পেশাদারিত্বের জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই

শুক্রবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৫

:: এম. ইউছুপ রেজা ::

Captureসর্বোচ্চ মানের পেশাদারিত্বের জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। যে কোনো চ্যালেঞ্জিং পেশায় টিকে থাকতে হলে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সর্বাধুনিক কৌশল জানতে হবে। যুগের পরিবর্তনের কারণে আজ অনেকাংশে লেখালেখি তথা সাংবাদিকতায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে অসংখ্য সৃজনশীল ও তরুণ সংবাদকর্মী। বর্তমান সময় প্রযুক্তির সময়। সর্বোচ্চ মানের পেশাদারিত্ব অর্জনে প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুগোপযোগী ও আধুনিক এবং কমিপউটারে পারদর্শী হতে হবে। সময় এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনকে বিশ্বাস করতে হবে, পরিবর্তনকে বিশ্বাস না করলে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা কঠিন হয়ে যাবে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সাংবাদিকতার শুরু। সত্য বলার সাহসিকতায় সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র। যাদের সত্য বলার অদম্য সাহস আছে তারাই সাংবাদিকতা করার যোগ্যতা রাখে। ‘সৎ ও সাহসী’ সাংবাদিক এখন বিরল প্রজাতীর প্রাণীর মতো। কেউ কেউ সাংবাদিকতা পেশায় সৎ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু তাদের সাহস নেই, তাই তারা সন্ত্রাস ও দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে না বরং তাদের তোষামোদি করে চলে। আবার কেউ কেউ খুব সাহসী কিন্তু দূর্নীতি পরায়ণ। তারা তাদের সাহসীকতাকে পূঁজি করে নীতিকে অর্থের কাছে বিকিয়ে দেয়। তাই পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী লেখালেখি বিষয়ক কর্মশালা শেষে প্রক্ষিনার্থীদের মাঝে অভিনন্দনপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা আরও বলেন, কোন একটি সংবাদ যদি খুব গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে তাহলে সেটি সমাজ পরিবর্তনে সহায়ক হয়। দেশে অনেক নজীর আছে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে নীতি নির্ধারকরা অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংবাদ লিখনের সময় কি কারণে বা কিভাবে মূল্যায়িত হতে পারে সেটি লক্ষ্য রেখে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রস্তুত করতে হবে।

কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের বিষয় ছিল-সংবাদের প্রাথমিক ধারণা। সংবাদ ধারণা, মূল্যায়ন ও সংবাদের উৎস। ফিচার লিখন কলাকৌশল। সংবাদের বিষয় খোঁজে পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রতিবেদন তৈরীর কৌশল। বিনোদন ও সাহিত্য। সম্পাদকীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী। সংবাদ লিখন, পরিবেশন ও মূল্যায়ন। ফটোগ্রাফী। সংবাদে শব্দের ব্যবহার ও বানানরীতি।

লেখক হওয়ার স্বপ্ন আপনার, আমার এবং সবার। তবে লেখালেখির শুরুতে সবারই প্রায় একটিই প্রশ্ন থাকে কী লেখব? কীভাবে লিখব? তাদের কথা মাথায় রেখেই শুরু করছি- আজকের এ আয়োজন। আপনার প্রতিভা, আপনার নিজের মত করে কাজে লাগিয়ে ক্যারিয়ার তৈরির একটি ক্ষেত্র লেখালেখি। শুধুমাত্র লেখনি শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীতে অনেকেই বিখ্যাত হয়েছেন, উপার্জন করেছেন এবং মানুষের হৃদয়ে চিরদিনের জন্যই জায়গা করে নিয়েছেন। তাই ক্যারিয়ার অর্জনের হাতে খড়িতে লেখালেখি বিষয়ক কর্মশালা নতুন লেখকের কলমকে করবে আরো গতিশীল এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

অনেকেই ভাবেন কোথায় লিখব: লেখক হওয়ার যতগুলো সুযোগ রয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুযোগ পাবেন পত্রিকা এবং সাময়িকীর মাধ্যমে। দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক পত্রিকা বা যেকোন সাময়িকীতে লেখালেখি শুরু করতে পারেন। মনের সব বিষয়েই লেখার সুযোগ রয়েছে এর মধ্যে। আরো লিখতে পারেন ফিচার সমস্যা এবং সম্ভবনা নিয়ে লিখতে পারেন কলাম, উপসম্পাদকীয়, মতামত ও চিঠিপত্র।

অনেক লেখকই রয়েছেন যারা তাদের সুন্দর গল্পের মাধ্যমেই খ্যাতি অর্জন করেছে এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিতও হয়েছেন। বাংলাএবং ইংরেজি সাহিত্যে অনেকেই লেখালেখি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যার হাজারো প্রমাণ রয়েছে। তাই আসুন আমরাও চেষ্টা করি। প্রাণন্তকর চেষ্টাই আনতে পারে সফলতা।

প্রত্যোকেই অতি প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়েই লেখালেখি শুরু করতে পারে। আপনি পেশায় যদি ছাত্র হোন, তা হলে আপনি আপনার অধ্যয়নের বিষয় নিয়েই লেখালেখি শুরু করুন। অর্থাৎ যে বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। ইংরেজি বা বাংলা সাহিত্যের ছাত্ররা ঐ সাহিত্যের উপরই আজীবন লেখালেখি করতে পারেন এবং নিজকেও একজন প্রতিষ্ঠিত কবি-সাহিত্যিক বা লেখক হিসাবে তৈরি করতে পারেন।

অর্থনীতির ছাত্ররা অর্থনীতি নিয়ে, রাজনীতির ছাত্ররা রাজনীতি নিয়ে, সমাজকর্ম বা সমাজবিজ্ঞানের ছাত্ররা সমাজ নিয়ে, ইতিহাসের ছাত্ররা লিখুন ইতিহাস নিয়ে, ইসলামিক স্টাডিজ যারা পড়ছেন তারা লিখুন ইসলামকে নিয়ে, নৃবিজ্ঞানের ছাত্ররা লিখুন মানব সভ্যতার ইতিহাস নিয়ে, যারা আইন পড়ছেন তারা লিখুন আইনের প্রাত্যহিক ব্যবহারিক বিষয়ে, বাণিজ্য বিভাগে যারা পড়ছেন তারা লিখুন দেশবিদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য যে, মেডিকেলের ছাত্ররা লিখুন চিকিৎসা বিষয়ক লেখা, যারা বিজ্ঞানে পড়ছেন তারা লিখতে পারেন বিজ্ঞান এবং তথ্য-প্রযুক্তি লেখা, আপনার পাঠ্য সিলেবাসকে তার রেখে ঠিক তত্ব এবং তথ্য দিয়েই প্রবন্ধ/নিবন্ধ লিখুন। আর এটা আপনার জন্য এক ঢিলে দুই পাখি মারার কাজ দিবে। পরীক্ষার খাতা আর পত্রিকার পাতা দু’টিতে আপনি সফল হবেন।

আপনি যদি রাজনৈতিক অঙ্গনে কাজ করেন তা হলে বতৃতা শোনান লেখালেখির মাধ্যমে। আপনি যদি ধর্মের প্রচারক হন তা হলে মানুষকে সত্যের কথা জানান লেখালেখির মাধ্যমে। মনে রাখবেন আপনার লেখা আপনার একটি সম্পদ এবং স্থায়ী সংরক্ষণ। যা মানুষকে চিরকাল পথ দেখাবে। এছাড়া লিখতে পারেন কবিতা, ছড়া, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণ কাহিনী, রম্যকথা, স্মৃতিকথা, গান

লেখালেখি বিষয়ক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা: যদিও অনেকে মনে করেন লেখালেখির প্রতিভা স্বয়ং ¯্রষ্টা প্রদত্ত তার পরেও এটা বাস্তব সত্য যে, লেখালেখির উপর প্রশিক্ষণ আর সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে যে কোন আগ্রহী মানুষকে একজন লেখক হিসাবে তৈরি করতে পারে। তাই যারা লেখক হতে চান এবং লেখালেখিকে অনিয়মতি বা অনিয়মত পেশায় পরিণত করতে চান তাদের উচিত সাংবাদিকতা বা লেখালেখি বিষয়ক কর্মশলায় অংশগ্রহণ করা।

বিকেল ৫টায় প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে অভিনন্দনপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন-কর্মশালার উদ্যোক্তা, লেখক ও সাংবাদিক এম.ইউছুপ রেজা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন-দৈনিক আজাদীর ফিচার সম্পাদক ও নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজী। প্রধান আলোচক ছিলেন-দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ও বিশিষ্ট ছড়াকার শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন-দৈনিক পূর্বকাণের সহসম্পাদক-শাহীদ হাসান, দৈনিক পূর্বদেশের সহকারি সম্পাদক-দেবদুলাল ভৌমিক, দৈনিক আজাদীর সিনিয়র রিপোর্টার-শুকলাল দাশ, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি মো. সিরাজুল ইসলাম।

দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ বোয়ালখালী প্রতিনিধি মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন খালেদের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন-জনতার কণ্ঠ’র পৃষ্ঠপোষক মুৎসুদ্দি দিলু বড়–য়া, দৈনিক মানবকণ্ঠ প্রতিনিধি মো. জাবেদ হোসেন, ফিচার লেখক বিকাশ নাথ, দৈনিক মুক্তবাণী প্রতিনিধি এম.তাজুল ইসলাম মানিক, বাবর মুনাফ, ইমরান মাহমুদ, মোহাম্মদ শফিউল আলম, মোহাম্মদ আবুল মুনছুর, মাহবুবুল আলম, জালাল মোস্তফা শাহীন, শাহানাজ মেহজাবিন, মোহাম্মদ মহসিন, মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, সত্যপ্রিয় শীল, মোহাম্মদ সৈয়দ আরমান, আব্দুল মান্নান, ওয়াহিদুল ইসলাম তৌফিক, মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন, এমরান হোসেন প্রমুখ। কর্মশালায় ২০জন প্রশিক্ষনার্থী অংশগ্রহণ করেন।