দিগন্ত টেলিভিশনের সম্প্রচার শুরুর দাবি

বুধবার, মে ৬, ২০১৫

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

Diganta tvঅবিলম্বে দিগন্ত টেলিভিশনের সম্প্রচার শুরুর দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

দিগন্ত টেলিভিশনের সম্প্রচার সাময়িক বন্ধের দুই বছরপূর্তি উপলক্ষে বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রতিবাদী সংহতি সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংহতি সম্মেলনে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ বলেন, ‘জনগনকে ক্ষমতার উৎস বললেও বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে তাদেরকে ধোঁকা দেয়া হচ্ছে। তারা মনে করছে জনগণ কিছুই বোঝে না। অথচ জনগণ যা বোঝে তারাই তা বোঝেন না।’

সম্মেলনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘কয়েকদিন হল মুক্ত মিডিয়া দিবস গেছে, সেখানে মিডিয়ার অনেক সমলোচনা করেছেন তথ্যমন্ত্রী। কিন্তু যে সব মিডিয়া বন্ধ আছে সে সম্পর্কে তিনি (ইনু) কোন কথা বলেননি, এটা খুবই দুঃখজনক।’

সাংবাদিক কলামিস্ট মাহফুজ উল্লাহ বলেন, ‘যে সমাজে ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকে না সে সমাজ বেশি দিন টেকে না। দিগন্ত টেলিভিশন বন্ধের কারণে আমি দু’ধরনের কষ্টে আছি। প্রথমটি হচ্ছে সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে, দ্বিতীয়টি হলো যারা এখানে কাজ করেছে তাদের পরিবারের নিদারুন করুন কাহিনী নিয়ে।’

দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দীন বলেন, ‘আমি ৫০ বছর সাংবাদিকতা করছি। মিডিয়ার উপর এরকম পরিস্থিতি কখনও দেখিনি। আজকে নয়াদিগন্ত পত্রিকা অনেক জায়গাতে গোপনে পড়তে হয়। দিগন্ত এমন একটি টিভি যা কখনো অবজেক্টিভ থেকে সরেনি।’

সরকার হিটলারকে অনুসরণ করছে মন্তব্য করে মহিউদ্দীন বলেন, ‘হিটলার বলেছিল- জনগণ কিছু না, দুটি জিনিসকে নিয়ন্ত্রণ করলে ক্ষমতায় থাকা যায়। একটি হচ্ছে গণমাধ্যম। অপরটি হচ্ছে ধর্ম। সরকার তাই করছে।’

কলামিস্ট ও কবি ফরহাদ মাজাহার বলেন, ‘কিছু গণমাধ্যম সন্ত্রাসী মিডিয়া হিসেবে কাজ করছে। সাংবাদিক হয়েও যারা একটি দলের হয়ে কাজ করে তারা সরকারি দলের ক্যাডার ছাড়া আর কিছু নয়।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মিডিয়া বন্ধের জন্য শুধুমাত্র শেখ হাসিনাই দায়ি নয়, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীরা জড়িত। এটা ফেইল স্টেটের গভীর ষড়যন্ত্র। তবে ক্ষমতাসীনদের কপালে দুর্ভোগ আছে। কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি বাংলাদেশে শান্তি আসবে না, সামনে আরো কঠিন সময় অতিক্রম করতে হবে।’

দিগন্ত টেলিভিশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব এম এ আজিজ, ঢাবি শিক্ষক সুকমল বড়ুয়া, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ।