নোয়াখালী প্রেসক্লাব : আমি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নই

Wednesday, 31/12/2014 @ 10:03 pm

:: জামাল হোসেন বিষাদ ::

Jamal Hossain Bishad Photoউদাস জমিন, উদার প্রকৃতির মানুষ হিসেবে আমারও শঙ্কাহীন জীবনের অধিকার রয়েছে। মানুষ হিসেবে আমি যেভাবে এ সমাজটাকে দেখতে চাই, গড়ে তুলতে চাই, তা হবে প্রকাশ্য। লুকোচুরিতে শৈশবে আনন্দ ছিলো আর এখনকার লুকোচুরিতে কোনো আনন্দ আছে বলে মনে হয়না। আমি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নই। এখন আর লুকোচুরি খেলতে ভালো লাগে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সম্পাদক মহোদয়, আপনি খুবই প্রাজ্ঞ একজন সাংবাদিক। আপনার প্রতি বিনম্ন শ্রদ্ধা। এমন একটি লেখাতে নাম নিয়ে লুকোচুরি না করলেই পারতেন। তাহলে আপনার স্বরূপটাও বিশ্লেষণ করা যেতো।

প্রিয় সম্পাদক মহোদয় যখন নোয়াখালী প্রেসক্লাব’ ১৯ জনের ঘুড়ি ও নাটাই ছিলো তখন আপনি কোথায় ছিলেন? যে অনার্স বোর্ডের নাম উল্লেখ করেছেন সেখানে কি আপনার চোখজোড়া কোনো পক্ষপাতিত্ব করেনি? দু’চার জন মানুষ ঘুরে ফিরে যখন বছরের পর বছর, সেশনের পর সেশন কোনো ধরনের জবাবদিহী বিহীন প্রেসক্লাব চালিয়েছিল তখন কি আপনি চৈতালী হাওয়ায় গা ভাসিয়ে প্রমোদ নিবাসে ছিলেন?

একটি কুক্ষিগত প্রতিষ্ঠানে যে গণতন্ত্রায়নের অভিযাত্রা শুরু হয়েছে তাকে খাটো করছেন কার স্বার্থে? যে অনার্স বোর্ডের প্রশ্ন তুলেছেন সেখানে কেউই তাচ্ছিল্যের পাত্র নন। আপনার কি জানা আছে এ অনার্স বোর্ডে একটি টু ইন ওয়ান প্রদান করা ব্যক্তির নামও উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ সময়ের প্রেক্ষিতে তার প্রয়োজনীয়তার মূল্যও কম ছিলো না। গত চার বছরে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের অনুদান বা অবদান খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এ সকল প্রশ্ন তুলে মাননীয় সম্পাদক তাদেরও খাটো করলেন না ?

একটি বিষয় জানিয়ে রাখতে চাই, ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে স্থাপিত বাংলাদেশের একমাত্র প্রেসক্লাব। তার পর থেকে এ জেলার নিবেদিতপ্রাণ সমাজ সংস্কারক, সাংবাদিকের আত্ম নিবেদনের ফল আজকের এ প্রেসক্লাব। মাঝখানে অনেক চড়াই-উৎরাই ও নোয়াখালী প্রেসক্লাব চরম একটি অচলায়তন ভেঙ্গে নবযাত্রা শুরু করেছিলো আজ থেকে ৭ বছর আগে। সিনিয়রদের মধ্যে দ্বন্ধ, বিবাদ ও বাকযুদ্ধের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিলো প্রেসক্লাব আঙ্গিনা থেকে চায়ের দোকান, সামাজিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের ড্রয়িং রুম পর্যন্ত। এ সুযোগে দেয়াল সর্বস্ব পত্রিকার ছিদ্রান্বেষি সুযোগ সন্ধানী তথাকথিত সাংবাদিকরাও এ আঙ্গিনাকে কলুষিত করতে চেয়েছেন। সে জায়গা থেকে ক্লাবের স্বগৌরব ফিরিয়ে এনেছেন এ জেলার তরুণ সাংবাদিকরা।

শুরুতে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি সম্পর্কে বলেছেন। তিনি নির্বাচিত সভাপতি। তিনি দেশের একটি প্রাচীনতম সংবাদপত্রের প্রতিনিধি। বয়সেও যথেষ্ঠ বড়। একটু সম্মান প্রদর্শনে বোধ করি আপনার সম্মানহানী হতো না। আপনি তার সমালোচনা করুন, আলোচনার টেবিলে, প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায়। তাতে প্রেসক্লাবের সম্মানহানী হবে না, আপনারও নয়। আপনি নিজেইতো ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রেসক্লাবের স্বকীয়তা প্রশ্নবিদ্ধ করলেন।

