প্রথম আলোর বগুড়া কার্যালয়ে দুর্বৃত্তের হানা

মঙ্গলবার, ২৯/০৯/২০১৫ @ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

Captureপ্রথম আলোর বগুড়া কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা হানা দিয়ে সংবাদ,প্রশাসন ও সার্কুলেশনের বিভাগের ছোট-বড় পাঁচটি কেবিনেটের ড্রয়ার ভেঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সব নথি ও ফাইলপত্র তছনছ করেছে। এ সময় দূবৃত্তরা নগদ আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার টাকা, কম্পিউটারের একটি মনিটর, বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি, ব্যাংকের চেক বই, সাংবাদিকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের রেজিষ্টেশন ও ব্লুবুকের কাগজপত্র নিয়ে গেছে।

বগুড়া শহরের শেরপুর সড়কের হেলাল ম্যানসনের তৃতীয়তলায় প্রথম আলোর কার্যালয়ের দেওয়াল কেটে দুবৃত্তরা সোমবার রাতের কোনো এক সময় ভিতরে প্রবেশ করে এই ঘটনা ঘটায়। সকালে অফিস খোলার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

খবর পেয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসারসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় অপরাধ বিশেষজ্ঞদের নিকট প্রেরণ করেন।

বগুড়া শহরের শেরপুর সড়কের সুত্রাপুর এলাকার হেলাল ম্যানসনের ভবনটির নীচতলায় ট্রান্সকম ডিজিটালের শোরুম,দ্বিতীয়তলায় ষ্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং তৃতীয়তলায় প্রথম আলোর ব্যেুরো কার্যালয়ের কার্যক্রম চলে আসছিল।

প্রথম আলোর বগুড়া প্রতিনিধি মো. আনোয়ার পারভেজ জানিয়েছেন,প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতে সংবাদ বিভাগের কাজ শেষে রাত নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার দিকে অফিসের দরজা-জানালা বন্ধ করে যে যার মতো বাসায় চলে যান। মঙ্গলবার সকাল পৌনে দশটার দিকে অফিস সহকারি

মোস্তাক আহমেদ কার্যালয়ের ফটকের তালা খুলে ভিতরে ঢুকে দেখেন গোটা অফিস জুড়ে কাগজপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। অফিসের ষ্টাফদের ব্যবহৃত ষ্টীলের ও কাঠের সাতটি ফাইল কেবিনেট ও টেবিলের ড্রয়ার ভেঙ্গে ফাইলপত্র তছনছ করা হয়েছে। অফিস সহকারির মাধ্যমে খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক অন্যরাও দ্রত অফিসে এসে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল,সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসারসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন।

পুলিশের উপস্থিতিতে দেখা যায়,অফিসের সম্মেলন কক্ষের দেওয়াল কেটে দুবৃত্তরা ভিতরে প্রবেশ করে গোটা অফিস তছনছ করেছে। তারা প্রথম আলোর সাংবাদিক আনোয়ার পারভেজের ফাইল কেবিনেটের ড্রয়ারের তালা ভেঙ্গে সংবাদের তথ্য-উপাত্তের নানা নথি এবং কাগজপত্র মেঝেতে ঢেলে তছনছ করেছে। এছাড়া ড্রয়ারে রাখা অফিসের মোটরসাইকেলের রেজিষ্টেশনের মূলকাগজপত্র, ব্যাংকের অস্বাক্ষরিত চেক-বই নিয়ে গেছে দুবৃত্তরা।

প্রতিনিধির ড্রয়ার ছাড়াও দুবৃত্তরা অফিস ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারুকুল ইসলাম, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক জাকির হোসাইন ও ফটো সাংবাদিক সোয়েল রানার ড্রয়ার ভেঙ্গে কাগজপত্র তছনছ করেছে। এরমধ্যে শরিফুল ইসলামের ড্রয়ার থেকে নগদ প্রায় দুইহাজার টাকা, জাকির হোসাইনের ড্রয়ার থেকে নগদ একহাজার দুইশত টাকা এবং ফারুকুল ইসলামের ড্রয়ার থেকে নগদ ৫০০ টাকাসহ বেশকিছু কাগজপত্র খোয়া গেছে।

অফিস ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলামের কম্পিউটারের মনিটরও চুরি করে নিয়ে গেছে দুবৃত্তরা। কার্যালয়ের সামনের বেলকনির দরজা খোলা ছিল। ধারনা করা হচ্ছে,সামনের বেলকনির দরজা দিয়েই পালিয়েছে দুবৃত্তরা।

বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,‘ঘটনার আলামত দেখে মনে হচ্ছে দুবৃত্তরা সংখ্যায় ছিল হাতেগোনা কয়েকজন। শুধু চুরির জন্য এভাবে কেউ দেওয়াল কেটে কার্যালয়ে হানা দিয়েছিল বলেও মনে হয়না। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে কার্যালয়টিকে ব্যাংক ভেবেছিল দুবৃত্তরা । অপরাধীদের সনাক্ত করতে পিবিআইয়ের দলকে ডাকা হয়েছে। এছাড়া খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

পুলিশ ব্যেূরো অব ইনভেষ্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকতার হোসেন বলেন,‘ঘটনার পরপরই পিবিআইয়ের চৌকশ দল সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করেছে। এসব আলামত অপরাধ বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। অপরাধী সনাক্ত করার ব্যাপারে পিবিআই শতভাগ আশাবাদী।’

সর্বশেষ