কালের কণ্ঠের খুলনা ব্যুরো প্রধানকে হত্যাচেষ্টা!

বৃহস্পতিবার, ০৪/০৪/২০১৩ @ ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

Khulna-nandyটানা প্রায় পাঁচ দিন অচেতন থাকার পর বৃহস্পতিবার ভোরে জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের খুলনা ব্যুরো প্রধান ও বিবিসি বাংলা বিভাগের কন্ট্রিবিউটর গৌরাঙ্গ নন্দী।

রোববার গভীর রাতে পত্রিকাটির খুলনা অফিস থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নগরীর সোনাডাঙ্গার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাবে জ্ঞান ফেরার আগ পর্যন্ত এই ঘটনাটি তার পরিবারের সদস্য, সহকর্মী সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে ধূম্রজানের সৃষ্টি হলেও জ্ঞান ফেরার পর নন্দীর নিজের মুখে দেওয়া বর্ণনায় বেরিয়ে আসে তাকে হত্যাচেষ্টার রোমহর্ষক কাহিনী।

সাংবাদিক নন্দীর পরিবারের সদস্যরা বাংলানিউজকে জানান, প্রতিদিনের মতো রোববার রাত ১০ টার মধ্যে বাসায় না ফেরায় মোবাইল ফোনে বার বার তাকে কল দেওয়া হয়। কিন্তু ফোন বেজে গেলেও রিসিভ করা হয়নি। এ সময়ে অফিসের ল্যান্ড ফোনেও একাধিক বার কল করা হয়। একইভাবে অফিসের ফোন বেজে যাওয়া সত্ত্বেও কেউ রিসিভ করেনি। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠিত পরিবারের পক্ষ থেকে তার পরিচিতদের অনেকের কাছেও খোঁজ খবর নেওয়া হয়। খোঁজাখুঁজির পরও যখন পাওয়া যায়নি তখন এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে অফিসের তালা খুলে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।

এই ঘটনা সম্পর্কে নন্দীর সহকর্মী কালের কণ্ঠের খুলনা অফিসের স্টাফ রিপোর্টার কৌশিক দে বাংলানিউজকে বলেন, “তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ওই দিন রাতে বাসায় না ফেরার কথা জানতে পারি। এক পর্যায়ে কয়েকজন সাংবাদিক ও নন্দীর পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে অফিসে খোঁজ করতে আসি। এসময়ে দরজার তালা খুলে ভিতরে ঢুকতেই মেঝেতে নন্দীর নিথর শরীর পড়ে থাকতে দেখি। তার দুই হাতের কবজীতে কাটা চিহ্ন ছিল।”

কৌশিকের আশংকা, সুযোগ বুঝে কোনো সন্ত্রাসী চক্র তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। বিষয়টি মৌখিকভাবে কালের কণ্ঠের প্রধান কার্যালয়সহ পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে তাকে সুস্থ করে তোলার জন্যে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে গৌরাঙ্গ নন্দীর চিকিৎসক বঙ্গকমল বসু বাংলানিউজকে জানান, রোববার গভীর রাতে তাকে আন-নোন সিরেটিভ পয়জনিং-এর কারণে অচেতন অবস্থায় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পাঁচ দিন চিকিৎসার পর তার পুরোপুরি জ্ঞান ফিরে আসে। তবে চিকিৎসার জন্যে তাকে আনতে যদি আরো দেরি হতো, তাহলে হয়তো বাঁচানো সম্ভব হতো না।

এদিকে জ্ঞান ফিরে আসার পর গৌরাঙ্গ নন্দী সেদিনের সেই ভয়ংকর কাহিনীর বর্ণনা দিলেন পরিবারের সদস্যসহ কয়েকজন নিকটজনের কাছে। জানালেন, নিউজ সংক্রান্ত আলাপ আলোচনার কথা বলে দুই জন লোক রোববার রাত ৯ টার দিকে তার অফিসে আসে। এদের উভয়ের বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর হবে। তারা নিজেদের খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। এসময়ে অফিসে সহকর্মীরা কেউ না থাকায় ভিতর থেকে ছিটকিনি দিয়েই তিন জন বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে থাকেন। আলোচনায় উঠে আসে কয়রার চিংড়ি ঘের, সম্প্রতি কয়রার আমাদিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর নির্যাতন, আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের ওপর হামলাসহ চলমান রাজনীতির বিভিন্ন দিক।

তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক নন্দী বলেন, “আমি সময় নিয়ে অবশ্যই কয়রা যাবো, তবে এখনই বলতে পারছি না কবে যাবো।”

নন্দীর দেয়া বর্ণনা মতে, এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই ওই দুই ব্যক্তি তাকে জাপটে ধরে। কিন্তু দুই জনের বলের সাথে পেরে না ওঠায় ধস্তাধস্তিতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি দুর্বল হয়ে পড়েন। এ সময়ে সন্ত্রাসীরা নন্দীর মুখে জোর করে বেশ কয়েকটি সাদা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে পানি ঢেলে দিয়ে গিলে খেতে বাধ্য করে। ব্লেড দিয়ে দুই হাতের কব্জিতে পোচ দিয়ে রগ কাটার চেষ্টা করে। ট্যাবলেট পুরে দেয়ার পর মুখ তোয়ালে দিয়ে বেঁধে দেওয়ায় তিনি চেঁচাতে পারেননি। এমন অবস্থায় দ্রুত তার শরীর অচেতন হয়ে আসতে শুরু করে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে যান। তারপর তার আর কিছুই মনে নেই।

এদিকে খবর শুনে খুলনা বিভাগীয় প্রেসক্লাব ফেডারেশনের সভাপতি আলহাজ লিয়াকত আলী, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বেগম ফেরদৌসী আলী, বর্তমান সভাপতি মকবুল হোসেন মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেনসহ সাংবাদিক নেতারা ও সহকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে আসেন।

তারা মনে করেন, পুলিশের উচিত হবে ঘটনার তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া।
বিভাগীয় প্রেসক্লাব ফেডারেশন নেতা আলহাজ লিয়াকত আলী জানান, বিভিন্ন সময়ে নন্দীর লেখা চিংড়ি চাষ, পরিবেশ বিপর্যয়, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের কাহিনী ও প্রতিক্রিয়াশীলদের তাণ্ডব সম্পর্কিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলেই হত্যা চেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে।
এ ব্যাপারে খুব শিগগিরই আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সূত্র: বাংলানিউজ