বিটিভি ফটোসাংবাদিক খুনের নেপথ্যে বিরল ভিডিও ফুটেজ!

বুধবার, এপ্রিল ৩, ২০১৩

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

cameramen btvস্পর্শকাতর কিছু ভিডিও ফুটেজ হাতিয়ে নিতেই খুন করা হয় বিটিভির ক্যামেরাম্যান শহিদুল ইসলামকে। বিটিভির এক কর্মচারী এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে ।

রাজধানীর উত্তরায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মঙ্গলবার সকালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার পর থেকেই শহীদুরের নিজের প্রতিষ্ঠানটির সব কর্মচারি পলাতক রয়েছে। নিহতের স্ত্রী ফরিদা আক্তার অভিযোগ করেছেন, স্পর্শকাতর কিছু ভিডিও ফুটেজ হাতিয়ে নিতেই বিটিভির এক কর্মচারী তার স্বামীর অফিসের কিছু কর্মচারীর সহযোগিতায় এই হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির কেয়ারটেকারকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহত ব্যক্তির মাথাসহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ধারনা করা হচ্ছে, মাথায় উপর্যুপরি আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। হত্যার আগে তাকে হাত-পা বেঁধে ফেলে ঘাতকরা। তবে পুলিশ এখনো হত্যাকা-ের কারণ জানতে পারেনি। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি ছুরিসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সিআইডির ক্রাইমসিন ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছে।

উত্তরা পশ্চিম থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) হারুন জানান, ঘটনার পর নিহত ব্যক্তির উত্তরা অফিসের কোনো কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি। হত্যাকা-ের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

সোমবার কোনো এক সময়ে তাকে হত্যা করে বাইরে থেকে অফিসে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় খুনিরা। এটি পরিকল্পিত ও পরিচিত লোকজনের কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ওই অফিস থেকে ক্যামেরাসহ বেশকিছু মালামাল চুরি হয়েছে।

এসআই আরো জানান, সোমবার রাতে বাসায় না ফেরায় নিহতের মেয়ে সানজিদা ইসলাম সুপ্তি থানায় গিয়ে পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ গিয়ে অফিসের তালা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের মেয়ে সানজিদা ইসলাম সুপ্তি জানান, তার বাবা গত তিন বছর ধরে ‘পৌর দর্পণ’ নামে একটি অনুষ্ঠান নির্মাণ করেন। এই অনুষ্ঠান নির্মাণে তার সঙ্গে বিটিভিতে কর্মরত মোটা শহীদ নামে এক ব্যক্তি সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। গত মাসে মোটা শহীদ তার বাবার অফিস থেকে কিছু স্পর্শকাতর ভিডিও ফুটেজ চুরি করে নিয়ে যান।

ভিডিও ফুটেজ ফিরিয়ে দিতে অফিস কর্মচারি রোহানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার বাবাকে একাধিক বার উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে তিনি দেখেছেন বলে জানান। ধারণা করা হচ্ছে এই চুরির ঘটনায় তার বাবার অফিসের কর্মচারী রোহান ও লিটন সহযোগিতা করেছেন। এ জন্য কিছু দিন আগে রোহানকে চাকরিচ্যুতও করা হয়। চাকরিচ্যুত হওয়ায় রোহান ক্ষোভে তার বাবাকে খুন করে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সুপ্তি জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় রোহানকে একটি ল্যাপটপ হাতে বেরিয়ে যেতে দেখেছেন ওই ভবনের কয়েকজন লোক। ল্যাপটপ বাইরে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তারা জিজ্ঞেস করলে মেরামতের জন্য বস তাকে নিয়ে যেতে বলেছে বলে জানায়।

নিহতের ছেলে সিফাতুল ইসলাম সুপ্ত জানান, সোমবার দুপুর ১টার দিকে অফিসে যাওয়ার উদ্দেশে সাভার নবীনগরের বাসা থেকে তার বাবা বের হন। বিকাল ৪টার পর অনেক চেষ্টা করলেও তার বাবার মোবাইল ফোনের সংযোগ পাননি তারা।
সূত্র: জাস্ট নিউজ