সাংবাদিকতা করার বিষয়ে আপনি বললেন শিক্ষা-দীক্ষা নিয়ে। ভালো। একটু কি ভেবে দেখেছেন অন্য কাউকে ছোট করে বলার আগে নিজের নৈতিকতা, নিজের শিক্ষা কতটুকু? কাউকে ছোট করে উপস্থাপনে কতটুকু আত্মগৌরব, আত্মমর্যাদা অটুট থাকে? যে শিক্ষা একজন সম্মানিত লোককে সম্মান দিতে জানে না সে শিক্ষা যতই উচ্চ শিক্ষা হোক তা প্রকৃত শিক্ষা নয়। এমন পূথিগত শিক্ষাকে আমি ঘৃণা করি। আপনি কোন শিক্ষাটি গ্রহণ করেছেন আপনার তাবৎ শিক্ষা থেকে? আপনি গঠনতন্ত্রের বরাত দিয়ে লিখলেন নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি, এ বিষয়টি গঠনতন্ত্রে সংশোধন শেষে অনুমোদন হয় ২২ নভেম্বর ২০১২ সালে। এখন আপনার দাবি অনুযায়ী কোন কোন সদস্যকে তার সদস্য পদ থেকে বাদ দেয়া উচিৎ সে পরামর্শ দিলে বোধ করি আরো ষ্পষ্টভাষীর সম্মানটা পেতেন।

আপনি যদি সম্পাদক হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জানা থাকার কথা যে, কোন পরিস্থিতিতে বর্তমানে সংশ্লিষ্টরা এ প্রেসক্লাবের হাল ধরেছিলো। ভূঁইফোড় সাংবাদিকদের সাথে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদার যে লড়াই চলেছিলো তখন আপনি কোন পক্ষে ছিলেন? যখন আদালতে গড়িয়েছিলো বিষয়গুলো তখন আপনি বাদী ছিলেন নাকি বিবাদীদের দলে?

আপনি স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকদের সদস্য পদের বিষয়ে প্রকাশনা সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলেছেন, তাও ভালো। আমার খুবই জানতে ইচ্ছে করছে আপনি কোন পত্রিকার সম্পাদক? সে পত্রিকার বদৌলতে এ স্বকীয়তা হারানো (আপনার লেখায়) প্রেসক্লাবের মান্যবর সদস্য কি না? প্রেসক্লাব নিয়ে আপনার কত আফসোস, কত বেদনা!!! সেটা কি কোনো পদাসীন হতে না পারার কারণ নাকি কারো বৈতরণী পার না করতে পারার দু:খবোধ?

নোয়াখালী প্রেসক্লাবের এ যাবৎকালের সর্বজনগ্রাহ্য, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ২৩ ডিসেম্বর ১১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। যে পদে একাধিক প্রার্থী ছিলেন না সে পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাদেরকে অনির্বাচিত বলা কতটুকু যৌক্তিক? কতটুকু সম্মানের? প্রেসক্লাবের হৃত গৌরব বাড়ানোর আপনার প্রানান্তকর প্রচেষ্টা আমাকে প্রাণীত(!!) করেছে।

ক্লাবে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে সদস্য করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কিন্তু কারো অতীত তদন্তের ভার প্রেস ক্লাবের ওপর অর্পণ করা হয়নি। সে সুযোগও নেই যদি কোনো লিখিত অভিযোগ থাকতো এবং সে অভিযোগ যদি উপেক্ষা করতো প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ তাহলে আপনার মতের পক্ষে আমিও একজন থাকতাম। আরেকটি বিষয় জানিয়ে রাখতে চাই, কোনো পেশাদার সাংবাদিকের সদস্য হবার পথ রুদ্ধ করেনি প্রেস ক্লাব। যিনি গঠণতন্ত্রে উল্লেখিত নিয়মসমূহ মেনে সদস্য হবার আবেদন করবেন তিনিই সদস্য হতে পারবেন।

কোনো অচলায়তন ভাঙ্গতে সময়ের প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিবাচক প্রচেষ্টার। সে চেষ্টায় আমরা এখনো ব্রত রয়েছি। আমরা অচলায়তন ভেঙ্গেছি। নূতন অভিযাত্রায় আমাদের সচলায়তন অব্যাহত থাকবে এবং ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের গৌরব অক্ষুন্ন রাখবো। আপনি নিরাশ হবেন না। কবির কথায়, চিলে কান নেয়ার (কাল্পনিক) হতাশা মুক্ত থাকুন।

লেখক: প্রথম যুগ্ম সম্পাদক, নোয়াখালী প্রেসক্লাব
সম্পাদক, প্রতিদিন আমার সংবাদ
জেলা প্রতিনিধি, বৈশাখী টেলিভিশন, নোয়াখালী।

সংশ্লিষ্ট লেখা:

নোয়াখালী প্রেসক্লাব : এক সংবিধানে দু’শাসন

বন্ধুবর, জামাল’র প্রতি…