মনিটরিং সেল দূর্নীতির আখড়া

রবিবার, জুন ২১, ২০১৫

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

duj-21-06-15ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে রোববার সাংবাদিক নির্যাতন’ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সরকার কর্তৃক গঠিত মনিটরিং সেল পুণর্গঠন করে সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেছেন, সাংবাদিকদের রুটি রুজির অধিকার নিশ্চিতের জন্য সরকার মনিটরিং সেল গঠন করলেও ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থে আজ এ সেলটি দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

সভায় সাংবাদিক নির্যাতনকারী সংবাদপত্র ও মিডিয়ায় সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
সভায় আরও বলা হয়, যে সব পত্রিকা সাংবাদিকদের অধিকার হরণসহ অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত এবং দেনা-পাওনা পরিশোধে টালবাহানা করে তাদের বিরুদ্ধে সর্বস্তরে প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে আলাদা পর্যবেক্ষণ সেল গঠন করে ৮ম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদের কাগজ পত্র পুণরায় পরীক্ষার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সাংবাদিক নির্যাতন দিবস উপলক্ষে রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংগঠনের সভাপতি আলতাফ মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, ডিইউজের সাবেক সভাপতি মোল্লা জালাল, শাবান মাহমুদ, ডিইউজের সহ সভাপতি আতিকুর রহমান চৌধুরী, বিএফইউজে নেতা রহমান মুস্তাফিজ, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, রফিক আহমেদ, আতাউর রহমান, জামালউদ্দিন, সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ। সভা সঞ্চালন করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ।

প্রতিবাদ সভায় শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৯২ সালের ২১ জুন বিকালে গোটা সাংবাদিক কমিউনিটির উপর হামলা করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের পর এটি ছিল জাতীয় প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় হামলার ন্যাক্কারজনক ঘটনা। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার বিচার হয়নি।

আলতাফ মাহমুদ বলেন, পুলিশী নির্যাতনের ঘটনার পাশপাশি আজ সাংবাদিকদের অধিকার হরণ ও চাকরিচ্যুতিসহ নানামাত্রিক নির্যাতন বেড়ে গেছে। সংবাদপত্র মনিটরিং সেল আজ সাংবাদিকদের স্বার্থে নয়, মহল বিশেষের কায়েমী স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কুদ্দুস আফ্রাদ নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী সাংবাদিকদের স্বাধীনতার পথে আজ নতুন করে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৯৯২ সালের ২১ জুন বিকালে তদানীন্তন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মতিন চৌধুরীর নির্দেশে পুলিশ বাহিনী অতর্কিতভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবে হানা দিয়ে সাংবাদিকদের উপর নির্বিচার আক্রমণ চালালে সাংবাদিক নেতাসহ অন্তত ৫০ জন সাংবাদিক গুরুতর ভাবে আহত হন।

এরপর থেকে দেশের সাংবাদিক সমাজ ২১ জুনকে ‘সাংবাদিক নির্যাতন দিবস’ হিসাবে পালন করে আসছেন।
সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আসন্ন ঈদের আগেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সকল সাংবাদিক ও কর্মিদের ঈদ বোনাসসহ বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধেরও দাবি জানান।