পালিয়ে বেড়াচ্ছেন হামিদ মীর

সোমবার, জুলাই ২৭, ২০১৫

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

hamid mirপলাতক জীবনযাপন করছেন জনপ্রিয় পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মীর। কোথায় যাচ্ছেন, কোথায় তাকে পাওয়া যাবে কিংবা কোথায় রাত কাটাবেন এসব ব্যাপারে অত্যন্ত গোপনীয়তা অবলম্বন করছেন তিনি।

তার অফিস কক্ষে সব সময়ই পর্দা নামানো থাকছে। তিনি অন্তত দু’টি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। নিজের অবস্থান গোপন রাখার জন্য তিনটি বাসস্থানের মধ্যে ঘুরে ফিরে অবস্থান করছেন। এমনকি ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে স্পষ্ট করছেন না নিজের অবস্থান।

এত সতর্কতা সত্ত্বেও অফিসে যাওয়ার সময় তার বুলেটপ্রুফ গাড়িতেও তাকে নার্ভাস ও উদ্বিগ্ন মনে হয়। মীর যে তার অবস্থান লুকাচ্ছেন তা নয়, এক বছর আগে করাচি এয়ারপোর্ট থেকে কর্মস্থল জিও টিভির অফিসে যাওয়ার সময় তার ওপর হামলার যে ঘটনা ঘটেছিল ফের সে রকম ঘটনা এড়াতে চাইছেন তিনি।
সে দিন রাস্তায় দাঁড়ানো এক বন্দুকধারী তাকে হত্যার জন্য গুলি চালিয়েছিল। যখন গাড়ির পেছনের সিটের দরজা ভেঙে তার বাহুতে গুলি লেগেছিল, তখন প্রকৃতপক্ষেই তিনি নতুন জীবন পেয়েছেন বলে মনে করছেন। তিনি বুঝতে পারেন যে দু’টি মোটরসাইকেলে চার ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করেছে।

হামিদ মীরের ওপর হামলা ও তাকে অব্যাহত হত্যার হুমকি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হামলার প্রতীকীরূপ। গণমাধ্যমের ওপর হামলার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান প্রটেক্ট জার্নালিস্টের তথ্য অনুযায়ী ইন্টারনেটের কল্যাণে তথ্য এখন সর্বব্যাপী হলেও প্রতি সাতজনে ছয়জন লোক তাদের সরকারের ব্যাপারে অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ের খোঁজ খবর রাখে না।

বিশ্বব্যাপী অন্তত তিন বছর ধরে সংবাদকর্মীদের জন্য কঠিন অবস্থা বিরাজ করছে। গড়ে প্রতি সপ্তাহে একজনেরও বেশি সাংবাদিক নিহত হচ্ছেন তাদের পেশাগত কারণে। সব মিলে এ সংখ্যা প্রায় ২০৫ জন।

চলতি বছর আরো অন্তত ৩৮ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ফ্রান্সের শার্লি এবদোর আটজন, ব্রাজিলে গুলিতে নিহত রেডিও সাংবাদিক, দুর্নীতির তদন্তের কারণে পুড়িয়ে মারা ভারতীয় এক প্রতিবেদক এবং আইএসের হাতে নিহত জাপানি সাংবাদিক।

জাতিসংঘের মুক্ত গণমাধ্যম গ্রুপের তথ্য মতে, ২০০১ সাল থেকে পেশাগত কারণে এখানে ৫২ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র দু’টি মামলা আমলে নেয়া হয়েছে।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট