বিবিসির জন্য কাজ ঝুঁকিপূর্ণ, তবে আনন্দের

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১০, ২০১৩

আতাউস সামাদ
ataus-samad-257x300আমার উপস্থিতিতে যখনই ‘বাংলাদেশে বিবিসি’ প্রসঙ্গটি ওঠে, এমনকী যখন একা থাকি তখনও এ বিষয়টি মনে পড়লে, স্মৃতির পর্দায় সবার আগে ভেসে ওঠে এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে নিহত সাংবাদিক নিজামউদ্দিন-এর মুখ। তিনি বয়সে ও সাংবাদিকতা পেশায় আমার জ্যেষ্ঠ ছিলেন। শান্ত, সৌম্য মুখ, লম্বা-চওড়া শরীর হলেও একটু মোটাসোটা ছিলেন বলে তাকে গোলগাল দেখাত। কথাবার্তায় ছিলেন নম্র।

পাকিস্তানের প্রথম সেনা শাসক আইয়ুব খানের শাসনামলে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হয়েছে বহুবার। কালা কানুন জারি হয়েছে কয়েক দফায়। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের সাংবাদিকরা তীব্র প্রতিবাদ করতেন। নিজামুদ্দিন ভাই এসব প্রতিবাদের সাথে থাকতেন সব সময়ই কিন্তু স্বভাবগত কারণে সামনের সারিতে আসতেন না। তাই সেই সময়ে সাংবাদিকদের সরকার-বিরোধী আন্দোলনের নেতাদের সাথে এক নিঃশ্বাসে তাঁর নাম উচ্চারিত হতো না। কিন্তু এই নিরহঙ্কারী ও ঝুট-ঝামেলা এড়িয়ে চলা মানুষটির ভিতরে যে গনগনে আগুন তা উপলব্ধি করলাম ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলার সময়।

একদিন শুনি বিবিসি’র বাংলা খবরে বলা হল যে, মুক্তিবাহিনীর একটি দল রাজধানী ঢাকার অদূরে মুন্সীগঞ্জ মহকুমা শহরটি দখল করে নিয়ে সেখানে দু’ঘণ্টা কুচকাওয়াজ করে তারপর সরে যায়। এই খবরে যে মুহুর্তে উল্লসিত হতে যাব ঠিক তখনই দম বন্ধ হয়ে এল, কারণ, বিবিসি তখন বলছে, এ খবরটি পাঠিয়েছেন সংবাদদাতা নিজামুদ্দিন। সত্যি কথা বলতে কী, আমি সেদিনই জানলাম যে, পূর্ব পাকিস্তানে বিবিসির সংবাদদাতা হিসাবে এবিএম মুসা’র জায়গায় কাজ করেছেন নিজাম ভাই।

১৯৭১-এর ২৫শে মার্চ দিবাগত রাত্রে পাকিস্তানী সামরিক শাসকরা সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ ও ইতিহাসের বর্বরতম সামরিক নৃশংসতার নজির সৃষ্টি করে নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের ওপর হামলা শুরু করার দিন পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে যে তীব্র অসহযোগ আন্দোলন চলছিল তখন মুসা ভাই, যিনি আমার গুরু ছিলেন, খুব কড়া বেশ কিছু রিপোর্ট করেছিলেন বিবিসির জন্য। সেগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জনাব বি. এ. সিদ্দিকীর নবনিযুক্ত গভর্নর জেনারেল টিক্কা খানকে শপথ পাঠ করাতে অস্বীকার করা।

এ ছাড়া ঐ আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ (তখন পূর্ব পাকিস্তান) থেকে পাট রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের অর্থনীতি যে ঝুঁকিতে পড়েছিল মুসা ভাই সে রিপোর্টও করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তো বটেই সারা পাকিস্তানের সাংবাদিকদের ট্রেড ইউনিয়নের অন্যতম নেতা ছিলেন। ফলে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মুসা ভাইও বিপদে ছিলেন। তিনি সম্ভবত এপ্রিল মাসে পেশাগত কোন সম্মেলনে যাবার কথা বলে ব্যাংকক যান। সেখান থেকে হংকং ও পরে কলকাতা হয়ে ভারত-সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের রণাঙ্গনে গিয়ে অনেক রিপোর্ট করেন। তিনি তখন একটি বার্তা সংস্থার হয়ে কাজ করলেও বিবিসিতে অন্তত একটি রিপোর্টে তাঁর নাম বলতে শুনেছি বলে মনে পড়ে।

