হাইকোর্টের রায়ের প্রতি জেলা প্রশাসনের দৃষ্টতা?

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৭

:: আকাশ মো. জসিম ::

ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে উন্মোচিত দেশের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠন নোয়াখালী প্রেসক্লাব। নোয়াখালীর পেশাদার সাংবাদিকদের শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ব ও পেশাগত ঐক্যের সুহৃদবন্ধনের পীঠস্থান হিসেবে সমাদৃত প্রতিষ্ঠান এটি।

পরম পরিতাপের খবর হলো, সাম্প্রতিক সময়ে এ ক্লাব নিয়ে কোন এক রহস্যজনক উচ্চাশায় জড়িয়ে পড়েছেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসন! তাঁরা সঠিক, সুষ্টু, সুচারু ও ন্যায়ানুগ বিষয়-আশয়ের খোঁজ-খবর না নিয়ে এ ক্লাবের অবিভাবকরুপে নিজেদের নাম জাহির করছেন। যা একটি মহলের স্বীয়স্বার্থ তথা ব্যক্তিগত খায়েস পূরণের সহযোগিতায় বলে এ ক্লাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ধারণা।

সদস্যদের পর্যালোচনায়, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সচলায়তনের রীতি তালাবদ্ধ রাখতে অতীতেও কতেক অপেশাদার সদস্যদের লিপ্ত থাকার ইতিহাস সবার মানসপটে অংকিত। হালে ওই গোষ্ঠীর সাথে প্রেমাসিক্ত হয়েছেন এ ক্লাবের কেউ কেউ! যারা সে সময়ে ওই গোষ্ঠীর কোনভাবেই অন্তরের অবয়বে সবটুকু ভালবাসায় আঁধার হতে পারতেননা। বস্তত যাদের অবয়ব অগ্রহণযোগ্য, সুবিধাবাদী ও সুযোগসন্ধানী বলে আজ ক্লাবের সদস্যদের কাছে সতঃসিদ্ধ। তারা বিগত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ সালের নির্বাচনী তফসিলে প্রতিযোগী হয়ে একপর্যায়ে বৈতরনীর ফলাফল নিজেদের অনুকুলে না থাকার অনুমেয় ঘটনায় ওই নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

( এ সময় ক্লাবের নিযুক্ত নির্বাচন কমিশনার অধ্যক্ষ (অব:) কাজী মো. রফিক উল্যাহ সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে আকাশ মো. জসিম, কোষাধ্যক্ষ পদে সুমন ভৌমিক, ক্রীড়া ও ধর্ম সম্পাদক পদে আবদুর রহিম বাবুল ও নির্বাহী সদস্য পদে আনোয়ারুল হক আনোয়ারকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন)। এ জনরাই নোয়াখালী জেলা প্রশাসনকে স্বীয় কুটিলতা চরিতার্থকরণের সিদ্ধহস্তে সম্পূর্ণরুপে একতরফা ও ভুলবুঝিয়ে ওই নির্বাচন স্থগিত করে দেন। যা নোয়াখালী প্রেসক্লাবের ইতিহাসে একটি নিলর্জ্জ ও বেদনাদায়ক ঘটনাই বটে।

উপরোক্ত ঘটনা নোয়াখালী প্রেসক্লাবের বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের সাথে সম্পূর্ণরুপে অসামঞ্জস্য, সাংঘর্ষিক ও একটি হেয়ালিপূর্ণ হওয়ায় ক্লাবের সদস্য আকাশ মো. জসিম মহামান্য হাইকোর্টে (২৬৮৪/১৭) রীট মামলা দায়ের করেন। মাননীয় আদালত দীর্ঘদিন ধরে এ মামলার বাদী ও বিবাদীদের সংঘটিত সার্বিক বিষয়াবলী অবহিতক্রমে গত ২২ আগষ্ট, ২০১৭ তারিখে নোয়াখালী জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক ক্লাবের সার্বিক কর্মকান্ড ৬ (ছয়) মাসের জন্যে স্থগিত রায় প্রদান করেন। মাননীয় আদালতের উপরোক্ত রায়ের পর ক্লাবের গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা রেখে আহবায়ক মনিরুজ্জামান চৌধুরী ও সদস্য সচিব জামাল হোসেন বিষাদ ক্লাবের স্থগিত হওয়া সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সাধারণ সম্পাদক পদের নির্বাচন সম্পন্ন করেন। এতপর তথাকথিত সদস্য নামের কতেক ব্যক্তি চরম উচ্ছৃঙ্খলতায় প্রীতিবদ্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনার বোরহানুদ্দিনকে নাজেহাল করেন। যে কারণে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুধারাম থানায় সাধারণ ডায়েরী ও রুজু করেছেন। পরবর্তীতে, ক্লাবের কর্মকতা পদের নির্বাচিত নির্বাহী পরিষদ ক্লাবের গঠনতন্ত্রের সকল নিয়মকানুন অক্ষুন্ন রেখে পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে ২২ কে সদস্য পদ প্রদান করেন। যা নোয়াখালী প্রেসক্লাবের ইতহাসে বিরল ঘটনা বলে প্রচারিত।

সঙ্গতকারণে ক্লাবের সদস্যরা আশ্বস্ত ছিলেন যে, মাননীয় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর নোয়াখালী জেলা প্রশাসন নোয়াখালী প্রেসক্লাবের বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের প্রতি নূন্যতম সম্মান রেখে ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনরুপ বাধার কারণ হয়ে দাঁড়াবেন না। কারণ, তাঁরাই যে আইনের রক্ষক। কিন্ত, সব বিশ্বাস ও প্রত্যাশার মৃত্যু ঘটিয়ে আজো যেন বহাল তবিয়তে! তাঁদের সংঘটিত কর্মকান্ডে একটি পেশাদারী প্রতিষ্ঠানের সার্বিক খবরদারি করতে চরম আত্মতৃপ্তবোধ করছেন কিনা সদস্যদের সন্দেহের কারণ! যা মহামান্য হাইকোর্টের ঘোষিত রায়ের প্রতি জেলা প্রশাসনের চরম বৈরিতা, দৃষ্টতা তথা অশ্রদ্ধাপোষণের নামান্তর বলে ক্লাব সদস্যরা বিস্মিত।

( পাদটিকা : প্রাসঙ্গিকক্রমে জেলার সরকারী এক শীর্ষকর্তা বলেছেন, আমি ক্লাব সীলগালা করে দেব। এবং মাননীয় জেলা প্রশাসন হয়তোবা এ ঘটনার প্রয়াসে একটি পরিবেশ সৃষ্টির অভিপ্রায়ে নিজেকে আহবায়ক নামে কতেক ব্যক্তির অবিভাবকরুপে ভূমিকা রাখছেন! সেসব জনরা জেলা প্রশাসনের ওপর ভর করে নিজেদের জাহির করছেন মাত্র। যা প্রশাসনের কাছে মোটেই কাম্য নয়।)

লেখক : সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক, নোয়াখালী প্রেসক্লাব।

সর্বশেষ