উপমহাদেশে কড়া নাড়ছে আল কায়েদা!

Thursday, 18/09/2014 @ 10:45 pm

:: কাজী আবুল মনসুর ::

Al Qaedaআল কায়েদার শীর্ষ নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরির পঞ্চান্ন মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা ওলট পালট করে দিলো ভারত – বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম। সতর্ক সবাই। বিশেষ করে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্র ভারতবর্ষে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দরজায় কড়া নাড়ছে আল কায়েদা এমন খবরে বিশাল দেশটির শত কোটি মানুষের মনে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলের থানায় থানায় সতর্কবাণী পৌছে দিয়েছে। আল কায়েদার টার্গেট ভারত। তারা কাজে লাগাতে চায় ভারতের ১৮ কোটি মুসলিমকে। ওসামা বিন লাদেনের শীষ্য আয়মান আল জাওয়াহিরি সম্প্রতি ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেন, মায়ানমার, বাংলাদেশ, আসাম, গুজরাট, কাশ্মির, আহমেদাবাদে মুসলমানদের উপর অন্যায়-অবিচার চলছে। তাদেরকে এ শোষন থেকে মুক্ত করতে ‘আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ গঠন করা হবে।

জাওয়াহিরি উল্লেখ করেন, জেহাদের পতাকা তুলে এ অঞ্চলগুলোর মাঝে নানা রাষ্ট্রের সীমানা মুছে দিয়ে মুসলিমদের এক করার কাজ করবে আল কায়েদা। আয়মান আল জাওয়াহিরি মূলত একজন চিকিৎসক। মিশরে তার জন্ম। আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর জাওয়াহিরির নাম প্রকাশ্যে আসে। তবে ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর জঙ্গি এ সংগঠনটির অবস্থা তুলনামূলকভাবে আগোছালো হতে থাকে। বিশেষ করে নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আল কায়েদার জঙ্গিদের বেশ বেগ পেতে হয়। বিন লাদেনের পর মুল নেতৃত্ব মোল্লা ওমরের হাতে তুলে দেয়া হলেও আল জাওয়াহিরির উপস্থিতিও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। কিন্ত সিরিয়া ও ইরাকে আল কায়েদার বিপরীতে আইএস (ইসলামিক স্টেট) এর সরব উপস্থিতির কারণে জাওয়াহিরির নেতৃত্ব বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে।

এ অবস্থায় ভারতের ১৮ কোটি মুসলমানকে টার্গেট করে অনেকটা আকস্মিক এ ভিডিও বার্তার কারণে জাওয়াহিরি আবারও আলোচনায় আসেন। ভিডিও বার্তায় তিনি মোল্লা ওমরের নেতৃত্বের উপর অবিচল আস্থা রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম ‘আল কায়েদা’।

‘মখতব আল খিদমার’ নামের একটি ধর্মীয় উগ্রবাদীদের সংগঠন ছিল। ওসামা বিন লাদেন এ সংগঠনের পেছনে খরচ করেন কোটি কোটি টাকা। ৮৮ সালের দিকে মখতব আল খিদমার এর উগ্রপন্থী সদস্যদের দিয়ে গঠন করা হয় ‘আল কায়েদা’। এই আল কায়েদাকে সংগঠিত করার পেছনে আমেরিকান সরকারই এক সময় কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে। ৭৯ সালের দিকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসন হলে আমেরিকা বসে থাকতে পারেনি। কারণ আফগানিস্তানের বারবাক কায়মাল সরকার ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পোষ্য পুত্র বলে খ্যাত বারবাক কায়মাল সরকারকে ধংস করতে আমেরিকা শুরু করে নিজেদের কার্যক্রম। যে করেই হোক আফগানকে নিয়ন্ত্রণে নিতে চেষ্ঠা করেছিল তারা। কারণ আমেরিকা মনে করেছিল, আফগানিস্তানে সোভিয়েত সরকার মানে পুরো ভারতবর্ষে সোভিয়েত আধিপত্য। এ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলের উপর থেকে আমেরিকা নিয়ন্ত্রণ হারাবে। তাই আফগান সরকার ধ্বংসের খেলা শুরু করে। আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসন মেনে নিতে পারেনি পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। তারা যোগাযোগ শুরু করে আমেরিকান সিআইএ’র সাথে।

