নোয়াখালী প্রেসক্লাব : এক সংবিধানে দু’শাসন

Tuesday, 30/12/2014 @ 11:28 pm

mofossol journalঐতিহ্যবাহী নোয়াখালী প্রেসক্লাব ক্রমেই স্বকীয়তা হারিয়ে চলছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একের পর এক আন্ত:কোন্দলের আগুনে পুড়ছে এটি। এখানে যিনিই দায়িত্ব পান তিনি নিজে রাজা, অন্যদের প্রজা মনে করে বসেন। আবার, ভাবখানা এমন যেন এ জেলায় তিনি বা তারা বিনে আর কেউ সাংবাদিকতার খাতায় নাম লিখাটিও চরম বেয়াদবি, অন্যায় ও মূর্খতা।

অথচ যদি লেখাপড়ার দৌরাত্ম্যের কথা ভাবি তাহলে তারা সাংবাদিক হিসেবে কতটুকু শিক্ষা, দীক্ষা বা পান্ডিত্যের অধিকারী এটি একটি প্রশ্নবিদ্ধ ও হাস্যকর বিষয়! প্রসঙ্গত সম্প্রতি নোয়াখালী প্রেসক্লাবের নির্বাচন হয়েছে। মাত্র ২৪জন তালিকা বেষ্টিত ভোটার। এরমধ্যে ১৩জনই কার্যকরী পরিষদের নেতা। তাও সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও কার্যকরী পরিষদের ৩সদস্য ছাড়া বাকীরা পুরোপুরিই অনির্বাচিত।

ক্লাব নিয়ে গণতান্ত্রিক নিয়ম রেখায় চর্চাকারীদের অনেকের মতে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অনেকেরই কাগজপত্র সঠিক, শুদ্ধ ও সত্য নয়। এমনকি যিনি সংবিধান সংশোধন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন কমিটির আহবায়ক ছিলেন তার কাগজও।

শিক্ষাগত যোগ্যতার কথায় কমপক্ষে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর কথা বলা হলেও এ ক্লাবের গুটি কয়েক সদস্য বাদে অনেকেরই যোগ্যতা একেবারে হতাশাব্যঞ্জক ও র্দুভাগ্যজনক। গঠনতন্ত্রে বলা রয়েছে, কোন স্থানীয় দৈনিক ধারাবাহিকভাবে ১২০, সাপ্তাহিক ধারাবাকিভাবে প্রকাশিত পত্রিকার ৫২ সংখ্যা জমা দেয়ার পরই সদস্য হতে পারে।

অথচ জেলা থেকে প্রকাশিত অনেকেগুলো দৈনিক, সাপ্তাহিক সম্পাদককে গঠনতন্ত্রের শাসনমেনে সদস্য হওয়ার সুয়োগ দানে বাধা রাখা হলেও শাহ এমরান সুজন নামের এক অনিয়মিত সম্পাদককে সদস্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়! তাকে সদস্য পদ দানের পরপরই করা হয়েছে সহ-সভাপতি।

গঠনতন্ত্রে কোন সাজাপ্রাপ্ত লোককে সদস্য না করার বিধান রাখা হলেও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি আকবর হোসেন সোহাগের জিআর ৪৬২/৯৬, জালিয়াতি মামলায় (২বছর ৬মাস) সাজার বিষয়টি যেন সবাই ভুলে গেছে! অথচ সাজার দায়ে দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোটার মো: হানিফকে সদস্য পথ রুদ্ধ করা হয়েছে।

গঠনতন্ত্রে শাসনে ক্লাবের আয়-ব্যয়ের হিসাব জেলার সমবায় কর্মকর্তা বা সরকারী নিরীক্ষণ কর্মকর্তার মাধ্যমে অডিট করার কথা বলা হলেও বিগত সংবিধান পাশের পরই তা হয়নি। এমনকি সাধারন পরিষদের মাধ্যমে বাজেট পাশের নির্দেশনা থাকলেও এপর্যন্ত তা বরাবরই উপেক্ষিত।

তাছাড়া, ক্লাবের সংরক্ষিত অনার্স বোর্ডে নাম লিখার বিষয়ে বলা হয়েছে, কমপক্ষে এক লাখ টাকা ক্লাবের তহবিলে জমা দেয়ার পর নাম লিখা যেতে পারে। জানা মতে, এক্ষেত্রেও এ সংবিধান প্রণয়নের পর ৭টি নাম বোর্ডে প্রকাশ্যে থাকার পরও এ পর্যন্ত ক্লাবের কার্য বিবরণীতে তা লিপিবদ্ধ হয়নি এবং এ টাকার বিষয়ে কোথাও কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

সাধারন সদস্যদের বেশিরভাগেরই অভিযোগ রয়েছে, ক্লাবের সভাপতি একক কর্তৃত্ববলে যখন যা খরচ করেন এবং ক্লাবের স্থাবর সম্পত্তি হতে যা আদায় করেন; তিনি বরাবরই এটিকে বাজেট হিসাব করে চলছেন। এহেনবস্থায়, কবির ভাষায় আমরাও ভাবি, সখি এভাবে আর কতকাল! সুখ যেন আর না সয়!

লেখক: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, নোয়াখালী থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকের সম্পাদক।

সংশ্লিষ্ট লেখা:

নোয়াখালী প্রেসক্লাব : আমি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নই

বন্ধুবর, জামাল’র প্রতি…