বন্ধুবর, জামাল’র প্রতি…

Thursday, 01/01/2015 @ 9:34 pm

newsmediaমানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণ একটা অধিকারও বটে। নিজেকে প্রকাশ করার, স্বগৌরব প্রকাশের বহতা বন্ধুবর, জামাল হোসেন বিষাদ দেখাবেন এটা ভাবাও যায় না। যদি তিনি সংবাদসূত্রের অস্তিত্বের প্রতি ভীতিকর ও হুমকিস্বরুপ না হন! বরং, এ নিয়ে হাসি, ঠাট্টা কিংবা কটাক্ষ করা কোন স্বার্থপর, অভদ্র ও অসহিষ্ণু লোকের লক্ষণ নয় কি!

জামাল হোসেন বিষাদ বলেছেন, নিজেকে পদাসীন করতে না পেরে হয়তোবা আমার এমন লেখা। এটা তাঁর কাছে সহজে বোধগম্য হওয়া সহজ, স্বাভাবিক ও রীতিশুদ্ধ। বরং, আমার সন্দেহ তো অনিয়মের পক্ষে সাফাই গাইতে দেখিনা। ইতোমধ্যে, কেউ হয়তোবা আত্মতুষ্টির জালে বন্দী!

আমি এ প্রেসক্লাবের সদস্য নয় এবং এর বর্তমান সাংবিধানিক কর্মকান্ডের খতিয়ান জেনে, শুনে ও বুঝে সদস্য হওয়ার কোন অভিপ্রায়ও রাখিনা। যা বলার তা নিদেনপক্ষে একজন সচেতন সংবাদকর্মীর আন্ত:চেতনার বহি:প্রকাশ মাত্র।

একইসাথে, বিনয়ের সাথে জানান দিতে চাই, প্রেসক্লাব সুবিধাভোগীদের। প্রেস ক্লাব নিয়ে কেউ খান, পরেন; কিংবা যাই ইচ্ছে, তাই করেন, এ নিয়ে অন্তত আমি দ্বিতীয়বার লিখতে চাইব না।

সাধারণত অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে কবি বন্ধুর মতো বলার দু:সাহস আমি রাখি না। বলেছিলাম, বর্তমান সংবিধান মেনেই বিগত ক্লাবের নের্তৃবৃন্দ অগণতান্ত্রিক ও অগঠনতান্ত্রিকভাবে সর্বোপরি একক খামখেয়ালিপনায় ক্লাব পরিচালনা করেছেন। একইসাথে অতীতের স্বেচ্ছাচারিতার শিক্ষাকে পদদলিত করে বন্ধুবর জামালের ইস্পাত কঠিন শপথের মধ্য দিয়ে, সে যুগের অবসান হবে, এটিও আমার দুরাশা নয়।

বন্ধুবর জামাল হয়তো জীবনেও কল্পনা করতে পারেননি তিনি এ ক্লাবের সদস্য বা বিনা ভোটে প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হবেন। এটা এক সময় সহজ হলেও বর্তমান সংবিধান এ ক্লাবের সদস্যপদ জটিল, কঠিন ও কঠোর করে রেখেছে।

বন্ধুবর জামালের লেখাটি পড়ে একটু ব্যথিত হয়েছি, তিনি আমার লেখাটির মূল সারগর্ভ ও সারমর্ম হতে বিচ্যুত হয়েছেন। আমি মূলত পরিমার্জিত সংবিধানের কার্যাবলী নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বলার চেষ্টা করেছি। এ সংবিধানের আগে বিগত সংবিধানের (২০১২ইং পূর্ব) কোথাও কোন নিয়ম লঙ্গিত হয়েছে, কি হয়নি (!) এ নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার কোন অবকাশ আমার মধ্যে নেই ও ছিল না। অতীতে যেহেতু, সংবিধানের অনার্স বোর্ড নিয়ে কোন কথা যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি, তাই এ নিয়ে আমার মাথাব্যথা না থাকাই স্বাভাবিক।

আমি ক্লাব সদস্য পদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে বন্ধুবর, জামালকে অতিউৎসাহী ও সুবিধাভোগী রেখে শুধু এটুকু বলতে চাই, এ লিখায় আপনার মতো নিয়মিত সুন্দর, সাজানো ও গোছানো বাচনভঙ্গিকারীকে ব্যথিত করার কোন হীনউদ্দেশ্য আমার মধ্যে কাজ করে না। আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা যাই থাকুক একটি সভ্য সমাজে আপনাকে নিয়ে কারো কোন আপত্তি হয় বলে আমি ভাবিনা। বলছিলাম, যেখানে দেশের “সংবাদপত্র প্রকাশনা আইনানুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলযোগ্য করা হয়েছে”। সেখানে এ সংবিধানে কিভাবে, কোন ব্যাখ্যায় এর বাধ্যবাধকতা যোগ করা হয়েছে। আবার, তা নিজেরাই ভাঙছেন।

বন্ধুবর, বর্তমান সংবিধানে স্থানীয় দৈনিকের যে বিষয়টি বলা রয়েছে, এটি স্পষ্টত বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশনা আইনেরও বিপরীত বটে। যেখানে মিডিয়াভুক্ত নির্দেশনায় দৈনিকের ক্ষেত্রে ৩ মাসের পত্রিকার ধারাবাহিকতার কথা বলা হয়। সেখানে এ সংবিধানে ৪ মাসের ১২০সংখ্যার চাহিদাটা একটু দৃষ্টিকটু নয় কি!

অতীত তদন্তের ভার উহ্য রেখে বন্ধুবর, বর্তমান ক্লাবের প্রভাবশালী নের্তৃত্বের দায়িত্ববোধ মাথায় রেখে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সবারই কাগজপত্র সঠিক, শুদ্ধ ও সত্যতা যাচাই করবেন আশা করি।

প্রিয় জামাল হোসেন বিষাদ, আপনি বলেছেন আজ থেকে সাত বছর আগে এ প্রেসক্লাবের সচলায়তন শুরু হয়েছে। কিন্ত, আপনি কি চোখ বুঁজে হিসেব মেলাবেন, তা কতটুকু! বড়জোর, জুয়াড়ীদের ভাড়া থেকে বর্তমানে নাই ভাড়া ছাড়া! আবার, ভাড়া দেয়ার কথা স্বীকার করলেও তা কত!

পরিশেষে, আমার উপরোক্ত লেখার কোথাও কোন শব্দচয়ন কিংবা বাক্যের কথনে বন্ধুবর, জামাল হোসেন বিষাদ সামান্যতম আহত হলেও আমি দু:খিত, ব্যথিত ও লজ্জিত। একটি সুন্দর সুগঠিত, সুপাঠ্য ও সৌহাদ্যপূর্ণ সৃজনশীল লেখার খেতাবে বন্ধুবর জামাল হোসেন বিষাদ এর প্রতি নতুন বছরের শুরুতে আন্তরিকতা, অভিনন্দন ও অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা রইল।

লেখক : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। নোয়াখালী থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকের সম্পাদক।

সংশ্লিষ্ট লেখা:

নোয়াখালী প্রেসক্লাব : এক সংবিধানে দু’শাসন

নোয়াখালী প্রেসক্লাব : আমি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নই