদিয়াকে বলতে থাকে “তোরা প্রজন্ম চত্বরের দালাল, আজ তোকে মেরে ফেলা হবে।”

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার সময় সেখানে কয়েকশ’ পুলিশ থাকলেও তারা নাদিয়াকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন নি।উল্টো তার সহকর্মীরা যখন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলো তখন পুলিশ সদস্যরা নাদিরা কে উদ্দেশ্য করে বলছিলো “মাথায় কাপড় দিয়ে যান”।

অ্যাডভোকেট সাদিয়া আফরিন জানান, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা নাদিয়ার মাথায় সিটিস্ক্যান এবং এক্সরে করেছেন। বর্তমানে তিনি বিপদ মুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানান। তবে তাকে আরো ১০ দিন বিশ্রামে থাকতে হবে।

নাদিয়াকে দেখতে হাসপাতালে প্রজন্ম চত্বরের নেতারা
Nadia Sharmeen-3শনিবার রাতে জাগরনের মঞ্চের মুখপাত্র ডা.ইমরান এইচ সরকার হেফাজতে ইসলাম কর্মীদের হামলায় আহত নাদিয়া শারমিনকে দেখতে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি তার চিকিৎসার খবর নেন।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে তিনি বলেন, যারা এক জন মহিলা কে হেফাজত করতে পারে না তারা ইসলামের কি হেফাজত করবে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে বর্জন করেছে, কারন তারা সাধারণ মানুষকে নির্যাতন করছে। তারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেনা।

প্রসঙ্গত নাদিয়া শারমিনকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের ৩১২ কেবিনে তার চিকিৎসা চলছে। ইতোমধ্যে তার মাথায় সিটিস্ক্যান এবং এক্সরে সম্পন্ন হয়েছে। উন্নত চিকি‍ৎসার জন্য তাকে এখানে ভর্তি করা হয়।

শনিবার রাত ৮টা ৩০মিনিটের দিকে তাকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) থেকে চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার মাথার ও শরীরের বিভিন্নস্থান কেটে গেছে বলে তিনি জানান। তাকে কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।