মফস্বল সাংবাদিকতা: নতুন দিনের সন্ধানে…

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৮, ২০১৩

নাসিমূল আহসান::

mofossol journal নগরে ছুটছে সব। গ্রামের দরিদ্র মানুষ টাকা কামাইয়ের তাগাদায়, কলেজ পাশ করে শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আশায়, ভালো চিকিৎসার জন্য অসুস্থ রোগী! এভাবে সমুদয় সেবাকাঠামোগুলো বন্দি হচ্ছে আমাদের ঝলমলে নগরীতে। আর পাঁচটা ব্যবসা, কাঁচামালের গদি, শিক্ষাকে বেঁচবার জন্য বহুতল ভবনে নির্মিত তথাকথিত ‘বিশ্ববিদ্যালয়’, টাকাঅলাদের সর্বাধুনিক সেবা সরবরাহের জন্য চিকিৎসাকেন্দ্রের মতো আমাদের সাংবাদিকতা শিল্পও আজ রাজধানীর ঘেরে বন্দি। ‘অবিরাম বাংলার মুখ’র ভেতর যে কতো বিরাম চিহ্ন! সংবাদপত্রের মোটা হরফের শিরোনাম কিংবা টিভি সংবাদের জমকালো আয়োজনের সংবাদজুড়ে রাজধানী আর ক্ষমতাকাঠামোরই প্রবল প্রতাপ।

টেলিভিশনে প্রকাশিত রিপোর্টগুলোর বেশিরভাগই যেন রাজনীতি নামক মাঠের ফুটবল। প্রথম সংবাদটা যদি সরকারী দলের পায়ে, তো পরের সংবাদটা বিরোধী দলের জালে। আর মাঝে সাঝে, ভেতরে উপরের পাতায় যে সব সংবাদ আসে, সে যেন আর দশটা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়িত্ব পালনের মতো আনুষ্ঠানিক কাজ আর ভাবমূর্তি নির্মান ও রক্ষার সফর ।

পত্রিকার বেশিরভাগ পাঠক শহুরে শিক্ষিত মানুষ। বিজ্ঞাপন আর পন্যের বড় ভোক্তাও তারাই। তাই সংবাদপত্র বা টেলিভিশনের হর্তাকর্তারা শব্দ আর সময়ের স্পেস নিয়ে ভাবতে বসলে প্রথমে বিজ্ঞাপন দাতাদের কথা ভাবেন। পাঠকের মাথা না বেঁচলে তো বাজারে টেকা যাবে না। তাই গোটা রাজধানী আর ক্ষমতাকাঠামোর মধ্যে থাকা ব্যাক্তি ও বিষয়গুলোর জন্য রঙিন চকচকে পাতা, অন্যপিঠে দেশজুড়ে’র একপাতায় দেশের আশিভাগ মানুষের ম্যাড়ম্যাড়ে মাঝের পৃষ্ঠার সংবাদ।

সংবাদকে আমরা ভাগ ভাগ করে নিয়েছি, শহর আর গ্রামের ভৌগলিক ভাগবাটোয়ারার মতো। দেশ আর জনপদের খবর মানে মাঝের নির্ধারিত পৃষ্ঠা। অন্যদিকে রাজধানী, দেশের হর্তাকর্তা মানে পত্রিকার এপিঠ-ওপিঠ, সংবাদের শেষ-শুরু। আমাদের সাংবাদিকতা শিল্পে সংবাদকর্মীদের মধ্যেও রাজধানীর সাথে বাইরের এমন বিভাজন আছে যেটাকে কোনো কারনেই কেবলমাত্র স্থানিক দূরুত্বের কারনে সৃষ্ট নাম বিভাজনের ফ্রেমে বন্দি রাখার উপক্রম নেই । সম্পর্কটা খানিকটা ব্রাহ্মন-শূদ্রের মতো। ঢাকায় কাজ করি, তাই আমি পুরো সাংবাদিক, অন্যদিকে যেহুতু তুমি গ্রামে থেকে সংবাদ পাঠাও, তাই তুমি লেজ যুক্ত সাংবাদিক তথা মফস্বল সাংবাদিক। আমার ওয়েজ বোর্ড, তোমার মাঝে সাঝে শব্দগুনে টাকা। আমার গলায় বড় করে প্রেস, তোমার পরিচয়পত্রের আবার দরকার কি !

মফস্বল সাংবাদিকতা বনাম কেন্দ্রমুখি সাংবাদিকতা: সমস্যার সাতকাহন

পশ্চিমা সাংবাদিকতায় যাদেরকে স্ট্রিংগার বলে ডাকা হয়, আমাদের দেশে তারাই হলো সংবাদদাতা। এরা সংবাদপত্রের পূর্ণ কর্মচারী তো নন ই, বেতনভুক্তও নন। কিন্তু এরা নিদৃষ্ট সংবাদপত্র বা টিভি মিডিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন।

কেন্দ্রের সাথে প্রান্তের সেতু বন্ধন গড়বেন তৃণমূলের সাংবাদিকরা। লোকাল কনটেন্টগুলো নিজস্ব সংবাদমূল্যের জোড়ে সংবাদপত্রের পৃষ্ঠা আর টেলিভিশনের স্পেস জুড়ে থাকবে। স্থানীয় দূর্নীতি, মানুষের শোক দু:খগাঁথা সাফল্য আর সীমাবদ্ধতার কথাগুলো প্রচার হবে নাগরিক নানান ঘটনা আর সরকারি নানা উদ্যেগ আর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সাথে সাথে। গোটা গণমাধ্যম শিল্প পুরো দেশের কন্ঠস্বর হয়ে উঠবে। কেবল প্রধান প্রধান শহর আর শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেনীর বাইরে যারা খুব প্রান্তিক এলাকায় থাকেন, তারা পত্রিকার নিয়মিত পাঠক হবেন। সংবাদের বৈচিত্র, বিষয়ের বিভিন্নতা, সংবাদ তৈরি ও প্রকাশের ক্ষেত্রে কেন্দ্র-প্রান্তের বিভেদহীন একটা ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হবে, এমনই হওয়ার কথা ছিলো আমাদের গণমাধ্যমের চেহারা।

কিন্তু দেশের বিদ্যমান মফস্বল সাংবাদিকতা গ্রামীন সংবাদ সরবরাহের ক্ষেত্রে সেতুর কাজটি করতে পারছে না বা তাকে দিয়ে কাজটি করানো হচ্ছে না । উপরন্ত দেশের বেশিরভাগক্ষেত্রে কেন্দ্রনির্ভর সাংবাদিকতার যে বৃত্ত তার সাথে প্রত্যহিক সমান্তরাল যে দূরুত্ব টিকে আছে, সেটা স্থির থাকার পাশাপাশি বাড়ছে নানামুখি সমস্যারও।

বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিকতার বিভিন্নমূখী প্রবনতা ও বৈশিষ্টসমূহ বোঝাসহ এর সাথে সম্পর্কিত কেন্দ্রসংশ্লিষ্ঠ ফ্যাক্টরসমূহ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বর্তমান প্রবন্ধে দেশের প্রান্তে কর্মরত মফস্বল সাংবাদিকদের অভিমত ও অনূভুতি সমূহ উপস্থাপনের পাশাপাশি কেন্দ্রে কর্মরত সাংবাদিকের ভাষ্য উপস্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা সমূহ সম্পর্কে পাঠকের একটি স্পষ্ট ধারনা তৈরির পাশপাশি বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিকতা সম্পর্কিত একটি রেখাচিত্র আঁকার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

নোয়াখালির সাংবাদিক ও কলাম লেখক গোলাম মহিউদ্দিন নসু তার মফস্বল সাংবাদিকতা শীর্ষক প্রবন্ধে মফস্বল সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পয়সা উপার্জনের বিভিন্নমুখি উপায়, মফস্বল সাংবাদিকতার সাম্প্রতিকপ্রবণতাসমূহ সম্পর্কে আলোকপাত করে বলেন-

৫ম/৮ম শ্রেনী পাশের সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি নিয়ে যে লোকটি পত্রিকা বিলি করতো অথবা বিজ্ঞাপন খুজঁতো, তার পকেটে উপজেলা, জেলা বা বিশেষ প্রতিনিধির কার্ড । ইংরেজীতে নিজের ঠিকানাটা ভাল ভাবে লিখতে যার কষ্ট হবে, সেও ঢাকার ইংরেজী কাগজের প্রতিনিধির পরিচয় দিচ্ছে। পত্রিকা বিলি কারক; বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি; সংবাদদাতা; প্রতিনিধি; প্রতিবেদক সবই ঐ একজন মফস্বল সাংবাদিক। এক্ষেত্রে পত্রিকার কোন কোন সম্পাদকরা এ সূযোগে কার্ড ব্যবসা করেন। আবার মান মূল্যায়ন না করে ফ্যক্টরী মালিকের মতো অনেকটা বিনে পয়সায় খাটিয়ে নেয়।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর অতিথি লেখক আদিত্য আরাফাত তার মফস্বল সাংবাদিকতা ও কয়েকটি দীর্ঘশ্বাস শীর্ষক কলামে একটা বাস্তব ঘটনার অবতারনা করেন। তার নিজের ভাষায়-
২০০৯ সালের জুন বা জুলাই। আমি তখন একটা দৈনিকে কাজ করি। মোবাইল সাইলেন্ট করে গ্রাফিকস রুমে বসে কাজ করছি। একটু পর মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি ঐ পত্রিকার নরসিংদী প্রতিনিধির কয়েকটি মিসড কল উঠে আছে। কল দিয়ে আমি বলি-‘ভাই কি হইছে?’
নরসিংদী প্রতিনিধি বলেন, আমারেতো দারোয়ান দাঁড় কইরা রাখছে ২০ মিনিট ধইরা। ভিতরে ঢুকতে দিতাছে না। দারোয়ানকে বললাম তিন মাস আগে জয়েন করেছি এখনও পত্রিকার আইডি কার্ড পাই নাই। এদিকে মফস্বল ডেস্কের কেউ ফোন ধরতাছে না। কি নাজেহাল অবস্থা রে ভাই।
পরে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেক-টেক করে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হলো এ সাংবাদিককে। আফসোস করে বললেন, ‘রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে রিপোর্ট করি অথচ নিজের হেড অফিসে ঢুকতেই এই অবস্থা।’ ভিতরে ঢুকেও একপ্রকার অপমান বোধ করলেন এ মফস্বল সাংবাদিক। মফস্বল ডেস্কের অনেকেই তার সঙ্গে ভালো করে কথাও বলেননি। তিন/চারবার কিছু জিজ্ঞেস করলে একবার মাথা নেড়ে হ্যাঁ বা না সূচক জবাব দেয়। এ প্রতিনিধি ভেবেছিলেন সম্পাদকের সঙ্গে কথাবার্তা বলে যাবেন। সাহস করে সম্পাদকের রুমের দিকে যাচ্ছিলেনও। হঠাৎ সম্পাদকের পিএ বলছেন-‘এই এই কই যান আপনি? এডিটর লাঞ্চ করসে মাত্র, এখন ঘুমাইতেসে, এক ঘণ্টা রুমে যাওয়া যাবে না।’ এক ঘণ্টা বসে ছিলেন এ সাংবাদিক। সম্পাদকের ঘুম ভাঙলে হেড অফিসের সাংবাদিকদের যাতায়াত। ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন নরসিংদী থেকে আসা এ সাংবাদিক। একপর্যায়ে সম্পাদক রুম থেকে বের হলে সাহস করে এ প্রতিনিধি সম্পাদকের উদ্দেশ্য বললেন, ‘আমি নরসিংদী প্রতিনিধি। অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি আপনার জন্য।’ ব্যস্ত সম্পাদক হাঁটতে হাঁটতে তাকে বললেন, ‘পরে পরে, এখন সময় নেই। পিক আওয়ার চলছে দেখছো না।’ পত্রিকাটির সম্পাদক পাত্তাই দিলেন না তাকে।
হেড অফিসের লোকজনের ভাবখানা এমন যে তারা মনে করে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা পত্রিকার কোনো সাংবাদিকই নয়। মাঝে মাঝে মফস্বল সাংবাদিকদের এরকম হেনস্থা দেখে খারাপই লাগে। করপোরেট মিডিয়ার যুগেও ঢাকা আর মফস্বল সাংবাদিকদের সুযোগ সুবিধার দিক দিয়ে পার্থক্য অনেক। একজন হেড অফিসের সাংবাদিক যত সুযোগ সুবিধা পান তার সিকিভাগও পান না মফস্বল সাংবাদিকরা। ওয়েজবোর্ড পাওয়াতো দূরের কথা। মফস্বল সাংবাদিকতা নিয়ে মিডিয়া মোগলরা অনেক কথাই বলে থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রতিবছর বিভিন্ন দৈনিক জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি সম্মেলন করে মফস্বল সাংবাদিকদের নানারকম প্রতিশ্রুতি দেন সম্পাদক ও মালিকপক্ষ। কিন্তু প্রতিশ্রুতি প্রতিশ্রুতিই থেকে যায়। তা পূরণ হয় না।
মফস্বল সাংবাদিক আব্দুল হাদী সাংবাদিকতা নেশা না পেশা: মফস্বল সাংবাদিকতা বহুরুপ শীর্ষক প্রবন্ধে মফস্বল সাংবাদিকতায় কয়েক ধরনের সাংবাদিকের সন্ধান আমাদের জানান। তার মতে মফস্বলের সাংবাদিকরা সাধারনত সর্বদা নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত করে আর্থিক ফায়াদা লোটার ক্ষেত্রে সর্বদা তৎপর থাকেন। সারা দিন পুলিশ-থানা করে টাকা কামানোর চেষ্টায় রত থাকেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ত্বের পদলেহী হয়ে সংবাদ তৈরি, নিজস্ব সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে স্থানীয় পত্রিকা প্রকাশ করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরকে বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য বাধ্য করেন।
তার মতে, এসব পত্রিকার জন্য বেপোরোয়া হয়ে বিজ্ঞাপন খুজতে হয । সংবাদ আহরনের চাইতে টাকার পিছু ছুটতে হয় বেশি সময় । এরকম সাংবাদিকদের যন্ত্রনায পড়তে হয মাছ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পুলিশের ট্রাফিক পর্যন্ত। বেচারা মাছ বিক্রেতা বাজারে নিয়ে এসেছে পিরানহা মাছ কিন্তু সে জানেনা এটা বিক্রি করা অবৈধ। দেখলেন একজন সাংবাদিক । এইতো সেরেছে। কাছে গিয়ে বললেন এই বেটা এটা বিক্রি নিষিদ্ধ। তোকে আমি পুলিশে ধরিয়ে দেবো। বেচারা কি করবে বাধ্য হয়ে সাংবাদিক সাহেবকে হাতে টাকা ধরিয়ে দিলো পাঁচশো। তিনি টাকাটা নিয়ে চলে আসলেন এর পর মাছটি বিক্রি বৈধ হলো তার।
ট্রাফিক রাস্তায় দাড়িয়ে ডিউটি দেন রাস্তায়। কেউ কি অবৈধ গাড়ি চালাচ্ছে কিংবা চুরি করে কোন গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে কিনা ,গাড়ির কগজ পত্র ঠিক আছে কিনা ,এসব দেখতে গিয়ে তিনিও ড্রাইভারের কাছ থেকে ঘোষ নেন । এটা দেখে ফেলে সাংবাদিক। আর দেখলেই বিপদ। এক হাজার নিলে সাংবাদিককে দিতে হয় ৫০০ টাকা।
মফস্বলে সাংবাদিকতা করতে যে সব মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ার কথা সেরকম মানুষের সাথে সম্পর্ক না করে সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তি যারা তাদের পিছু ছুটে চলাই হলো মফস্বল সাংবাদিকের কাজ। এম পি মন্ত্রীর পিছু ছুটা ,তার সাথে পরিচিত হওয়া ভালো ভালো খাবার খাওয়া, খামের ভেতর টাকা নেওয়া এসব নিয়েই ব্যস্ত সবাই । বেশির ভাগ সাংবাদিক নেতাদের পকেটে ঝুলে থাকে। মফস্বল সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্যে হচ্ছে নিজের মটর সাইকেলের পেছনে সাংবাদিক লেখা, থানা ওসির সাথে কথা বলা, চেয়ারম্যান মেম্বারের সাথে আলাপচারিতা।
অন্যদিকে তিনি খুব করুণ শব্দবন্ধে সৎ সাংবাদিকের অবস্থান ব্যখ্যা করেন এইভাবে- অনেকক্ষেত্রে অফিসে বসে সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক স্টাফরা মনে করেন স্থানীয় প্রতিনিধি মানুষের কাছ থেকে ভুড়ি ভুড়ি টাকা নিচ্ছে । কিন্তু সততার সাথে যারা সাংবাদিকতা করে তাদের জুতার উপরিভাগ ভালো থাকলেও নিচের দিকে মাটি উঠে যায় ।
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র সংবাদকর্মী মুহম্মদ নাজিম উদ্দিন তার মফস্বল সাংবাদিকতা: ক্ষুধার অনলে পুড়ছে নীতি-নৈতিকতা শীর্ষক প্রবন্ধে উল্লেখ করেন-
মফস্বল সাংবাদিকতার পথটাকে নষ্ট করেছেন জেলার অনেক সম্পাদক। তারা তাদের পত্রিকায় যোগ্যতাবিহীন লোক নিয়োগ করে থাকেন। ফলে যে ছেলে সাংবাদিকতার ‘স’ বুঝে না সে কার্ড নিয়ে যা ইচ্ছা তা করে বেড়ায়। যেখানে সাংবাদিকদের দেখলে সমাজের কীটরা ভীত হয়ে থাকার কথা সেখানে আমাদের অনেক সাংবাদিককে বিভিন্ন মামলার আসামী ও নেশা দ্রব্য বিক্রেতাদের সাথে বন্ধুত্ব গড়তে দেখা যায়।
তিনি পাঠকদেরকে আরও জানান –
আমাদের পত্রিকাওয়ালারা কী অলিখিতভাবে প্রতিনিধি-সংবাদদাতার অনুমতি দিয়ে অপসাংবাদিকতার লাইসেন্স করে দিয়েছে তাদের? কোনো কাজ নেই, লেখালেখি নেই, অন্যের লেখা ধার করে চলে। নিধিরাম সর্দার (ব্যস্ত সাংবাদিক) সাংবাদিকদের ই-বা দোষ কী। সংবাদ সংগ্রহ ও পাঠানোর যে খরচ পড়ে, তা তো পত্রিকাওয়ালারা দেন না। কিছু কিছু পত্রিকা সম্মানীর নামে অসম্মানী ভাতা দিলেও তা একেবারে যৎসামান্য। তা দিয়ে সংসার চলার ভাবনা কল্পনাতীত।
প্রসঙ্গ: কোরবানী ঈদ ও মফস্বল সাংবাদিকতা শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি আরো জানান-
কোন পত্র-পত্রিকায় গ্রামীণ সাংবাদিকদের এ করুণ কাহিনির চিত্র কখনো উঠে আসেনি। ছাপাবে বলেও মনে হয় না। কারণ তারা অন্যায়-অনাচার ও বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণের কথা বলে। ফলোআপ করে। তারা নিজের কর্মীদের উপর কত নির্যাতন করেন, সেই কথা কেন জানবে জনগণ-পাঠক-দর্শকশ্রোতা। মিডিয়া এখন শিল্প মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হলেও কর্মীদের জীবন যেন নগণ্য নাগরিকেরা মর্যাদায় পরিগণিত। উদাহরণ টানলে দেখা যায়, গার্মেন্টস শিল্পে বেতন-বোনাস ও ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংগ্রাম-লড়াই হয়। মিডিয়া আর পত্রিকাওয়ালারা তা পুঁজি করে পত্রিকার কাটতি বাড়ায়। সংবাদ-মিডিয়াকর্মীদের আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তেমন কী পাত্তা পায়। সাংবাদিকেরা যে কাগজের জন্য প্রাণ হারায়, সেই পত্রিকায়…। কিন্তু আমাদের দেশের মালিকপক্ষ ও ডাকসাইটের সাংবাদিক নেতারা নিজেদের অধিকার-স্বার্থ নিয়ে নিজেরা অনঢ়। সেখানে পিছিয়ে থাকা-অবহেলিত গ্রামবাংলার সাংবাদিকদের খোঁজ নেওয়ার সময় কী তাঁদের আছে।
সম্পর্কটা স্পষ্টতই শোষনের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মালিকপক্ষ বেতন মর্যাদা সরবরাহ করে না, আর মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকরা পেশাদারিত্ব, নিজ কর্তব্যকে জলাঞ্জলি দিয়ে চাঁদাবাজী করছেন। অন্যদিকে কেন্দ্রমূখী সাংবাদিকতার চেহারা, আদর্শিক অবস্থান ও প্রান্তের সাথে সম্পর্কের রাজনীতি-অর্থনীতির কারনে মফস্বলের সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়ছে না। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন গ্রহনের সুযোগ বাড়ছে না। সংবাদ প্রতিষ্ঠানসমূহ লোকাল কনটেন্টসমূহকে গুরুত্ব না দেয়ার কারনে মফস্বল সাংবাদিকদের মধ্যে পেশার প্রতি কমিটমেন্ট, নিজেদেরকে গুরুত্বপূর্ন মনে না করায় ঘটি বাটি আলু পটল বিক্রি করার মতো সাংবাদিকতাও হয়ে উঠছে সংবাদপণ্য বিক্রি, সেটাকে পুঁজি করে অর্থনৈতিক ফায়দা লোটার ব্যবসায়িক ফাঁদ। যার মাঝে আটকে যাচ্ছে সাধারন মানুষের মৌলিক মানবাধিকার, স্থানীয় রাজনৈতিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন, প্রতিদিনকার লড়াই, সংগ্রাম আর প্রতারিত হওয়ার ঘটনাগুলো।

মফস্বল সাংবাদিকতা: নতুন পথের সন্ধান

সাধারনত প্রান্তের সংবাদগুলো কেন্দ্রে পাঠানোর কাজে নিয়োজিত এই মফস্বল সাংবাদিকরা প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত ‘সংবাদ মূল্য’র মাপকাঠিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাশ করতে পারেন না । আর সে কারনেই তাদেরকে বেতনভূক্ত পূর্ণকর্মচারীর বেতন দেয়া হয় না। এর পেছনে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো, মফস্বলের সাংবাদিক নিয়োগের ক্ষেত্রে যেমন যোগ্যতার যাচাইবাচাই করা হয় না, তেমনি দেশের সামগ্রিক সাংবাদিকতা প্রশিক্ষন কাঠামো কোনো অর্থেই প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করার ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ নয়।

মফস্বল সাংবাদিকতার সুষ্ঠু বিকাশ ঘটাতে হলে এবং এর পাশাপাশি দেশের কেন্দ্রীয় ¯্রােতে গ্রাম বাংলার মানুষের কন্ঠস্বর তুলে আনার জন্য গোটা ব্যবস্থাপনাকে বদলাতে হবে। এক্ষেত্রে দেশের গণমাধ্যম শিল্পের কর্তাব্যাক্তি, সরকারী গণমাধ্যম সহায়ক প্রতিষ্ঠানসমূহ, বিদ্যায়তনিক ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ছাড়াও স্বয়ং সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালনের সুযোগ আছে ।

ক্স প্রশিক্ষন ব্যবস্থাপনার বিকেন্দ্রিকরন ও পরিসর বৃদ্ধি :

মফস্বল সাংবাদিকতার বিকাশ ও গ্রাম বাংলার শক্তিশালী কন্ঠস্বর তৈরির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনের বিকল্প নেই। দেশে বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত সাংবাদিকদের মান্নোয়নের জন্য ও গ্রামীন বিষয়াবলীকে সংবাদ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার জন্য সাংবাদিকদের প্রশিক্ষন সরবরাহ করতে হবে । এক্ষেত্রে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ঠ সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা পরিসরের গণমাধ্যম প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠান নির্মানের পাশপাশি সেখানে যাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষাটুকু মফস্বলের সাংবাদিকদের সরবরাহ করা যায়, সে ব্যাপারে আন্তরিক মনোযোগ দরকরা। বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষন সংশ্লিষ্ঠ অবকাঠামো নির্মিত হলে সেটা গ্রামীন সংবাদিকতায় যেমন পেশাদারিত্বের চরিত্র নির্মানে সহায়ক হবে, তেমনি দেশে কর্মরত হাজার হাজার উদ্যমি তরুন সাংবাদিকদের মানসম্মত কাজে শিক্ষিত ও উৎসাহিত করে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

ক্স প্রশিক্ষন প্রদানের ক্ষেত্রে ডিজিটাল মিডিয়ার ব্যবহার:

তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে সাংবাদিকতা শিল্পে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে । নব্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মফস্বলের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ও কার্যকর পরিবর্তন সাধন করা সম্ভব। সরকার চাইলেই এমন একটি ওয়েবপোর্টাল নির্মান করতে পারে, যেখানে মফস্বল সাংবাদিকদের জন্য সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ঠ সমুদয় তথ্য, বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষন ম্যানুয়্যাল থাকবে । পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকতার শিক্ষকদের সাহায্যে বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিও লেকচার তৈরি করে মফস্বল সাংবাদিকদের জন্য উপস্থাপন করতে পারে। এছাড়া মফস্বল সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয়, ঘটনা, পরিপ্রেক্ষিত সম্পর্কে আলোচনা, প্রশ্ন, সমস্যার সমাধান চাওয়ার জন্য অনলাইন স্পেস করে দেয়া যেতে পারে, যা মফস্বল সাংবাদিকদের গুনগত মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের সাথে দেশের প্রান্তে কর্মরত সাংবাদিকদের মিথষ্ক্রিয়া তৈরির মাধ্যমে আমাদের মফস্বল সাংবাদিকতার একটা অন্যরকম চেহারা নির্মানে তথ্যপ্রযুক্তির এ ব্যবহার এখন সময়ের দাবি।

ক্স মফস্বল সাংবাদিকতার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও আইন তৈরি:

আমাদের মফস্বল সাংবাদিকতার দীর্ঘসময়ের চারিত্রিক স্খলনের ইতিহাস, এর ভেতরকার বিভিন্ন অনিয়ম, অপসাংবাদিকতার বিষয়গুলো আক্ষরিক অর্থেই মাথা ব্যাথার কারন। এক্ষেত্রে মফস্বল সাংবাদিকতার জন্য একটি সুনিদৃষ্ট নীতিমালা প্রনয়ন ও সেটা যাতে সাংবাদিকরা মেনে চলে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইন প্রনয়ন করতে হবে। দূর্নীতিবাজ সাংবাদিক, যারা সাংবাদিকতাকে চাঁদাবাজির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের হাত থেকে মফস্বল সাংবাদিকতার উদ্ধার ও গ্রামের সহজ সরল মানুষের সত্যিকার কন্ঠস্বর তুলে আনবার জন্য গ্রহনযোগ্য, যৌক্তিক, সাধারন মানুষের স্বার্থঘনিষ্ঠ সাংবাদিকতার উন্মেষ ও বিকাশের জন্য মফস্বল সাংবাদিকতা নীতিমালা প্রনয়ন ও এর কার্যকর ব্যবহারের প্রতি নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে।

ক্স মফস্বল সাংবাদিকদের বেতন, প্রাপ্ত মর্যাদা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিতকরণ:

কেন্দ্রের মতো প্রান্তেও যারা কাজ করছে, তাদের প্রতি সমান গুরুত্ব দেয়া উচিত। যোগ্য, উদ্যমি মফস্বল সাংবাদিককে তার যথার্থ ও প্রয়োজনীয় বেতন দিতে হবে। সাথে পাওনা মর্যাদা। যে দেশে বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে, সে দেশে সাংবাদিকতাশিল্পকে অবশ্যই জনমূখী হওয়া উচিত। সমাজ আর মানুষের সাথে সাংবাদিকতার যে সম্পর্ক, সরকার আর রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহীতা, দূর্নীতি আর অনিয়মের বিষয়গুলো বিরুদ্ধে গোটা দেশের সাংবাদিকদের এগিয়ে আসতে হবে।

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান যখন তার মফস্বলে কর্মরত সংবাদকর্মীদের সাথে শোষনের সম্পর্ক বজায় রাখে, তখন সেখানে মফস্বলের সাংবাদিকদের কাছ থেকে সবটুকু আন্তরিকতা আর নিষ্ঠা প্রত্যাশা অনৈতিক হয়ে উঠে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম মালিকদের উচিত হবে মফস্বল সাংবাদিকদেরকে সুনিদৃষ্ঠ ও পর্যাপ্ত বেতনকাঠামোর আওতাভূক্ত করা এবং তাদের প্রাপ্ত সম্মান দেয়া। এর ফলে বর্তমানে মফস্বল সাংবাদিকতার যে চেহারা, তার চেয়ে ভিন্নতর দৃশ্য আমার দেখতে পারি, যা দেশকে ভিন্ন জায়গায় দাড় করানোর সম্ভবনা রাখে।

ক্স নিয়োগের বিষয়টিকে গুরুত্বপ্রদান ও নিয়োগ পরবর্তি প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা:

বাংলাদেশে ‘নিয়োগ’ একটি ভয়ংকর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সেটা আরো ভয়াবহ। বড় ভাই, ছোটো ভাই, পরিচিত ভাই, আত্মিয় ছাড়া সাংবাদিকতার লাইনে আসা বেশ দূরুহ ব্যপার বটে। আর মফস্বল সাংবাদিকতায় দৃশ্যটা আরও গোলমেলে। মালিকপক্ষের গ্রামীন সাংবাদিকতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত আগ্রহ না থাকা অথবা গ্রামের পাঠক সংখ্যার অপ্রতুলতার বিষয়টি বিজ্ঞাপন আর বেঁচাবিক্রির মাপকাঠিতে জিততে না পারার কারনে নিয়োগের ব্যপারে কর্তাব্যাক্তিরা মনোযোগী হন না। দ্বিতীয়ত তারা সম্ভবত নিয়োগের ক্ষেত্রে অযোগ্য লোকটিকে বেছে নেন, তাকে কম পয়সায় বা একদম পয়সা না দিয়ে খাটানো যাবে বলে।

কিন্তু সামগ্রিক অর্থে দেশের সাংবাদিকতা শিল্পকে এগিয়ে নিতে গোটা দেশকে নিয়ে না ভাবার বিকল্প নাই। সেক্ষেত্রে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানসমূহকে যেমন মফস্বল সাংবাদিকতার দিকে চোখ ফেরাতে হবে, তেমনি সাংবাদিক নিয়োগের ক্ষেত্রে তার মান, যোগ্যতা, কাজের দক্ষতা বিবেচনায় আনতে হবে। এছাড়া নিয়োগ পরবর্তি সময়ে মফস্বলের সাংবাদিককে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষনের মাধ্যমে উপযোগি করে নিতে হবে। যাতে মফস্বলের ঘটনাগুলো দক্ষ হাতে উঠে আসে পত্রিকার পাতায়। মানুষ তার ন্যায্যটুকু পায়।

ক্স সাংবাদিকতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের পাঠ্যক্রমে গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যূসমূহকে অন্তর্ভূক্তকরণ ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরি করা:

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ চালু আছে। নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সাংবাদিকতা অধ্যায়নের ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের বিদ্যায়তনিক কাঠামোগুলোতে পশ্চিমা পাঠ্যরীতি, বইপত্র, বাজারমুখীন সংস্কৃতির বলয়ে গ্রামীন ইস্যূগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয় না। লোকাল কনটেন্ট গুলো নিয়ে সাংবাদিক কিভাবে গণমাধ্যমে কাজ করবে, সে ব্যাপারে থাকে না কোনো আগ্রহ উদ্দীপক পাঠ। পাশপাশি কেন্দ্র নির্ভর সাংবাদিকতায় গ্রামে গিয়ে কাজ করায় কোনো হিরোইজম নেই বলে সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীরাও আর আগ্রহ প্রকাশ করেন না গ্রামীন সাংবাদিকতার দিকে।

গ্রামের বিষয় বৈচিত্র, মানুষের করুণ অবস্থা, ঘটনাগুলোর সংবাদযোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শিক্ষার্থীকে কোনো ধারনা দেয় হয় না আমাদের প্রচলিত পাঠপদ্ধতি। মফস্বল সাংবাদিকতার বিকাশে এ দৃশ্যগুলোর বদল ঘটাতে হবে। প্রয়োজনীয় আর্থিক নিরাপত্তা আর মফস্বলে কাজের চ্যালেঞ্জ দিয়ে সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীকে উসকে দিতে পারলে সেটা সমস্ত সাংবাদিকতা শিল্পের জন্য আর্শিবাদ হয়ে উঠবে।

ক্স মফস্বল সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সরবরাহের ব্যপারটিকে নিশ্চিত করা:

মফস্বলের সাংবাদিককে একটা ছোট্ট গন্ডির মধ্যে কাজ করতে হয়। চারপাশের সবাই তাকে চেনেন। গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ তাকে বেতন বা পূর্ণ কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ না দিলেও ঐ নিদৃষ্ট এলাকায় তিনি সংবাদ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিত্ব করেন। আর মফস্বল সাংবাদিককে একাই একটা এলাকার সবধরনের রিপোর্ট করেন। মাদক চোরাচালন বা ডাকাতির ঘটনাটি যেমন তাকে লিখতে হয়, তেমনি এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের ঘুষ বা দূর্নীতির ঘটনাটিও তাকেই কভার করতে হয় । আর সেকারনে মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকরা অধিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকেন। মফস্বলের ক্ষমতাকাঠামোর সাথে লড়াই করে টিকে থাকার সামর্থ্যটুকু অনেকক্ষেত্রেই সাংবাদিকের থাকে না। সেক্ষেত্রে সংবাদ প্রতিষ্ঠানকেই সাংবাদিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নিরপত্তা সরবরাহের ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেতে পারে।

ক্স প্রয়োজনীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সরবরাহ ও প্রযুক্তি স্বাক্ষরতা নিশ্চিত করা:

সংবাদ আদানপ্রদান, সংগ্রহ প্রভৃতির ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার ঘটছে নগরে। সাংবাদিকদের ল্যাপটপ সরবরাহ, পুরো অফিসের সকল সাংবাদিকের জন্য কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ সরবরাহ করা হয়। টেলিভিশন রিপোর্টারদের জন্য যখন তখন ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। কিন্তু মফস্বলে তথ্য প্রযুক্তি বেশ অপ্রতুল। যেসব সাংবাদিক নিজের গাটের টাকা পয়সা খরচ করে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয় করতে পারেন, তারা মোটামুটি কাজ চালিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু যাদের সে সাধ্য নেই তাদের পড়তে হয় নানা বিপদে, বিড়ম্বনায়। কিন্তু মফস্বলে কাজের মান, তাৎক্ষনিকতা বাড়াতে হলে যোগ্য সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রযুক্তি সরবরাহ করা যেতে পারে। এটা তাদের পেশাদারিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ে সংবাদ প্রেরন, প্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ করার কাজটি সহজ করে তুলবে।

এছাড়া মফস্বলের সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার প্রশিক্ষন সরবরাহের পাশাপাশি তারা যাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সাক্ষরতা অর্জন করতে পারে সে ব্যাপারে কাজ করতে হবে। এটা তাদের কাজের মানকে যেমন উন্নতি করবে, তেমনি সংবাদ প্রেরনে তাৎক্ষনিকতা নিশ্চিত করবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এর ব্যবহার ও কলাকৌশল সম্পর্কে সহজতর পন্থায় মফস্বল সাংবাদিকদের জানাতে হবে। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিভাবে ইন্টারনেটকে ব্যবহার করা যায়, সঠিক বিশ্বাসযোগ্য তথ্য খুঁজে বের করার পাশাপাশি কোন তথ্যটা ব্যবহার করা যাবে না, সে ব্যপারে তাদের জানাশোনা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়তা করতে হবে। এছাড়া মেইল, ফাইল শেয়ারিং প্রভৃতির মাধ্যমে দ্রুত কাজ করার কলাকৌশল গুলোকে শেখাতে হবে। বিভিন্ন নিউজটুল ব্যবহারে সক্ষমতা তৈরির জন্য কর্মশালা, প্রশিক্ষন ব্যবস্থার আয়োজন করা যেতে পারে। তাছাড়া তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার মফস্বলের সাংবাদিকদের মধ্যে কমিউনিটি যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এটা করতে পারলে মফস্বল সাংবাদিকদের নিজেদের পরিসরে যোগাযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি প্রধান অফিসের সাথে যোগাযোগ ত্বরান্বিত হবে, যা মফস্বল সাংবাদিককে কখনোই অফিস থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দেবে না।
মফস্বল সাংবাদিকতা: সম্ভাবনার ওপিঠ…

একজন মফস্বল সাংবাদিক সাংবাদিকতার কেন্দ্র-প্রান্ত সম্পর্কের মাঝখানে সেতু হয়ে উঠতে পারেন। গ্রামীণ মানুষের শোক, সুখ আর দু:খগাঁথা তার কলমের শক্ত গাঁথুনিতে জায়গা করে নিতে পারে পত্রিকার প্রধানতম জায়গা। টেলিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ টাইমস্পেস। আর এ রকম প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে এগুতো পারলে দেশের সামগ্রিক সাংবাদিকতায় দেখা যাবে বিপুল বৈচিত্রময়তা, কেবল রাজধানীর ঘেরে আটকে না থেকে সংবাদপ্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে গোটা দেশের।

মফস্বল সাংবাদিকতার সামগ্রিক প্রবনতা পরিবর্তন করতে পারলে যে সব প্রাপ্তিগুলো আমাদের অর্জনের খাতায় জড়ো হতে পারে, সেগুলোর মধ্যে-

ক্স বিদ্যমান সাংবাদিকতাশিল্প’র প্রচলিত কেন্দ্র নির্ভরতা ভেঙে গোটা দেশের কন্ঠস্বর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা

গ্রামবাংলার মানুষের যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ, স্থানীয় প্রশাসনের অনিয়ম, দুর্নীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য,কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যেক্তার সাহসী পদক্ষেপ কিংবা গ্রামের পরিবেশ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, জীবন যাপন প্রভৃতি সংবাদপত্রের পাতায় তুলে আনার টোটাল সাংবাদিকতা মানোন্নয়ন সম্ভব। বর্তমানে দেশের মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে কাঙ্খিত মাত্রায় কনটেন্ট ডেভেলপ হচ্ছে না। একই ঘটনা ঘুরে ফিরে বিভিন্ন মোড়কে হাজির হচ্ছে পাঠকের সামনে। কাঠামোব্ধ হয়ে পড়েছে সাংবাদিকতা শিল্প। সংবাদঘটনাগুলো প্রকাশিত হচ্ছে নির্ধারিত কাঠামোতে। ভাষা, শৈলীতেও পূর্বনির্ধারিত গতানগতিকতা। মফস্বল সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটলে, দেশের সর্বত্র মেধাবী, দক্ষ মানুষের হাতে মফস্বল সাংবাদিকতা দায়িত্বটি পড়লে সেটা দেশের সামগ্রিক সাংবাদিকতার চেহারাকেও বদলে দেবে।

ক্স সংবাদে বৈচিত্র ও বহুমাত্রিকতার সঞ্চরণ:

পরিকল্পিত পথে মফস্বল সাংবাদিকদের পরিচালিত করা গেলে এবং তাদের মান ও কর্মদক্ষতা বাড়ানো গেলে প্রতিনিয়ত সারাদেশ থেকে নতুন স্বাদের নতুন নতুন সংবাদ ঘটনা হাজির হবে। কেন্দ্রনির্ভর সংবাদ বিবরনীগুলোর পাশে লোকাল ঘটনাগুলো গুরুত্বের সাথে তার অবস্থান দখল করে নেবে। সাংবাদিকতার চিরন্তন যে উদ্যেশ্য, মানবমুক্তি, ন্যায়ের বিচার, সমাজে স্বচ্ছতা তৈরি, এ ব্যাপারগুলো পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা, আমাদের সাংবাদিকতা আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবো।

ক্স ফটো সাংবাদিকতার পরিসর বৃদ্ধি ও পত্রিকার উপস্থাপন শৈলীতে পরিবর্তন:

যদি দেশের মফস্বল সাংবাদিকদের মধ্যে ফটো সাংবাদিকতা সম্পর্কিত জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়া যায় এবং ছবি তোলার কায়দাকানুন সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়, তাহলে সেটা দারুন ব্যপার হতে পারে। সারা দেশ থেকে অসংখ্য বৈচিত্রময়, শক্তিশালী ছবি জড়ো হতে পারে পত্রিকার অফিসে। এই ছবিগুলো পত্রিকার উপস্থাপনা শৈলীতে ব্যপক গুনগত পরিবর্তন করতে পারে।

ক্স পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি ও সাংবাদিকতার আধুনিকায়ন

মফস্বলে পাঠক কম। তাই বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে তাদের আবেদন কম। এজন্য তাদের সংবাদ কম ছাপা হয় কম। টেলিভিশনে খুব একটা ভেসে ওঠে না তাদের মুখ। এটা যেমন বর্তমানের বাস্তবতা, তেমনি এই মফস্বল সাংবাদিকতাই হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যৎ সাংবাদিকতার প্রান।

দেশের বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। মফস্বলে শিক্ষিতের হার বাড়ছে, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে, বিভিন্ন সিটিজেন মিডিয়া টুলের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে, ইন্টারনেটের কল্যানে তথ্য খোঁজার অভ্যাসের পরিবর্তন ও তথ্য চাহিদা বদলাচ্ছে। তাই পাঠক হিসেবে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ মফস্বলের মানুষকে লক্ষ্য করতে পারে। আরো ব্যপক মাত্রায় লোকাল কনটেন্ট এর সরবরাহ করতে পারে। যা পত্রিকাকে শহর থেকে গ্রামে তার বিস্তার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহীতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরনের জন্য সাংবাদিকতার যে কাক্সিকত ভূমিকা, সেটা পালনের পাশপাশি গোটা দেশের সকল মানুষের গণমাধ্যম হয়ে উঠার সম্ভাবনা আছে ভবিষ্যত সাংবাদিকতার। বর্তমানে মফস্বল এলাকার বিভিন্ন বৈচিত্রময় ঘটনা, দুর্ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতির সংবাদগুলো প্রকাশিত না হওয়ায় বিভিন্ন এলাকার পাঠকরা আর পত্রিকা পড়তে আগের মতো উৎসাহী হয়ে উঠছেন না। সেক্ষেত্রে সাংবাদিকতার বিকাশে মফস্বল সাংবাদিকতার বিকাশ ও আধুনিকায়নের বিকল্প নেই।

সাংবাদিকতায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার: নতুন পরিসরে, নতুন অবয়বে…

তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বজুড়েই কেন্দ্র নির্ভর সাংবাদিকতা বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সাধারন জনগনের মাধ্যমে পালটা পাটাতন নির্মানের সুযোগ করে দিচ্ছে। মফস্বল সাংবাদিকরা যেমন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কেন্দ্রের সাথে আরো দায়িত্বশীল ও পেশাদার সম্পর্ক তৈরিতে সক্ষম হচ্ছে, তেমনি তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে দেশের সব মফস্বল এলাকায় তৈরি হচ্ছে নিজস্ব অনলাইন সংবাদপত্র। মফস্বল সাংবাদিকরা যেমন অজ¯্র অনলাইন কনটেন্ট ব্যবহার করছেন প্রতিদিন, তেমনি তারা উৎপাদনও করছেন এমন অজ¯্র সংবাদ সংশ্লিষ্ঠ কনটেন্ট। যা তাদের সংবাদ জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে । পাশপাশি দেশের তরুনদের মধ্যে বিভিন্ন সিটিজেন মিডিয়া টুল যেমন ব্লগ, পডকাস্ট প্রভৃতি ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিক সাংবাদিকতার চর্চা বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

এখন গুগল এ গিয়ে সার্চ দিলে যেমন অগনিত মফস্বলের অনলাইনের সংবাদ মেলে, তেমনি খুঁজে পাওয়া যায় নানান সিটিজেন মিডিয়ার। অনলাইনে মফস্বল সাংবাদিকতার বিকাশের যে ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে, এর পাশাপাশি সিটিজেন ও কমিউনিটি সাংবাদিকতার ছোটো ছোটো প্রবনতা আমাদেরকে নতুন দিনের দিকে চোখ ফেরাতে বলে। যেখানে পাঠকরা কেবল কেন্দ্র নির্ভর মিডিয়া ভোক্তা না হয়ে নিজেরাই মিডিয়া তৈরি করছে। বিশ্বপরিসরে নিজেদের অভাব অভিযোগ তুলে ধরছে নিজস্ব ভঙ্গিতে। তাই আমাদের মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার উচিত হবে, মফস্বল সাংবাদিকতার যে বিশাল সম্ভবনা, সেটাকে বোঝা। মফস্বল সাংবাদিককে গুরুত্বহীন না ভেবে বরং মফস্বল সংবাদাতাদের প্রতি শহরের সাংবাদিকদের মতোই সমান গুরুত্ব ও মর্যাদা দেয়া। দেশের সামগ্রিক সাংবাদিকতা চর্চার ক্ষেত্রটিকে আরো কার্যকর ও জনমুখী করে তোলা।

ভাবনাসূত্র :

১. আদিত্য আরাফাত (২০১১), মফস্বল সাংবাদিকতা ও কয়েকটি দীর্ঘশ্বাস,বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, ২৪ অক্টোবর, ২০১১ খ্রি:

২. আব্দুল হাদী (২০১১), সাংবাদিকতা নেশা না পেশা: মফস্বল সাংবাদিকতা, বাংলাদেশবার্তা.কম, ১০ ডিসেম্বর ২০১১ খ্রি: ।

৩. মুহম্মদ নাজিম উদ্দিন (২০১১), প্রসঙ্গ : কোরবানি ঈদ ও মফস্বল সাংবাদিকতা, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.ডটকম, ৬ নভেম্বর ২০১১ খ্রি:

৪. মজিবর রহমান (২০১০), মফস্বল সাংবাদিকতা, দৈনিক সমকাল, ৯ অক্টোবর ২০১০ খ্রি: ।

৫. শফিক আহমেদ শফি (২০১১), সংবাদপত্র-সাংবাদিকতা ও আমাদের দায়বদ্ধতা, সিলেটের আলাপ.কম, ১২ মার্চ ২০১২ খ্রি: ।

৬. মুহম্মদ নাজিম উদ্দিন (২০১১),মফস্বল সাংবাদিকতা, ক্ষুধার অনলে পুড়ছে নৈতিকতা, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.ডটকম, ২৩ নভেম্বর ২০১১ খ্রি: ।

৭. কামরুজ্জামান টুটুল, মফস্বল সাংবাদিকতা এবং কিছু মানসিকতা, চাঁদপুর কন্ঠ, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১০ খ্রি:

8. Michael Woods (2010), Reporting an Unsettled Countryside: The News Media and Rural Protests in Britain, journal of current cultural research, Volume 2, 2010: 215– 239.

9. Victor Ayedun-Aluma (), Why Journalists Don’t Work in the Village: The Rural Challenge to Nigerian Journalism, University Of Lagos, Akoka Lagos, Nigeria.

10. Bullock, Wyche & Williams (2001), Media images of the poor, journal of social science, vol-2, pp-229-246.

11. Ikechukwn E Nwosu(1998), Effective reporting of Rural Afrcia: Towords improve strategies and practices, Africa Media Review, Vol-2, No-3.

12. Guy Berger (2005), Doing Digital Journalism: How Southern African newsgatherers are using ICT, Published by Highway Africa, 2005.

13. Figueiredo, Câmara, Prado, Albuquerque (-), Empowering Rural Citizen Journalism Via Web 2.0 Technologies.

14. Cuthbert F. Alexander (2005), Community Journalism: Hope for a Society Without Heroes, Proceedings of the Media Ecology Association, Volume 6, 2005.

15. Fackson Banda, Citizen Journalism and democracy in Africa: An Exploratory Study, Published by Highway Africa.