আইএসআই ও সিআইএ মিলে শুরু করে আফগান সরকার ধ্বংসের মিশন। কাকে দিয়ে এ মিশন শুরু করা যায়। উভয়ের কাছে এ সময় প্রিয় লোক হিসেবে নাম আসে ওসামা বিন লাদেনের। কারণ ওসামা বিন লাদেন এ সময় আমেরিকার ঘনিষ্ট মিত্র। কে এই ওসামা বিন লাদেন? তার পুরো নাম ‘ওসামা বিন মুহাম্মদ বিন আবাদ বিন লাদেন’। ১৯৫৭ সালের ১০ মার্চ সৌদি আরবে জন্ম। লেখাপড়া করেন জেদ্দার ফয়সল বিশ্ববিদ্যালয় ও কিংস আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত ওসামা বিন লাদেন পারিবারিকভাবে কোটিপতি। যুবা বয়সে তার সাথে ফিলিস্তিনি মৌলবাদী নেতা শেখ আবদুল্লা আজমের বেশ সখ্য গড়ে উঠে।

শেখ আবদুল্লা আজম মূলত একজন ধর্মীয় উগ্রবাদী নেতা। তাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেন লাদেন। শেখ আজমের প্রতিষ্ঠিত মখতব আল খিদমার অন্যতম পৃষ্টপোষক ছিলেন লাদেন। আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের পর লাদেনের দিকে আমেরিকান সিআইএ’র নজর পড়ে। লাদেনকে আমেরিকার ঘনিষ্ট মিত্র হিসেবে আফগান মুসলিমদের সোভিয়েত ইউনিয়নের হাত থেকে মুক্ত করতে সহযোগিতা চাওয়া হলে লাদেন রাজি হয়। সৌদি আরবের রাজকীয় হাল ছেড়ে যুবক লাদেন আমেরিকান টাকা ও অস্ত্রের কাছে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের সময় লাদেন আমেরিকার হয়ে মাঠে নামেন আফগান মুক্ত করতে।

অত্যাধুনিক অস্ত্র আর নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয় আল কায়েদার সদস্যদের। আইএসআই ও সিআইএ’র সহযোগিতায় আফগানিস্তানে বসে লাদেন রুশ বাহিনীর সাথে একের পর এক যুদ্ধে জড়িয়ে যান। অত্যাধুনিক অস্ত্রেও যোগান বাড়তে থাকে। মেশিনগান, স্টিঞ্জার মিশাইলসহ নানা ভারী অস্ত্র লাদেনের হাতে আসতে থাকে। এক সময় লাদেন অনেকটা দানব হয়ে উঠে। সৌদি আরব ও আফগানিস্তানে বসে লাদেন তার অভিযানগুলো চালাতে থাকে। ওসামা বিন লাদেনের নাম ছড়িয়ে পড়ে জঙ্গিগোষ্ঠির মাঝে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে আগ্রাসনের কয়েক বছর ধরে যখন রুশ বাহিনীর উপর একের পর এক জঙ্গি হামলা চলছিল তখন সমাজতন্ত্রেও পতনের হাওয়া বইতে থাকে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পর আমেরিকার সব হিসেব নিকেশ পাল্টে যায়। কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে লাদেনকে তারা দানব বানিয়েছে সে লাদেনই তাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠে। ১৯৮৮ সালে লাদেন তার নিজ দল ‘আল কায়েদা’র ঘোষণা দেন। ১৯৯০ সালে ইরাক যখন কুয়েত দখল করে তখন ওসামা বিন লাদেন কুয়েত মুক্ত করতে ১ লাখ প্রশিক্ষিত মুজাহিদ প্রস্ত্তত বলে জানান। কিন্ত সৌদি সরকার কুয়েত মুক্ত করতে লাদেনকে পাত্তা না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে হাত বাড়ালে লাদেন বড় ধরনের ধাক্কা খায়। লাদেনের সাথে আমেরিকার দুরত্ব বাড়তে থাকে। পরবর্তিতে অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে লাদেন আমেরিকার চক্ষুশূল হয়ে উঠে।

আমেরিকার সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হলে লাদেন স্থায়ী বসবাসের জন্য আফগানিস্তানে চলে আসেন। বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে আল কায়েদাকে শক্তিশালী করতে থাকেন। শুরু হয় আল কায়েদার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। আফগানিস্তানের তোড়োবোড়ো পাহাড়ে বসে আল কায়েদার বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে লাদেন। তার সংগঠনের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দেশে। আমেরিকা লাদেনের এ উত্থানকে প্রথমদিকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। লাদেন আফগানিস্তানে আসন গেড়ে বসার পর আফগানরা তার পতাকাতলে সংগঠিত হতে থাকে।

একদিকে পাকিস্তান অন্যদিকে আফগানিস্তান জুড়ে আল কায়েদার জয় জয়কার শুরু হয়। লাদেন আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে শুরু করে। আমেরিকানদের খুব একটা গুরুত্ব না দিয়ে নিজের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। লাদেনের কারণে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে আমেরিকান আধিপত্য খর্ব হতে থাকে। নববই দশক থেকে লাদেন আমেরিকা বিরোধী হয়ে উঠে। তালেবান আর আল কায়েদা মিলে লাদেনের সাম্রাজ্য বাড়তে থাকলে আমেরিকার টনক নড়ে। ২০০১ সালে সর্বপ্রথম লাদেনের ঘাটি তোড়োবোড়ো পাহাড়ে আমেরিকা বড় ধরনের বোমা হামলা চালায়। অল্পের জন্য বেচেঁ যান লাদেন। এ সময় আহত লাদেনের চিকিৎসা করেন আয়মান আল জাওয়াহিরি। মূলত এ সময় থেকে চিকিৎসক আয়মান আল জাওয়াহিরির সাথে লাদেনের ঘনিষ্টতা হয়।

২০০১ সালের হামলার প্রতিশোধ নিতে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে হামলার অনুমোদন দেন লাদেন। লাদেনের নির্দেশে ভয়ানক এ হামলা চালানো হয়। নিহত হয় তিন হাজার মানুষ। এ ঘটনার পর সারা বিশ্বে লাদেন ও আল কায়েদা সন্ত্রাসবাদের প্রতীক হয়ে উঠে। মুসলিম দুনিয়া জুড়ে তার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়ে। আল কায়েদা মুল সংগঠন হিসেবে থেকে বিভিন্ন দেশে বেশ কিছু শাখা সংগঠন দাড়িয়ে যায়। পাকিস্তান ও বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম হয় না। পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে আল কায়েদার শাখা সংগঠন ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। ফলে গোষ্ঠি ও জাতিগত দ্বন্দ্বের কারণে দেশটির অবস্থা নাজুক হয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল কায়দার ছত্রছায়ায় বাংলাদেশে সক্রিয় জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এদের শেকড় অনেক গভীরে। নববই দশক থেকে বাংলাদেশে সক্রিয় এই সংগঠনের সুইসাইড স্কোয়াড এখন মাঠে। দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে সুইসাইড স্কোয়াডের প্রায় ২ হাজার সদস্য। এদের রয়েছে উন্নত কমান্ডো প্রশিক্ষণ। কীভাবে সহজে বোমা বহন করতে হবে; কখন, কোথায় এবং কীভাবে বোমা মারতে হবে- এসব প্রশিক্ষণ নিয়েই তাদের গোপন তৎপরতা চলছে।

মূলত মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা আল হারমাইনের অর্থে বাংলাদেশে ঘাঁটি গাড়ে আল কায়দা। ১৯৯০ সালে সুদানি নাগরিক ইউসুফ বদোনস্কি বাংলাদেশে এর পরিচালক হিসেবে নিযুক্তি লাভের পর দেশের ৩৮টি জেলার বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের তৎপরতা শুরু হয়। ১৯৯২ সালে চট্টগ্রামে আল হারমাইনের দি^তীয় অফিস প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকেই গোটা দেশে আল হারমাইনের ১৬৯ স্টাফ সক্রিয় ছিল। বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৪ সালের ৩০ জুলাই ঢাকার উত্তরা মডেল টাউনের আল হারমাইন অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয় কিন্তু তখন থেকে বাংলাদেশে আল কায়দার সহযোগী সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হয় হরকাতুল জিহাদ ও জামা’আতুল মুজাহিদিন। বাংলাদেশে আসা আল হারমাইনের পরিচালক সুদানি নাগরিক এস তিবরিজের নেতৃত্বে কক্সবাজার, নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবানের বার্মা রিফ্যুইজিদের মাধ্যমে এটি আরো শক্তিশালী হয়।

নববই দশক থেকে ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করা নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদ ও জামা’আতুল মুজাহিদিন বর্তমানে বাংলাদেশে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে রয়েছে এই সংগঠনগুলোর সক্রিয় সদস্যরা। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ দেশে হরকাতুল জিহাদসহ ৩৩টি জঙ্গি সংগঠনের বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় তুলে ধরে। এই জঙ্গি সংগঠনগুলো দেশে বিপজ্জনকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে আওয়ামী লীগ বারবার মতপ্রকাশ করলেও তৎকালীন সরকার এ ব্যাপারে বরাবরই নীরব ভূমিকা পালন করেছিল।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চট্টগ্রামের মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ বাংলাদেশে আল কায়দার শীর্ষ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। দীর্ঘদিন ধরে ফরিদ হরকাতুল জিহাদের হয়ে কাজ করছে। হরকাতুলের যে ১৫ হাজার জঙ্গি বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে তাদের মধ্যে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার আফগান জিহাদে অংশ নেয় বলে পত্রপত্রিকায় প্রকাশ। এর মধ্যে ৩৪ জন মারা গেলেও বাকিরা বাংলাদেশে ফিরে আসে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আল কায়দার শীর্ষ নেতা আবদুর রহমান ফারুকী। ১৯৮৯ সালে ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে বৈঠক হয় বাংলাদেশী জঙ্গিদের। আফগানিস্তানের কোস্ট এলাকায় এই বৈঠক হয়। আবদুর রহমান ফারুকী আফগানিস্তানে মাইন বিস্ফোরণে মারা যান।

বাংলাদেশে সক্রিয় জঙ্গিরা গভীর যোগসূত্র স্থাপন করে আল কায়দার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে। বিশ্বের যেসব এনজিও সংস্থা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের অর্থের জোগান দেয় তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে বাংলাদেশের জঙ্গি নেতাদের। শীর্ষ জঙ্গি নেতারা কক্সবাজারকে বেছে নেয় তাদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে। বিদেশী জঙ্গি সংস্থার অর্থায়নে এখানে গড়ে তোলা হয় বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা। অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন মাদ্রাসায় রয়েছে হরকাতুল জিহাদের অন্যতম ঘাঁটি এবং সেখানেই হাতেখড়ি হয় জঙ্গি প্রশিক্ষণের। মাদ্রাসার অনেক ছাত্র বর্তমানে সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্য। ‘জিহাদের ময়দানে মরলে বিনা হিসাবে জান্নাত পাওয়া যায়; শহীদরা কখনো মরে না এটি কোরআনের ঘোষণা’- এ দীক্ষায় চলে জঙ্গি প্রশিক্ষণ।

লাদেনের মৃত্যুর পর আল কায়েদার বিস্তার সাময়িকভাবে থমকে গেলেও বর্তমানে আয়মান আল জাওয়াহিরির ভিডিও বার্তায় উজ্জীবিত জঙ্গিরা। এ বার্তা প্রকাশের পর থেকে ভারত, বাংলাদেশে গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা বেড়েছে। জাওয়াহিরির এ বার্তা নিছক এক হুমকি কিনা তা দেখতে আরও কিছু সময় লাগবে।

লেখক : সম্পাদক, প্রেসবার্তাডটকম।

দৈনিক পূর্বকোণ, বৃহস্পতিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪।