একাত্তর টিভি ইউনিটের উপর হেফাজতের হামলা

শুক্রবার, ০৫/০৪/২০১৩ @ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম প্রতিবেদন::

ekattorলংমার্চে যাওয়ার গাড়ি না পেয়ে বিক্ষুদ্ধ হেফাজতের নেতাকর্মীরা শুক্রবার জুমার পর চট্টগ্রাম নগরীর ওয়াসার মোড়ে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের উপর আকস্মিক হামলা করেছে।

এসময় একাত্তর টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মাঈনুদ্দিন দুলাল, ঢাকার সিনিয়র রিপোর্টার মহিম মিজান, ক্যামেরাম্যান রাজীব বড়ুয়া এবং বাবুন পাল আহত হয়েছেন।‌ এদের রক্ষা করতে এগিয়ে এসে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক মহসীন কাজী আক্রান্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষনিক এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘নাস্তিক’ ব্লগারদের গ্রেফতারসহ ১৩ দফা দাবিতে শনিবারের লংমার্চের গাড়ি না পেয়ে চট্টগ্রাম নগরীর ওয়াসা মোড় এলাকায় জুমার নামাজের পর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। সকাল থেকে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাদ্রাসা ও হেফাজতে ইসলাম এবং সমমনা দলগুলোর ব্যানের মিছিল নিয়ে চট্টগ্রামে জাতীয় মসজিদ জমিয়াতুল ফালাহ‘র সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন তারা।
জুমার নামাজের পর একাত্তর টিভির ইউনিট সেখানে উপস্থিত হয়ে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ কর্মসূচি সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতি নিলে ক্যামেরাম্যানসহ দুই রিপোর্টারের ওপর হামলা চালায় হেফাজতের কর্মীরা। তারা তাদের লক্ষ্য করে ইট পাথর নিক্ষেপ করে। এতে চারজনই আহত হন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হেফাজতের এক কর্মীকে আটক করে।
এরপর আরো তিন টিভি চ্যানেলের সংবাদ কর্মীদের ধাওয়া করেছে হেফাজতের কর্মীরা। চ্যানেলগুলো হলো- বাংলাভিশন, সময় সংবাদ ও ইনডিপেন্ডেন্ট টিভি। ধাওয়া খেয়ে তারা তাৎক্ষণিক গাড়ি নিয়ে সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন।
একাত্তর টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মাঈনুদ্দিন দুলাল বলেন, ‘হেফাজতের লংমার্চের সংবাদ আমরা কাভার করছিলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কোন কারণ ছাড়া তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’
মহিম মিজান জানান, হামলাকারীরা তাদের লাথি-কিল-ঘুষি দেয় এবং পানির বোতল দিয়ে পেটায়। এ সময় হামলাকারীরা বলতে থাকে, “শাহবাগে কয়েকশ’ লোক হয়, আর তোরা বলিস লাখ লাখ লোক। আর আমাদের সমাবেশে লাখ লাখ লোক হয়, তোরা বলিস কয়েকশ’!”
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি হারুণ ইজহার চৌধুরী বলেন, ‘এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। কোনো সাংবাদিকদের সঙ্গে আমাদের শত্রুতা নেই। ভুল বোঝার ফলে এমনটি ঘটেছে।’