প্রচার সংখ্যায় শীর্ষে যারা

বুধবার, এপ্রিল ৩, ২০১৩

প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক::

newspaper1সংবাদপত্রের একটা বড় পরিচয় সংবাদমাধ্যম। অর্থাৎ সংবাদ প্রচারই তার মুখ্য উদ্দেশ্য। নিত্যনতুন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এ সেক্টরও দিন দিন বিকশিত হচ্ছে। হচ্ছে পরিমার্জিত। ইন্টারনেটের বদৌলতে হাতের মুঠোয় চলে এসেছে গোটা দুনিয়া। তা সত্ত্বেও দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করে চলেছে বিভিন্ন সংবাদপত্র। বেড়েই চলেছে তাদের প্রচার সংখ্যা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সর্বাধিক

প্রচারিত কয়েকটি সংবাদপত্রের আদিঅন্ত জানাচ্ছেন -শামছুল হক রাসেল

দ্য সান
ব্রিটেনভিত্তিক জাতীয় ট্যাবলয়েড পত্রিকা ‘দ্য সান’। বর্তমানে একযোগে ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হচ্ছে এটি। এ ছাড়া অঞ্চলভিত্তিক এডিশন প্রকাশিত হচ্ছে গ্লাসগো (দ্য স্কটিশ সান) এবং ডাবলিন (দ্য আইরিশ সান) থেকেও। নিউজ ইন্টারন্যাশনাল থেকে প্রকাশিত এ পত্রিকাটি বিখ্যাত সাংবাদিক এবং সংগঠক রুপার্ট মারডকের নিউজ করপোরেশনের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। ব্রিটেনের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক এটি। বিশ্বের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিকের তালিকায় এর অবস্থান ষষ্ঠ। চলতি বছর জানুয়ারিতে সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী পত্রিকাটির দৈনিক প্রচার সংখ্যা ২৪ লাখ নয় হাজার ৮১১ কপি। ব্রিটেনে পত্রিকাটির শতকরা ৪৫ ভাগ পাঠক রয়েছে। তবে মজার ব্যাপার হলো, নারী পাঠকের সংখ্যা ৫৫ ভাগ। বিভিন্ন সময়ে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে পত্রিকাটি। কখনো উঠে এসেছে সমকামী নারী প্রসঙ্গ, এলটন জোন্সের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমালোচিত বিষয়াবলী। ২০১২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পত্রিকাটি সর্বশেষ চমক হিসেবে ‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর পরিবর্তে ‘দ্য সান অন সানডে’ প্রকাশ করছে। যেখানে সাবেক সাংবাদিকরা কাজ করছেন। দ্য সানের কর্ণধার রুপার্ট মারডকের মতাদর্শ, একটি পত্রিকার গুণগত মান নির্ভর করে পত্রিকাটির কতগুলো কপি বিক্রি হয়েছে এর ওপর ভিত্তি করে। তার কাছে প্রচার সংখ্যাই আসল। এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালের ১৭ নভেম্বর। সেখানে শিরোনাম করা হয়েছিল ‘হর্স ডোপ স্যানশেন’। যা বিতর্কের জন্ম দেয়। দ্য সানের সদর দফতর লন্ডনের থমাস মোর। বর্তমানে এর সম্পাদক ডোমিনিক মোহন। অনেকটা একচেটিয়াভাবে প্রচার সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে পত্রিকাটি। নিত্যনতুন পরিবর্তনে পাঠকদের মন জয় করে চলেছে দ্য সান। তবে এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রিটেনের আরেকটি জনপ্রিয় পত্রিকা ‘দ্য ডেইলি মিরর’।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইংরেজি ভাষার আন্তর্জাতিক পত্রিকা, যেখানে মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতির খবর প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে ভো জোন্সের কোম্পানি; যা বিশ্ববিখ্যাত নিউজ করপোরেশনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়াও এশিয়ান এবং ইউরোপভিত্তিক সংখ্যাও প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকাটি মার্কিন মুলুকে সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক। বিশ্বে এর অবস্থান নবম। আউট ব্যুরো অব সার্কুলেশনের মতে, প্রতিদিন ২১ লাখ কপি প্রকাশিত হয়। যার মধ্যে

