গণমাধ্যম স্বাধীন হলে সুফল পায় জনগণ

সোমবার, মে ৪, ২০১৫

:: কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ::

kustia 04-05-2015কুষ্টিয়ায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা ভবনে ইয়ুথ জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ওয়াইজেএফবি) কুষ্টিয়া জেলা শাখা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, টেলিভিশন জার্নালিষ্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিটিভির জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক বাংলাদেশ বার্তার সম্পাদক আবদুর রশীদ চৌধুরী। প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন, কুষ্টিয়া ল’ রিপোর্টাস ফোরামের সভাপতি এ্যাড. সিরাজ প্রামাণিক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ আমিনুল হক ও লেখক ও কলামিষ্ট হাসান টুটুল। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইয়ুথ জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ওয়াইজেএফবি) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি এস এম জামাল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে টেলিভিশন জার্নালিষ্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দৈনিক বাংলাদেশ বার্তার সম্পাদক আবদুর রশীদ চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। গণমাধ্যম স্বাধীন হলেই তার সুফল সরকার তথা জনগণ পায়। বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো আগের তুলনায় অনেকটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। দেশের সাংবাদিকরাও আজ অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা পেশা ঝুকিঁপূর্ণ তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে নিয়ম মেনে সাংবাদিকতা করলে অনেকটাই সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। তথ্য সংগ্রহ ও খবর প্রকাশ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা নানাভাবে হয়রানি, হুমকি, মামলা-হামলার মত ঘটনার শিকার হন। তাই সাংবাদিকদের সঠিকভাবে তথ্য নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করার আহবান জানান তিনি।

কুষ্টিয়া ল’ রিপোর্টাস ফোরামের সভাপতি এ্যাড. সিরাজ প্রামাণিক বলেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে মহান পেশা। অথচ বিভিন্ন সময় নানামুখী সমস্যায় পড়তে হয় সাংবাদিকদের। নির্মম হত্যাকান্ডের শিকারও হতে হয় তাঁদের। আশঙ্কার বিষয়, এসব হত্যাকান্ডের বেশির ভাগেরই বিচার হয় না। খোঁজ মেলে না খুনিদের। সাংবাদিক শামছুর রহমান, গৌতম দাস, বেলাল উদ্দিন, হুমায়ুন কবির বালু ও সাগর-রুনি দম্পতি হত্যাকান্ডসহ বিভিণœ সাংবাদিক হত্যা নিয়ে চলছে নানা টালবাহানা। এসব একেবারে অপ্রত্যাশিত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ সাংবাদিক আইনকানুন জানে না, যার ফলে অনেক সময় সংবাদ ও তার তথ্য পেতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আমাদের দেশের সাংবাদিকদের এমন অবস্থায় যেখানে চাইলে যে কেউ সাংবাদিক হতে পারে, যা পৃথিবীর অন্য কোনে দেশে সম্ভব হয় না। আর তাই সাংবাদিকদের সংবাদের নীতিমালা মেনেই সংবাদ পরিবেশন করা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

জেলা সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, মুক্ত সাংবাদিকতা কথাটি প্রকাশনা ও স¤প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যতটা প্রযোজ্য তার চেয়ে বেশি প্রযোজ্য একজন সৎ ও পেশার প্রতি পূর্ণ অনুগত বা কমিটেড সাংবাদিক কাজ করার ক্ষেত্রে পুরো অধিকারের কতটুকু ভোগ করতে পারছে তার ওপর। সত্য,ন্যায় ও দায়িত্বের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল ও দায়বদ্ধ সাংবাদিকরাই মুক্ত সাংবাদিকতার দাবীদার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

লেখক ও কলামিষ্ট হাসান টুটুল বলেন, গোটা বিশ্বের মধ্যে ৩টি পেশা ঝুঁকিপূর্ণ। সেটি হলো প্রথমত ব্যাংকার, দ্বিতীয়ত গণমাধ্যমকর্মীরা এবং তৃতীয়তা হলো পুলিশ। সাংবাদিকরা সমাজের আয়না। আর তাই গণ্যমাধ্যমের কর্মীরা সাহসীকতা নিয়ে কাজ করে থাকেন। গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের এই স্বাধীনতার সাথে সাংবাদিকদের নৈতিকতা এবং সরকার তথা দলের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই বিবেক দিয়ে গণমাধ্যম পরিচালনার করার আহবান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি এস এম জামাল বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার সচেতন করার লক্ষ্য নিয়ে আফ্রিকার নামিবিয়ার উইন্ড হোয়েক শহরে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত চলা এক সেমিনারে চূড়ান্ত করা হয় বিশ্ব মুক্ত সাংবাদিকতা দিবসের খসড়া।

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার আলোকে মুক্ত সাংবাদিকতার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বের প্রতিটির রাষ্ট্রের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের এই আহ্বানকে উপেক্ষা করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে খর্ব করা হয়। রাজনৈতিক লেজুড় পরিহার করে সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হতে হবে। কর্মক্ষেত্রে একজন গণমাধ্যমকর্মীর স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও আরাধ্য থেকে যাবে। আর তাই সকল সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দৈনিক আরশীনগর পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ইমাম মেহেদী। এসময় সাপ্তাহিক জাগরণী পত্রিকার সহ-সম্পাদক ডাঃ গোলাম মওলা, সংবাদ প্রতিদিন’র প্রতিনিধি সুজন কুমার কর্ম্মকার, দেশতথ্যের ষ্টাফ রিপোর্টার মুন্সী হাবিবুর রহমান, কালের ছবি পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ইমরান হাসান পাপ্পু, কুষ্টিয়া জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মাহমুদ হাসান, অর্থনীতির কাগজের প্রতিনিধি সালমান শাহেদ, আদিত্য লতিফ, ওহিদুল ইসলাম, আশিকুর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।