বেবী মওদুদ : সাংবাদিক থেকে সাংসদ

শনিবার, এপ্রিল ৬, ২০১৩

মোমিন মেহেদী::

baby-maududদেশ বরেণ্য সাংবাদিক বেবী মওদুদ, সাংবাদিক থেকে সাংসদ বনে যাওয়া এই নারীর জন্ম ২৩ জুন ১৯৪৮ সালে। বাবা বিচারপতি আবদুল মওদুদ ও মা হেদায়েতুন নেসা। তাদের আদর্শে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। কিশোরদের জন্য প্রচুর লেখালেখি করেছেন। শিশুসাহিত্যিক হিসেবেই তার খ্যাতি সবচেয়ে বেশি।
তিনি যেভাবে ভাবেন, সেভাবে আর ১০ জনই শুধু নয় শত জন নারীও ভাবেন না। তাঁর ভাবনা মানুষের মঙ্গল আর মমত্বময় বাংলাদেশ। যেকারনে মানসিক দৃঢ়তা ও সাহস বৌদ্ধিক চর্চায় সমান অবদান রাখতে রাখতে রঙিন হয়ে উঠলেন রাজনৈতিক আলোয়। এ আলো ভালোবাসে না, এমন মানুষের সংখ্যা হাতে গোণা দু’একটা থাকতে পারে। মেয়েরাও যে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারেন, উদাহরন হিসেবে বলা যায়, তাঁর কথা। ৬০-এর দশকে এ অঞ্চলে সাংবাদিকতায় মেয়েরা ছিল না বললেই চলে। সে সময় পুরুষ সঙ্গী ছাড়া মেয়েরা ঘর থেকে বেরই হতো না। কিন্তু ব্যতিক্রম দু’একজনের মধ্যে বেবী মওদুদ অন্যতম। যিনি সাহসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এ পেশায়। ১৯৬৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এ পেশায় আছেন। জয় করেছেন সব প্রতিকূলতা। নিজেকে নিয়ে গেছেন এক বিরল উচ্চতায়।
তাঁর মতে, ‘আমাদের সময়ে মেয়েদের এ পেশায় নিতে চাইতো না। একটা বিষয় সে সময় মজ্জাগত ছিল যে মেয়েরা এ পেশায় টিকতে পারবে না। কিন্তু কাজ করে মেয়েরা এ ধারণা পাল্টিয়ে দিয়েছে। এখন সব পেশাতেই মেয়েদের নেয়া হয়। আমার মনোভাবও ছিল আমি পারব। কাজ করে আমাকে প্রমাণ করতে হয়েছে মেয়েরা পারে। আমি ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। যখন ষষ্ঠ বা সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি তখন থেকেই পত্রিকায় লিখতাম।
সেই সাহসবতী স্বপ্নজ জীবনের যোদ্ধা বেবী মওদুদ জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আয়ত্ত করে নিয়েছেন মানবিকতার মহৎ গুণগুলো। তাই তার কথা ও কাজে প্রাধান্য পায় বঞ্চিত মানুষের কথা। তার ভাষায় ‘আমার কাছে মানুষই প্রথম এবং মানুষই প্রধান।’ হয়তো এই লক্ষ্য থেকে এগিয়ে চলেছেন, বিধায়-ই তিনি বর্তমানে আমাদের দেশের সংবাদ ও সাংবাদিকতা জগতের এক উজ্জ্বল নত্র।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে অনার্সসহ মাস্টার্স করা বেবী মওদুদ পেশাগত জীবনে কাজ করেছেন সাপ্তাহিক ললনা, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক মুক্তকণ্ঠ ও বিবিসিতে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বাংলা বিভাগটি গড়ে তুলেছেন প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে। ছিলেন সাপ্তাহিক বিচিত্রার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। বর্তমানে তিনি বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম-এর সোস্যাল এফেয়ার সম্পাদক । তাঁর পুরো নাম এ এন মাহফুজা খাতুন । তবে সবাই তাকে বেবী মওদুদ নামেই চেনেন। কেননা, এই নামেই লেখেন তিনি, আঁকেন কলমের নিবে বাংলাদেশের ছবি।
শিা, সততা, লড়াকু মানসিকতা ও সাহসী আচরণের কারণে তাকে কর্মেেত্র কখনো কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়নি। উল্টো সব েেত্র সহকর্মীদের সহযোগিতা ও সমর্থন পেয়েছেন। প্রেমিক স্বামী অ্যাডভোকেট মো. হাসান আলীর অকাল মৃত্যুর পর নিজেই দুই ছেলের দায়িত্ব নিয়েছেন। একটুও দমে না গিয়ে অনিশ্চয়তাকে ভয় না পেয়ে শুরু করেছেন জীবন যুদ্ধ। এ যুদ্ধ শুধু টিকে থাকার যুদ্ধ নয়, সমাজকে বদলে দেয়ারও যুদ্ধ। পাশাপাশি চলতে থাকে সন্তানদের মানুষ করা ও নিজের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার কাজ। তবে বেগম রোকেয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত এ নারী পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় মুখোমুখি হয়েছেন অনেক অপ্রীতিকর উপদেশ ও ধর্মীয় বিধিনিষেধের। যা তার পথচলাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। তার রয়েছে অসংখ্য প্রকাশিত গ্রন্থ।
যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মনে মনে (ছোট গল্প), শেখ মুজিবের ছেলেবেলা, দীপ্তর জন্য ভালোবাসা, পবিত্র রোকেয়া পাঠ, টুনুর হারিয়ে যাওয়া, দুঃখ-কষ্ট ভালোবাসা, পাকিস্তানে বাংলাদেশের নারী পাচার, গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা, শান্তুর আনন্দ, এক যে ছেলে আনু, মুক্তিযোদ্ধা মানিক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তার পরিবার, আমার রোকেয়া, কিশোর সাহিত্য সমগ্র, আবু আর তার ও জল দিয়ে লিখি নাম ইত্যাদি।

সর্বশেষ