বঙ্গোপসাগরে নৃশংস কায়দায় জেলে হত্যা ও আমার কিছু কথা

বুধবার, এপ্রিল ৩, ২০১৩

শরীফুল ইসলাম রুকন::

banskhali- fisher man২৫ মার্চের পর থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া বাঁশখালীর জেলেরা নিখোঁজ রয়েছেন। এরপরই ভুক্তভোগী ট্রলার মালিকরা বিষয়টি বাঁশখালী থানায় জানালেও পুলিশ অন্যান্য বাহিনীকে নিয়ে সাগরে অভিযানে নামেনি বলে জেলেদের অভিযোগ।
অন্যদিকে সাগরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোস্টগার্ড ছিল ঘুমিয়ে! কোস্টগার্ড পূর্বজোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. ইউছুপ গত ২৯মার্চ সকাল ১১টায় আমাকে বলেন, “৩১ মাঝিমাল্লা সহ ট্রলার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি কেউ তাদেরকে জানায়নি। আমার কাছ থেকে নাকি এই মাত্র জেনেছে। তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন।”
আমার জানা মতে আমার ফোন পেয়েও সেদিন তারা অভিযানে নামেনি। গত ১এপ্রিল থেকে জেলেদের লাশ উদ্ধারে তারা অভিযানে নেমেছে। প্রশ্ন হচ্ছে যে, স্পর্শকাতর ঘটনাটির এতদিন পর সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে যদি কোস্টগার্ডের প্রথম খবর জানতে হয়। তাহলে জনগণের কোটি কোটি টাকা খরচ করে তাঁদের পোষার দরকারটা কী? নাকি আমরা ভাবব সাগরে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর কোন নিয়ন্ত্রণই নেই!
জলদস্যুদের কবল থেকে বেঁচে আসা গুলিবিদ্ধ ৩জেলের বরাত দিয়ে বাকী ৩১জেলে নিখোঁজের ঘটনাটি গত ২৬মার্চ থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে থাকে। সে হিসেবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তারা উক্ত বিষয়টি জানেন।
ঘটনার পরপরই নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও র‌্যাব-পুলিশ যদি সাঁড়াশি অভিযানে নামত। তাহলে হয়তো আজকে এতগুলো লাশ দেশবাসীকে দেখতে হতো না। গুটি কয়েক জলদস্যু এভাবে একের পর এক মানুষ হত্যা করে সাগরে ফেলে দেবে। আর আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাশগুলো মৃত আনার জন্য অপেক্ষা করবে এটা মানতে পারছি না।
কোস্টগার্ড সবসসময় অভিযোগ করে বলে তাঁদের জাহাজসহ প্রয়োজনীয় সাজ-সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জরুরীভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের ভাবা উচিত।

লেখক: সংবাদকর্মী, চট্টগ্রাম।
: sharifulislam.news@yahoo.com