অবশ্য চার লাখ অনলাইন সাবসক্রিপ্ট। পত্রিকাটির প্রধানতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইউএসএ টুডে, যার প্রচার সংখ্যা ১৮ লাখ কপি। যেহেতু এটি বাণিজ্যকেন্দ্রিক পত্রিকা, তাই লন্ডনের ফিনানশিয়াল টাইমসের প্রতিদ্বন্দ্বী। পত্রিকাটির নাম দেওয়া হয়েছে আমেরিকার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র বলে খ্যাত নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত ওয়াল স্ট্রিটের নামানুসারে। পত্রিকাটি চার্লস ডো অ্যাডওয়ার্ড জোন্স এবং চার্লস বার্গস্ট্রেচার হাত ধরে ১৮৮৯ সালের ৮ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়। তবে ১৯০২ সালে সাংবাদিক ক্ল্যারেন্স ব্যারন পত্রিকাটি এক লাখ ৩০ হাজার ইউএস ডলারের বিনিময়ে কিনে নেন। তখন মাত্র সাত হাজার কপি প্রকাশ পেত। কিন্তু ব্যারনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯২০ সালের শেষের দিকে তা ৫০ হাজারে গিয়ে পেঁৗছায়। সাংবাদিক ব্যারন এবং তার সহযোগীরা মিলে এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করেন যেখানে ভয়ভীতিহীন, স্বাধীনভাবে অর্থকেন্দ্রিক সংবাদগুলো প্রচারিত হতো। তবে পত্রিকাটির আধুনিকায়ন হয় মূলত ১৯৪০ সালের দিকে, যখন নিউইয়র্কজুড়ে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রধান কার্যালয় নিউইয়র্কে। আর এডিটর ইন-চিফের দায়িত্বে রয়েছেন জেরার্ড বাকের। নানা চড়াই-উতরায়ের পরও পত্রিকাটি ৩৩ বার পুলিৎজার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, সংক্ষেপে টিওআই। বিশ্বের ইংরেজি ভাষার সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক এটি। যে কোনো ভাষার সংবাদপত্রে এর অবস্থান তৃতীয়। ২০০৮ সালে ইন্ডিয়া সার্কুলেশন অডিট ব্যুরোর তথ্য মোতাবেক এর সার্কুলেশন ৩১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। ইন্ডিয়ান রিডারশিপ সার্ভের ২০১০ সালের জরিপ অনুযায়ী টাইমস অব ইন্ডিয়ার পাঠক সংখ্যা ৭০ লাখ ৩৫ হাজার। ওয়েবসাইটেও পত্রিকাটি সবচেয়ে বেশি দেখা হয়। ২০০৯ সালের মে মাসে পত্রিকাটির ১৫৯ মিলিয়ন পৃষ্ঠা দেখা হয়েছে, যা নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য সান, ওয়াশিংটন পোস্ট, ডেইলি মেইল এবং ইউএসএ টুডে থেকে বেশি। এর প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন জগদীশ বোস। পত্রিকাটির মালিক এবং প্রকাশক বেনেট কোলম্যান অ্যান্ড কোম্পানি লি. যার কর্ণধার ভারতের বিখ্যাত সাহু জেইন পরিবার। ১৮৩৮ সালের ৩ নভেম্বর ‘দ্য বোম্বে টাইমস অ্যান্ড জার্নাল অব কমার্স’ নামে বোম্বেতে (তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামল) পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। ওই সময় পত্রিকাটি শুধু শনি ও বুধবার প্রকাশিত হতো সেমি-উইকলি পত্রিকা হিসেবে। সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক রায় বাহাদুর নারায়ণ দিনোনাথ ভেলকার। আর তখন মূলত ব্রিটেন এবং ভারতীয় উপমহাদেশের খবর প্রকাশিত হতো। এ পত্রিকাটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশ শুরু হয় ১৮৫০ সালে। ১৯৬১ সালে এর নাম বোম্বে টাইমস থেকে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া হয়। মালিকানার পালাবদলে ভারতের বিখ্যাত শিল্পপতি পরিবার ডালমিয়াস কিনে নিলেও পরবর্তীতে কুনাল জেইন গ্রুপের সাহু শান্তি প্রসাদ জেইন এটি কিনে নেয়।

দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন
জাপানি ভাষায় প্রকাশিত দৈনিক ‘দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন’। বিশ্বের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক এটি। ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে সকাল-সন্ধ্যা মিলিয়ে এক কোটি ৪৩ লাখ ২৩ হাজার ৭৮১ কপি পত্রিকা ছাপানো হয়। আর ২০১১ সালে বছরের মাঝামাঝি সময়ে হিসাব করে দেখা যায়, সকাল-সন্ধ্যা মিলিয়ে এক কোটি ৩৫ লাখ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। গত বছর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এর প্রকাশ সংখ্যা দৈনিক এক কোটি ৩০ লাখ কপি। এটি টোকিও, ওসাকা, ফুকুকা ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রকাশিত হয়। জাপানিজ মিডিয়া জগতের নক্ষত্র প্রতিষ্ঠান ইয়োমিউরি গ্রুপ থেকে প্রকাশিত হয় দ্য শিমবুন। এর প্রধান কার্যালয়গুলো জাপানের ওটিমাচি, চিওদা, টোকিওতে অবস্থিত। ১৮৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এটি। বর্তমানে প্রধান সম্পাদক Yoichi Funabashi.. দিনে দুবার ছাপানোর পাশাপাশি এর বিভিন্ন লোকাল এডিশন প্রকাশিত হয়। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি ইয়োমিউরি পুরস্কার ঘোষণা করে। দীর্ঘ এ পথচলায় আরও অনেক পত্রিকা প্রকাশ করছে এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্কের সদস্য দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন। এমনকি জাপানের অন্যতম অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষক এ পত্রিকাটি। ১৯২৪ সালে শোরিকি মাতসুতারো কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেওয়ার পর পত্রিকাটির মোড় ঘুরিয়ে ফেলেন চমকপ্রদ নিউজ কাভারেজ, পুরো পৃষ্ঠাব্যাপী রেডিও অনুষ্ঠান গাইড যুক্ত করে। ব্রড নিউজ কাভারেজের মূলত লক্ষ্য ছিল টোকিও শহরের পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। আর তার ফলাফলস্বরূপ ১৯৪১ সালে টোকিওতে সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিকে পরিণত হয় এটি। ডিজিটালইজেশনের এ যুগে সব পত্রিকাকে চমকে দিয়ে ১৯৯৯ সালের নভেম্বর থেকে এ পত্রিকাটি একটি সিডি রম আর্কাইভ প্রতিষ্ঠা করে, যার নাম ‘দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন ইন দ্য মেইজি এরা’ মাইক্রোফিল্মের মাধ্যমে এ আর্কাইভটি নিউজ আর্টিকেল এবং স্থিরচিত্র গবেষণায় ব্যবহার করা যাবে। আর

পত্রিকার ইতিহাসে এটিই বিশ্বে প্রথম প্রয়াস, যার মাধ্যমে ছাপানো কোনো সংবাদ বা স্থিরচিত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে খুঁজে বের করা যাবে।

বিল্ড
জার্মানির সর্বোচ্চ পঠিত দৈনিক ‘বিল্ড’। এ ছাড়া প্রচার সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বে পত্রিকাটির অবস্থান পঞ্চম। মূলত এটি একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকা। ট্যাবলয়েডটি সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ছাপা হয়। আর রবিবারে একটু ভিন্নভাবে পাঠকের হাতে পেঁৗছায় এটি। বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যুকে কেন্দ্র করে রসাত্দকভাবে উপস্থাপন করা হয় এ সংখ্যায়। বিল্ড যদিও স্টাইলের দিক দিয়ে ট্যাবলয়েড কিন্তু সাইজের দিক দিয়ে ব্রডশিট। এর অন্যতম জনপ্রিয় স্লোগান হলো ‘ফ্রম ইওর ওন ওপেনিয়ন’ (সবার নিজের মতামত থেকে)। বিশেষজ্ঞদের চোখে ‘বিল্ড’ হলো বহুমাত্রিকতার নাম, যেখানে একই সঙ্গে খোশগল্প, শক্ত ভাষা কিংবা আবেগঘন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। ইংরেজি ভাষা ব্যবহারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং সাংবাদিকতার মারপ্যাঁচে ট্যাবলয়েডটিকে অনেকেই ব্রিটিশদের জাতীয় পত্রিকা ‘দ্য সান’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। ব্রিটেনের বিখ্যাত ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকা এ ট্যাবলয়েড সম্পর্কে বলেছে, বিল্ডের আছে টপলেস গার্লস ফিচারিং, যা এটির প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপানো হয় এবং এটি এরই মধ্যে পাঁচ হাজার টপলেস ছবি প্রকাশ করেছে। ১৯৫২ সালে বিল্ড প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাঙ্লে স্প্রিনজার। এটি রকমারি ছবি পরিবেশনের জন্য বিখ্যাত। খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ বিক্রীত ট্যাবলয়েডে পরিণত হয় এটি। বিল্ডের ইতিহাসজুড়ে আছে হ্যামবার্গ। তবে ২০০৮ সালের মার্চে এর সদর দফতর হ্যামবার্গ থেকে বার্লিনে স্থানান্তরিত হয়। কারণ তত দিনে এটি জাতীয় পত্রিকার সম্মান অর্জন করেছে। এটি ছাপানো হয় সারা দেশের ৩২টি আঞ্চলিক স্থান থেকে। দৈনিক প্রকাশ সংখ্যা ২৮ লাখেরও বেশি।

আনন্দবাজার পত্রিকা
আনন্দবাজার পত্রিকা। এর সম্পর্কে আর নতুন করে কিছু বলার নেই। প্রকাশ সংখ্যার ভিত্তিতে ভারতে বাংলা ভাষার সর্বোচ্চ প্রকাশিত দৈনিক এটি। কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স এর প্রকাশক। এর প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন অভীক সরকার। কলকাতা, নয়াদিলি্ল ও ভারতের অন্যান্য শহর থেকে দৈনিক ১৩ লাখ কপিরও বেশি আনন্দবাজার পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ইন্ডিয়ান রিডারশিপ সার্ভের ২০১০ সালের জরিপ অনুযায়ী পত্রিকাটির পাঠক সংখ্যা ১ কোটি ৫৬ লাখ। তাদের মতে, একটি আনন্দবাজার পত্রিকা কমপক্ষে ১২ জন লোক পাঠ করেন। বাংলা ভাষাভাষী যেকটি পত্রিকা ভারত থেকে প্রকাশ হয় তার মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা অন্যতম। বর্তমানে বেশ কয়েকটি বাংলা পত্রিকা পাঠকপ্রিয়তায় এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আনন্দবাজারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কেউ দাঁড়াতে পারছে না। যত দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে আসছে ঠিক তত দ্রুতই বৃত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে অন্যান্য পত্রিকা। এক কথায় বাঙালিদের হৃদয়ে দাপটের সঙ্গে দখল করে রয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। শুধু ভারতীয় বাঙালি নয়, বাংলাদেশের বাঙালিদের কাছেও এ পত্রিকার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিশেষ করে পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে পাঠক সংখ্যা বাংলাদেশেও খুব একটা কম নয়। ১৯২২ সালের ১৩ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এটি। এর প্রধান কার্যালয় কলকাতায়। এ ছাড়া দিলি্ল থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকায় জোর দেওয়া হয় ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতির পাঠপরিক্রম। নিরপেক্ষ রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য সব দলের কাছেই পত্রিকাটির গ্রহণযোগ্যতা বেড়েই চলেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন দিবসে আকর্ষণীয় ও সমৃদ্ধ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে তারা। অন্যদিকে সব বয়সী পাঠকের কথা চিন্তা করে সব সময়ই থাকে ভিন্ন ভিন্ন আয়োজন।

বাংলাদেশ প্রতিদিন
আমরা জনগণের পক্ষে- এই স্লোগানকে ধারণ করে ২০১০ সালের ১৫ মার্চ যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ প্রতিদিন। আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে প্রকাশের দুই বছরের মাথায় দেশের সর্বোচ্চ দৈনিকের স্বীকৃতি পায় এটি।

ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড থেকে প্রকাশিত এ দৈনিকটি বাংলাদেশের পত্রিকা জগতে এক বিপ্লবের সূচনা করে। তীব্র প্রতিযোগিতার মাঠে পাঠকদের ভালোবাসায় বিরল রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করছে এটি। সরকারিভাবেও বাংলাদেশ প্রতিদিন এখন প্রচার সংখ্যায় শীর্ষে। গড়ে প্রতিদিন ছাপা হচ্ছে ৬ লাখেরও বেশি। গত ৪ ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নিরীক্ষা প্রত্যয়নপত্রে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে ৫ লাখ ৩০ হাজার ১০০ কপি হিসাবে দেখিয়ে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক ঘোষণা করেছে, যা দেশের সংবাদপত্র ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত। এই ধারাবাহিকতায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু গত ২০ ডিসেম্বর, ২০১২ এবং ৩ মার্চ, ২০১৩ তারিখে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্রতিদিন দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক। শুধু ঢাকায় নয়, দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই প্রতিদিনই বাড়ছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের চাহিদা। ৬ লাখ সার্কুলেশনের পত্রিকাটির দাম তিন বছরে তিনবার বেড়েছে। এরপরও ভাটা পড়েনি এর প্রচার সংখ্যায়। পত্রিকাটির সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক নঈম নিজাম। তার নেতৃত্বে এক ঝাঁক নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনলাইন দুনিয়ায়ও প্রবেশ করেছে পত্রিকাটি। ইতোমধ্যে চালু হয়েছে অনলাইন সংস্করণ। সেই সঙ্গে সর্বশেষ খবরের আপডেটও পাওয়া যাচ্ছে এখানে। অনলাইন দুনিয়া পাড়ি দিয়ে ব্রেকিং নিউজ ছড়িয়ে দিতে এসএমএস জগতেও দাপটের সঙ্গে বিচরণ করছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। মাত্র তিন মাসের মাথায় প্রায় ২০ হাজার এসএমএস পাঠক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন পরিবারে। তাদের মোবাইলে সর্বশেষ খবর পেঁৗছে এসএমএসের মাধ্যমে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ সাইটে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের কার্যক্রম। তারা যুক্ত হয়েছে ফেসবুক, টুইটারের মতো জনপ্রিয় বিভিন্ন সাইটে। একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক পাঠকদের কথা মাথায় রেখেও এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর বিভিন্ন ডিজিটালাইজড কার্যক্রম।

দৈনিক জাগরণ
দৈনিক জাগরণ হিন্দি ভাষার পত্রিকা। ভারতের সর্বাধিক প্রচারিত হিন্দি দৈনিক এটি। ইন্ডিয়ান রিডারশিপ সার্ভে অনুযায়ী দেশটির সর্বাধিক পঠিত পত্রিকাও এ দৈনিক জাগরণ। শুধু সংবাদই নয়, ভারতে এটি একটি ব্র্যান্ড হিসেবেও পরিচিত। বর্তমানে এর পাঠকসংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি ৫৭ লাখ। বিবিসি ও রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী ভারতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশন করে দৈনিক জাগরণ। ২০১০ সালের তিন মাসের জরিপে এ ফলাফল বেরিয়ে আসে। এটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৪২ সালে। ভারতের জানসি থেকে এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশ হয়। ১৯৪৭ সালে কানপুরে দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। পত্রিকাটির প্রধান কার্যালয় কানপুরে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন যখন বেগবান হচ্ছে তখনই দৈনিক জাগরণ আত্দপ্রকাশ করে। এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রী পুরান চন্দ্রগুপ্ত। ‘মানুষের স্বাধীন মতামতের প্রতিনিধিত্ব করবে’_ এটি ছিল পত্রিকাটির মূল লক্ষ্য। ভারতের কানপুর, রেওয়া, ভূপাল, গোরাকপুর, বেনারসি, এলাহাবাদ, লক্ষ্নৌ, মিরাট, আগ্রা, দিলি্লসহ প্রধান প্রধান শহর থেকে দৈনিক জাগরণের সংস্করণ বের হয়। বর্তমানে পত্রিকাটির প্রকাশক জাগরণ প্রকাশ লিমিটেড। ইন্ডিয়ার সবকটি প্রদেশ কাভার করে এটি। দৈনিক জাগরণই সর্বপ্রথম ভারতে পাঠকদের সবচেয়ে কাছাকাছি আসতে সক্ষম হয়। এ ছাড়া জাগরণ ডটকম বিশ্বের অন্যতম বিস্তৃত নিউজ পোর্টাল। জাগরণ গ্রুপের অন্যান্য মিডিয়া হলো_ আই নেঙ্ট, সিটি প্লাস, মিডওয়ে, ইনকিলাব, সাকী, জাগরণ এঞ্জেস, জাগরণ সলোশন, জাগরণ ফাউন্ডেশন, জাগরণ ইন্টারন্যাশনাল। বর্তমানে জাগরণের সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন মি. পাওয়ান আর চাওলা।

আল আহরাম
দৈনিক আল আহরাম আরব বিশ্বের অন্যতম পুরনো পত্রিকা। মিসর থেকে প্রকাশিত আরবি ভাষার ব্রডশিট পত্রিকা এটি। পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৫ সালে। প্রতিদিনের সার্কুলেশন ১০ লাখ কপি। শুক্রবার এর সার্কুলেশন দাঁড়ায় ১২ লাখ। এর প্রকাশক আল আহরাম পাবলিশিং হাউস। ১৯৫২ সালের অভ্যুত্থানের পর জামাল আবদেল নাসের পত্রিকাটিকে জাতীয়করণ করেন। তা সত্ত্বেও পত্রিকাটি মিসরের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক।

১৮৭৫ সালে লেবাননের দুই ভাই বেশারা তাকিয়া ও সালিম তাকিয়া আল আহরাম প্রতিষ্ঠা করেন। তারা ওই সময় আলেকজান্দ্রিয়ায় বসবাস করতেন। প্রথমে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রতি শনিবার এটি বের হতো। কিন্তু দুমাস পর দৈনিক হিসেবে আত্দপ্রকাশ করে আল আহরাম। তাকিয়া ভাইয়েরা এটাকে দৈনিক পত্রিকার রূপ দেন। প্রথম দিকে পত্রিকা মিসরে ও লেবাননে ভাগ করে বিলি করা হতো। ১৮৯৯ সালের নভেম্বরে আল আহরামের কেন্দ্রীয় অফিস কায়রোতে স্থানান্তর করা হয়। ধর্মীয় সংস্কারক মুহাম্মদ আবদাহ ও জামাল আল দীন আল আফগানি প্রথম দিকে এ পত্রিকায় লিখতেন। আল আহরাম বর্তমানে আল আহরাম পাবলিশিং হাউস, যা মিসরের সবচেয়ে বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। পত্রিকাটি মিসরের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। এর সম্পাদক নিয়োগ দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পতনের পর পত্রিকাটির সম্পাদকীয় নীতি অনেকটা পাল্টে যায়। পত্রিকাটি দীর্ঘদিন ধরে মোবারকের বিশ্বস্ত মিডিয়ার ভূমিকা পালন করলেও তার পতনের পরদিনই বিরোধী অবস্থান নেয়। অন্যদিকে আরব বিশ্বের জন্য এর সংস্করণ হলো আল আহরাম আল আরাবিয়া। এগুলো প্রতিদিন প্রকাশিত হয় বাহরাইন, সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। আর বিতরণ হয় মিসর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায়।

ইন্টারন্যাশনাল আরবি সংস্করণকে বলা হয় আল আহরাম আল দোয়ালি। এটি প্রকাশিত হচ্ছে ১৯৮৪ সাল থেকে। এ সংস্করণটি লন্ডন ও প্যারিস থেকে ছাপা হয়। বিলি হয় ইউরোপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা ও মিসরে।

আল আহরামের একটি ইংরেজি অনলাইন সংস্করণ রয়েছে English.Ahram.org.eg নামে। দুটি বিদেশি

ভাষায় সাপ্তাহিক সংস্করণ রয়েছে ইংলিশ আল আহরাম উইকলি এবং ফরাসি আল আহরাম হেবদো। বর্তমানে আল আহরাম সম্পাদকীয় পরিষদের প্রধান হানি সুকরুল্লাহ। মিসরের রাজনৈতিক উত্থান-পতন সত্ত্বেও পত্রিকাটির প্রচার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সৌজন্যে: বাংলাদেশ প্রতিদিন