সাহিত্যে নোবেল পেলেন আলেক্সিভিচ

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০১৫

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

svetlana alexievichসাহিত্যে এবছর নোবেল পেলেন বেলারুশীয় সাংবাদিক ও লেখক সভেতলানা আলেক্সিভিচ। সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিশেষ করে ছোটগল্প, উপন্যাস এবং তথ্যকাহিনীতে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হলেন। ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তনের পর তিনি ১৪তম নারী যিনি সাহিত্যে নোবেল পেলেন।

১৯৪৮ সালের ৩১ মে আলেক্সিভিচ ইউক্রেনে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন বেলারুশীয় এবং মা ছিলেন ইউক্রেনীয়। সেনাবাহিনী থেকে তার বাবা অবসর গ্রহণের পর তারা সপরিবারে বেলারুশে স্থায়ী হন। বাবা-মা দু’জনেই স্কুলশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। অ্যালেক্সিভিচ স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রতিবেদক হিসেবে যোগ দিতে খুব ছোটবেলাতেই স্কুল ত্যাগ করেন। সেখান থেকেই তার সাহিত্যে হাতেখড়ি।

পরবর্তী সময়ে বেলারুশীয় বিখ্যাত ঔপন্যাসিক আলিস আদামোভিচের দ্বারা তিনি ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হন। তার সাহিত্যের একটি উল্লেখ্যযোগ্য জায়গাজুড়েই তার ছাপ বেশ স্পষ্ট। নোবেল কমিটি আলেক্সিভিচের সাহিত্যকে সময় দুর্ভোগ ও সাহসের স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

সুইডিস নোবেল একাডেমির স্থায়ী সচিব সারা ড্যানিয়াস আলেক্সিভিচের সাহিত্যের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তাকে একজন ‘অসাধারণ সাহিত্যিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

আলেক্সিভিচ গত ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে সোভিয়েত এবং সোভিয়েতোত্তর সময়ের বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে তার কলম চালিয়েছিলেন। তবে এগুলোকে মোটেই কোনো ঘটনাবহুল সাহিত্যের ইতিহাস বলার কোনো সুযোগ নেই। কারণ তার সেসব লেখায় বিশ্বমানবের আবেগীয় অবস্থাকেই তিনি এঁকেছেন অত্যন্ত সুনিপুণ শিল্পীর ছোঁয়ায়। ঐতিহাসিক ঘটনার আদলে তার সাহিত্য নতুন মাত্রা পায় ঠিকই কিন্তু তা যেন বারবার ঘুরেফিরে সেই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অসহায় আত্মার আবেগকেই নিয়ে আসে। আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয় নতুন এক সত্তার সাথে যেখানে আবেগ আর আত্মা মিলেমিশে এক হয়ে আছে প্রত্যেকটি মানুষের খুব গহীনে। আলেক্সিভিচ আমাদের সাথে সেই আবেগ ইতিহাস আর আত্মার আকুতিকে তুলে ধরেছেন তার সাহিত্যে।

তার প্রথম বই ‘ওয়ারস আনওমেনলি ফেইস’ এ তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নারীদের তুলে এনেছেন। প্রথম বই দিয়েই সাহিত্য সমালোচকদের তিনি বিস্ময়ে অভিভূত করে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই নারীরা সুদীর্ঘকাল আড়ালে ছিলেন। আলেক্সিভিচ তাদের তুলে আনেন। তাই বইটি প্রকাশিত হওয়ার কয়েকদিনের মাথায় প্রায় ২০ লাখ কপি বিক্রি হয়। বইটির জন্য তিনি অসংখ্য নারীর সাক্ষাৎকার নেন। অনেক জায়গায় ভ্রমণ করেন।

আলেক্সিভিচের লেখনী মূলত একটি নতুন সাহিত্যধারার সূচনা করেছে। আলিস আদামোভিচের প্রভাবে তিনি ননফিকশনাল লেখা যেমন ‘কালেকটিভ নোভেল’, ‘নোভেল ওরাটরি’, ‘এপিক নোভেল’ ইত্যাদি ধারায় বেশ সিদ্ধহস্ত একজন লেখক।

আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের ওপর লেখা তার বই ‘জিংকি বয়েজ’ এবং চেরনোবিলের বিপর্যয়ের ওপর লেখা তার বই ‘ভয়েসেস ফ্রম চেরনোবিল’। এই দুটো বই তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি দান করে।

আলেক্সিভিচ এবার যেই সাহিত্যিকদের পেছনে ফেলে নোবেল আর্জন করেছেন তারা হলেন- জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামি, কেনিয়ার সাহিত্যিক নাগুয়ি ওয়া তিয়াং এবং নরওয়ের নাট্যকার জন ফোসে। সাহিত্যে নারী নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে তিনি ১৪তম। সর্বশেষ নারী যিনি ২০১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পান তিনি হলেন কানাডীয় সাহিত্যিক এলিস মনরো।

সূত্র: বাংলামেইল২৪ডটকম