চলে গেল বিষাদ আর বেদনার ঈদ!

শনিবার, জুলাই ২৫, ২০১৫

:: ইয়াকুব নবী ইমন ::

emonপবিত্র ঈদুল ফিতর এসেছিল। চলেও গেছে এক সপ্তাহ হলো। কেমন কেটেছে এবারের ঈদ এমন প্রশ্নের জবাবে আমি বলবো মোটেও ভালো নয়। আশা করি আমার সাথে আপনারাও একমত হবেন। বিশেষ করে যারা সমাজ সচেতন।

প্রতিবারের মতো এবারের ঈদের আগেও সরকার নানা হাক-ডাক দিয়েছিলো। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী, এমপি, পুলিশের আইজি, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, ইউএনও এবং ওসি সবাই ব্যস্ত শান্তিতে দেশবাসী ঈদ উদযাপনের আয়োজনে। কথার ফুলঝুরি আর হাক-ঢাক আমাদেরকে কিছুটা আশ্বাস্ত করেছিল। মনে মনে ধরে নিয়েছিলাম যাক-এবার হয়তো আল্লাহর ইচ্ছায় সরকারের চেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ন ঈদ উদযাপন করতে পারবো। কিন্তু বিধিবাম-আমাদের এই আশা গুড়েবালি।

যখন দেখি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে পুলিশসহ নিহত হয় সাধারণ জনগণ, সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয় ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষ, যানবাহনের চাকায় আম জনতা পৃষ্ট হয়না পৃষ্ট হয় তাদের স্বজনের সাথে ঈদ করার স্বাপ্ন, স্টেশানগুলোতে ভীড় জমানো যাত্রীদের কাছ থেকে ডাবল-রিডাবল ভাড়া আদায়, নেই প্রতিকারের কোন প্রদক্ষেপ, ঈদের দিনেও দেশব্যাপী খুনোখুনি। বিশেষ করে নোয়াখালীতে ঈদের দিন ও পরের দিন যুবদল নেতা হাবিব ও তিন ভাই খুন। এমন খুনের ঘটনার পর আমার এক সহযোদ্ধা সংবাদকর্মী অবশ্য তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক স্টাটাসে অনেকটা আক্ষেপের সাথেই একটি লেখা লিখেছিলেন।

যেটির সারমর্ম এমন- গত বছর ঈদের দিন সড়ক দূর্ঘটনার কারণে নিউজ কাভার করতে গিয়ে ঈদের জামাতটাই মাটি হয়েছিল। মনে করেছিলাম এবার ঈদটা ভালো যাবে, কিন্তু গেল না। সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর নিউজ কাভার করতে করতে যুবদল নেতা হাবিব হত্যার খবর আসে। এরপর সোনাইমুড়ীতে এক সাথে তিন ভাই খুনের ঘটনা ঘটে। এই নিউজগুলো করতে গিয়ে এবারের ঈদটাও মাটি হলো।

সহকর্মী তার লেখায় আমার মতো হাজার হাজার সংবাদকর্মীর কথাই বলে দিয়েছেন। তার মতো আমিও ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন এমন দু:সংবাদ নিয়ে সংবাদ করতে হয়েছে। তাহলে বুঝুন যেখানে পথে শত শত লাশের শারি, খুনোখুনিতে রক্তাক্ত বাংলার প্রান্তর সেখানে ঈদ শান্তিতে উদযাপন করি কিভাবে। তাই কিছু ঘটনায় আমাদের ঈদ আনন্দের জায়গায় বিষাদ ও বেদনায় পরিণত হয়। যা কারোই কাম্য নয়।

ঈদের আগে ও পরে বিভিন্ন ঘটনায়-দূর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি, সেই সাথে তাদের পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। চাই সরকারের কর্তাব্যাক্তিরা বিষয়গুলো নিয়ে এখনই ভাবুক আর কার্যকর ব্যবস্থা নিক। বাংলার প্রতিটি মানুষ থাকুক নিরাপদ, এই প্রত্যাশায়।

লেখক: ইয়াকুব নবী ইমন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক জাতীয় নিশান।