ফের সাংবাদিক আক্রান্ত হলে কঠোর কর্মসূচী

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৪, ২০১৩

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

somabeshআগামীতে হরতাল বা বিরোধী দলের যেকোনো কর্মসূচিতে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলা বা তাদের গাড়ি আক্রান্ত হলে এর দায়দায়িত্ব বিরোধীদলকেই নিতে হবে। ফের যদি কোনো আঘাত আসে সাংবাদিক সমাজ চুপ করে বসে থাকবে না। কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের হরতালে গণমাধ্যমে ওপর হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিক সমাবেশে সভাপতির ভাষণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
তিনি বলেন,“ সাংবাদিকদের ওপর হামলা হলে আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। সাগর-রুনি,বালু,শামছুর রাহমানের ওপর হামলায় আমরা চুপ থাকিনি, এবারও থাকবো না।”

গণমাধ্যমের ওপর হামলায় যারা সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আসে না, যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার চায় না তারা সাংবাদিক সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবেন বলেও মন্তব্য করেন এই সাংবাদিক নেতা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “একটি দলের সমাবেশস্থলে অন্য কেউ এসে মিডিয়ার গাড়িতে আগুন লাগাতে পারে না। এরা যেমন শহীদ মিনার ভাঙছে, জাতীয় পতাকা পোড়াচ্ছে, বিদ্যুতকেন্দ্রে আগুন লাগাচ্ছে, রেললাইন উপড়ে ফেলছে, পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলার মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা করছে। তেমনি তারা এখন মিডিয়ার ওপরও হামলা চালাচ্ছে। এরকম জঙ্গি কার্যক্রম চালানো রাজনৈতিক দলকে আর যাই হোক দেশপ্রেমিক বলা যায় না।”
বিএফইউজে’র মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, “দেশে যখন ফ্যাসিবাদ চলে তখন সাংবাদিকদের ওপর হামলা চলে। যখন কারো সত্য প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে তখন তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়, মিডিয়ার ওপর আক্রমণ করে।”

বিরোধীদলের কর্মকাণ্ডকে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি ৭১ এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ন্যায় রাজপথে আবারো সাংবাদিকদের নেমে আসার আহবান জানান।
তিনি আরো বলেন,“ গণমাধ্যমে হলুদ সাংবাদিকতা করে বলে একটা কথা বয়েছে। ৩/৪ টি পত্রিকা জামায়াত-শিবিরের টাকা খেয়ে তাদের দালালি করছে। সাংবাদিকতাকে কলঙ্কিত করছে । এরা সাংবাদিক নয় কুলাঙ্গার।”
ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ বলেন, “আমি হুঁশিয়ার উচ্চারণ করে বলে দিতে চাই, হরতালের নামে যদি কোনো গণমাধ্যমের ওপর হামলা চলে, আপনাদের পরিণতি ভালো হবে না। হরতালের নামে সন্ত্রাসী পিকেটার বাহিনী গণমাধ্যমের কর্মীদের যে নির্যাতন করেছে , তার বিচার করতে হবে। তা না হলে প্রেসক্লাবে লাগাতার অবস্থান ও কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে।”

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সভাপতি ওমরা ফারুক বলেন,“ আমরা আমাদের রুটি-রুজি ও অধিকারের জন্য এক সঙ্গে আন্দোলন করছিলাম কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় আমাদের বন্ধুরা আজ নেই। জামায়াত-শিবিরের ডাকে তারা চলে গেছে।”

তিনি বলেন, “দেশ আজ আফগানিস্তান হয়ে গেছে, হরতালের নামে গাড়ি পোড়ানো হচ্ছে, রেললাইন উপড়ে ফেলা হচ্ছে, হরতাল আর এখন প্রতিবাদের ভাষা নয়। তাই আইন করে হরতাল নিষিদ্ধ করতে হবে।”

এছাড়া সমাবেশ থেকে ডিইউজের সাবেক সভাপতি কাজী রফিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ডাকা শনিবারের হরতালে সাংবাদিকদের সমর্থন থাকবে বলে জানান।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন মো. শাহজাহান মিয়া, শাহ আলমগীর, আব্দুল মজিদ, গাজী জহিরুল ইসলাম, মাহমুদুর রহমান খোকন