তবে নিজাম ভাই বিবিসির জন্য রিপোর্ট করছিলেন ঢাকা থেকে অর্থাৎ পাকিস্তানীদের থাবার নাগালে থেকে। তাই মুন্সীগঞ্জকে মুক্তিবাহিনী সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে নেয়া সম্পর্কে তাঁর রিপোর্টটি শোনার পর থেকে তাঁর জন্য ভয়ে ছিলাম। ১৯৭১-এর ১০ই ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনারা ও তাদের দালাল বাহিনীগুলি ঢাকায় বুদ্ধিজীবী হত্যা অভিযান শুরু করে। আমার সাংবাদিক বন্ধু নাজমুল হককে তারা রাতের আঁধারে অপহরণ করে পল্টন লাইনে তাঁর ভাড়া বাড়ি থেকে। আমার স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ আমি ঐ বাড়ির পাশে আমার ভগ্নিপতি জনাব আবুল ওফা মুহাম্মদ শামসুদ্দোহার বাড়িতে গোপনে অবস্থান করছিলাম। আমরা রাতে নাজমুলের আর্ত চীৎকার শুনেছিলাম। পরদিন ভোরে আমি তাঁর বাড়িতে গিয়ে জানতে পারি যে তাঁকেই নিয়ে গেছে পিশাচরা।

১৯৯০ সালে বাংলাদেশের সেনা শাসক জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান ও পতনের সময় আমি আত্মগোপনে থেকে বিবিসির জন্য কাজ করেছিলাম। তখন বিবিসিকে আমার গোপন আস্তানার খবর পৌঁছে দিয়েছিলেন ডক্টর আনোয়ারুল হক ও আনিসুল হক। সে পরের কথা। কিন্তু একাত্তরের ডিসেম্বরে পাকিস্তানীদের আত্মসমর্পণের পর শেখর নগর থেকে ঢাকা ফিরে গভীর দুঃখের সাথে জানলাম যে তাদের শাসনের শেষ মুহুর্তের ঠিক আগে (১৪ ডিসেম্বর) তারা নিজামুদ্দিন ভাইকেও তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে। নিজামুদ্দিন ভাই ও নাজমুল হককে তারা খুন করে। ঐ সময় তাঁরা দুজন তৎকালীন পাকিস্তান প্রেস ইন্টারন্যাশনাল বার্তা সংস্থার ঢাকা ব্যুরোতে সহকর্মী ছিলেন।

নাজমুল হকও মার্কিনি সিবিএসসহ কয়েকটি বিদেশি বার্তা সংস্থায় খবর পাঠাতো। সেই পাকিস্তানি শাসনামল হতেই বাংলাদেশে থেকে বিদেশি সংবাদ সংস্থার জন্য কাজ করা, মনে হয়, সব সময়ই বিপদসঙ্কুল ব্যাপার। আমি বিবিসি’র জন্য নিয়মিত কাজ শুরু করি ১৯৮২ সালে, তাঁর আগে তৎকালীন বিবিসি সংবাদদাতা আতিকুল আলম-এর সাময়িক অনুপস্থিতির দিনগুলিতে বদলি সাংবাদিক হিসাবে ১৯৭৭ সাল থেকে। আমরা পেশাগত কাজে কখনো বিপদমুক্ত সময় দেখেছি বলে মনে পড়ে না।

চাপ আর বাধার মধ্যে কাজ করার দুর্ভাগ্য আমার বরাবরের। আমি যখন প্রথম কোন দৈনিক সংবাদপত্রে (সংবাদ) কাজ শুরু করি (১৯৫৯) তখন জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসন চলছিল। ১০ বছর শাসন চালিয়ে আইয়ুব খান যখন বিদায় নিলেন তখন তাঁর জায়গা দখল করলেন আরেক সেনাশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান। এ লোক তো যুদ্ধ ও গণহত্যা চালিয়ে দিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বিশেষ সংবাদদাতার চাকরি নিয়ে গেলাম ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লী। সেখানে থাকতে থাকতেই মিসেস ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর গদি রক্ষার জন্য ১৯৭৫-এ জারি করলেন জরুরি অবস্থা। সেই সাথে প্রয়োগ করলেন কঠোর সেন্সরশিপ।

১৯৭৬-এর আগস্টে যখন দেশে ফিরলাম তখন এখানে চলছে আবারও সামরিক আইনের শাসন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২’র মার্চ পর্যন্ত স্বাভাবিক আইনে দেশ চলছিল, একটা নির্বাচিত সরকারও ছিল দেশে কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করলেন ঐ মাসে এবং সামরিক শাসন জারি করলেন। তিনি দেশের উপর বসে থাকলেন ১৯৯০-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর আমি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস নিউজ-এর জন্য সংবাদদাতা হিসাবে ঢাকায় কাজ শুরু করি ১৯৮২ সালের অক্টোবর থেকে অর্থাৎ মার্শাল ল’র মধ্যে। অর্থাৎ যুদ্ধ, সেন্সরশিপ, সামরিক শাসন ও অগণতান্ত্রিক জরুরি আইনের শাসনের মধ্যে দিয়ে কেটেছে আমার রিপোর্টার জীবনের প্রায় সবটা সময়।

আমি বিবিসি’র জন্য যখন নিয়মিত খবর পাঠাতে শুরু করি তখন সুযোগ খুঁজছিলাম কর্তৃপক্ষকে একথা জানাতে যে, আমি নেহায়েতই ছাপোষা মানুষ এবং সাদাসিধে রিপোর্টার। আমার পূর্বসূরী আতিকুল আলম-এর মতো ধারালো ও তৎপর নই মোটেও। কিন্তু এমনই কপাল যে, সেসব কথা তাঁদেরকে বলতে পারার আগেই সামরিক আইনের বিধিনিষেধ আর আমি মুখোমুখি। বিবিসি’র জন্য আমি কাজ শুরু করার দিন কয়েকের মধ্যেই ঘটল একটা বড় ঘটনা। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন জেনারেল এরশাদের হাইকোর্ট বিকেন্দ্রীকরণ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে আদালত বর্জন করতে থাকল। এটা সামরিক শাসনের চোখে ছিল ধর্মঘট, যা তারা করেছিল নিষিদ্ধ।

এক গভীর রাতে সামরিক সরকার সুপ্রীম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও আরও দশ-বারোজন আইনজীবী গ্রেপ্তার করলো। খবরটা আমার কাছে সাথে সাথেই পৌঁছে যায় কারণ তখন বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন আমার ভগ্নিপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক। পুলিশ তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাবার আগ মূহুর্তে তাঁর সাথে টেলিফোনে আমার কথাও হয়। তবে তিনি তখনও জানতেন না যে আর কতজনকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং তাঁদেরকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি পড়লাম দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ও কিছুটা দোদুল্যমানতায়। তাঁর কয়েকটা কারণ ছিল।

প্রথমত, সিরাজুল হক ও অন্যদেরকে গ্রেপ্তার করা হল না জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হল তা ঐ মূহুর্তে পরিস্কার ছিল না। দ্বিতীয়ত, ঠিক কাকে কাকে আটক করা হয়েছে সে তথ্যও পুরোটা জানতাম না। তৃতীয়ত, এসব গ্রেপ্তারের খবর সেন্সরশিপের মধ্যে পড়ে বলে আশঙ্কা। চতুর্থত, অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক আমার আপন ভগ্নিপতি। তৎক্ষণাৎ তাঁর গ্রেপ্তারের খবর দিলাম আর সরকার বললো যে, তাঁকে কেবল জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে কিন্তু বিবিসির রিপোর্টার তার ভগ্নিপতির খবর অতিরঞ্জিত করেছে। শেষ পর্যন্ত জানতে পারলাম যে আটক আইনজীবীদেরকে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ অফিসে নেয়া হয়েছে।

সকালের আলো ফোটার সাথে সাথে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ অফিসের এক ফোনে ফোন করলাম আন্দাজে ঢিল ছোঁড়ার মত। যিনি ফোন ধরলেন তিনি স্বীকার করলেন যে আটক আইনজীবীরা তাদের হেফাজতে আছেন। ঐটুকু সরকারি ভাষ্য আপাতত যথেষ্ট মনে করে তখনই সুপ্রীম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা গ্রেপ্তার হবার খবরটা রয়টার্সের টেলিপ্রিন্টার সিস্টেমের মারফত বিবিসিকে পাঠালাম। সাথে সাথেই ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে সেই খবর প্রচার শুরু হল। সামরিক শাসনের বিধিনিষেধ না মানার জন্য শাস্তি পাবার আতঙ্ক নিয়ে দীর্ঘ পথ চলা শুরু হল। ১৯৮৭’র নভেম্বরে একবার গ্রেপ্তারও হলাম এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের খবর পাঠাবার অপরাধে।

তবে সব সময়ই যে সরকারই চোখ রাঙ্গিয়েছে তা নয়। একবার এরশাদ-বিরোধী এক হরতাল আরম্ভ হয় সকাল পাঁচটায়। কিন্তু চারদিকের খবর জেনে ও দেখেশুনে যখন খবর পাঠাই তখন বিবিসি বাংলা বিভাগের সকালের খবর প্রচার হয়ে গেছে। দুপুরে এক ক্ষুব্ধ শ্রোতা ফোন করে খুব গালাগাল করলেন হরতাল হচ্ছে এ খবর প্রচার করতে আমার ব্যর্থতার জন্য। অশ্লীল গালির মাঝেও যখন আমি তাঁকে বোঝাবার চেষ্টা করলাম যে বিবিসি সারা দিন বাংলায় খবর প্রচার করে না বটে, কিন্তু হরতাল শুরু হবার খবর ইংরেজি খবরে এসেছে, তাছাড়া হরতাল-পরিস্থিতি জানার ও বোঝার জন্য খানিকটা সময় আমাকে নিতেই হবে তখন তিনি আমাকে ‘সরকারের দালাল’ আখ্যা দিয়ে হত্যা করার হুমকি দিয়ে বসলেন। বললেন, “তোকে গুলি করে মারার রায় দিয়েছে গণ-আদালত”।

বিবিসির জন্য কাজ করা সব সময়ই কঠোর পরিশ্রম ও ঝুঁকির বিষয়। বহু মানুষ বিবিসি রেডিও শোনেন বা টিভি দেখেন। তাঁদের অনেকেই আবার নিজ পছন্দ মতো কথা না শুনতে পেলে রাগও করেন। আবার যাঁরা ঘটনা ঘটান তাঁরা অনেক সময়ই বিবিসিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। রাজনীতিবিদদের অনেকে অতিরঞ্জিত করে কথা বলেন। সবকিছু যাচাই বাছাই করে, সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বিবিসি’র কাছে খবর পৌঁছানো খুব কঠিন কাজ। এদিক থেকে আমার স্ত্রী কামরুন নাহার ও পরিবারের অন্য সদস্যরা আমার কারণে যে মানসিক চাপ ও নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন বিনা প্রতিবাদে, সেজন্য তাঁদের কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

তবে সবকিছুর শেষে আমি বলবই যে, বিবিসির টিমটা একটা দুর্দান্ত দল। এই দলের সদস্যদের সাথে কাজ করার তৃপ্তি ও আনন্দ গভীর এবং অবিস্মরণীয়। পিটার ব্রুকস, মার্ক টালি, অ্যাল্যান ম্যাকডোনালড, জন টুসা, এলিজাবেথ স্মিথ, উইলিয়াম ক্রলি, ব্যারি ল্যাংরিজ, মিসেস সাদেক, জন রেনার, ডেভিড লেইজ, সিরাজুর রহমান, দীপঙ্কর ঘোষ, নিমাই ভট্টাচার্য, নুরুল ইসলাম, মানসী বড়ুয়া, সৈয়দ মাহমুদ আলি, গোলাম কাদের, গোলাম মুর্শিদ, ঊর্মি রহমান, সাগর চৌধুরী, সুভদ্রা উর্মিলা মজুমদার, উর্বি বসু এঁদের নাম আজো আনন্দের সাথে স্মরণ করি।

আপন ছোট ভাই বিধায় আতিকুস সামাদের নাম যদি না বলি তাহলে তার প্রতি অবিচার করা হবে। ঢাকায় আমাকে যারা সহযোগিতা করেছেন তাঁদের মধ্যে নাফা (শিহাব), এ এম হাসান, কুদরত-ই-মওলা, হাসিবুর রহমান বিন্দু এবং কাদির কল্লোল অন্যতম। এঁরা সবাই অনেক ঝুঁকি নিয়ে বিবিসি আর আমাকে সহায়তা দিয়েছেন।

[লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট। সূত্র : বিবিসি বাংলা। বিবিসি রিপোর্টার, ১৯৮২- ১৯৮৫।]

সর্বশেষ