‘ছবি তুলতে চাই পর্যবেক্ষণ দক্ষতা’

Sunday, 03/08/2014 @ 10:43 pm

koushik picকৌশল পারিখ, তিনি মুম্বাইয়ের একজন ট্রাভেল এবং ডকুমেন্টরি ফটোগ্রাফার। তার তোলা ছবিগুলো দেখতে বেশ সাধারণ কিন্তু ভাবনার উদ্রেক করে। ছবিগুলো আমাদের অজান্তেই নিয়ে যায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ের গল্পের কাছে। যে গল্পগুলো আমাদের চোখের সামনে প্রতিনিয়ত ঘুরপাক খাচ্ছে কিন্তু বাস্তবিক পৃথিবীর ব্যস্ততার ভিড়ে আমরা তা দেখেও দেখার সুযোগ পাই না। কিন্তু কৌশল পারিখ তার মনের চোখকে ক্যামেরায় বন্দী করে ঘুরে বেড়ান এরকম অজস্র গল্পের সন্ধানে। ভারতীয় এই ফটোগ্রাফারের নিজের কথাগুলো সাক্ষাৎকার আকারে তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন।
আমি ছিলাম একজন ব্যাংকার। মাঝে মাঝে ছবি তুলতাম, কারণ ছবি তুলতে আমার ভালো লাগে। কিন্তু এখন ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরোদস্তুর প্রফেসনাল ফটোগ্রাফার বনে গিয়েছি। নতুন নতুন জায়গায় ভ্রমন করা এবং রাস্তার মানুষের জীবনের নির্যাস গল্পে গল্পে আমার ছবিতে তুলে রাখতে ভালোবাসি।

ট্রাভেল এবং ডকুমেন্টরি ফটোগ্রাফি নিয়ে আপনার ভাবনা কিংবা আপনার ভালোবাসা সম্পর্কে কিছু বলুন।
স্ট্রিট ফটোগ্রাফি নিয়ে আমি কিছুটা বিবর্ন ছিলাম। কিন্তু যখন আমি ভ্রমন করতে শুরু করলাম এবং ছবি তুলতে লাগলাম তখন আমার কাছে স্ট্রিট ফটোগ্রাফি বেশ মজার মনে হলো। ট্রাভেল অ্যসাইনমেন্টগুলো আমার খুব ভালো লাগে, কারণ এসময় ল্যান্ডস্কেপ, খাবার, মানুষ এবং বিশেষত রাস্তার ছবি তোলা যায়।

আপনার ছবিগুলোর মাঝে প্রকৃতির নান্দনিকতাকে খুঁজে পাওয়া যায়। যে কারণে দর্শক খুব সহজেই প্রবেশ করতে পারে ছবির বিষয়বস্তুতে। এটাকে কিভাবে বর্ননা করবেন?
এর পেছনে আসলে কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। আমি যখন রাস্তায় ছবি তুলি তখন রাস্তা থেকে আমাকে অনেক কিছুই শিখতে হয়। আর সেগুলোই আমাকে নতুন কোনো কাজের তাড়না যোগায়। আমি যতটা ছবি তুলি তার চেয়েও বেশি পর্যবেক্ষণ করি এবং দিনের শেষে কিছু ভালো ছবি নিয়ে আমি ঘরে ফিরতে চাই। আর এর পেছনের মূল ঘটনাটি হলো, আমি কখনো জোর করে ছবি তুলি না। সবকিছু মিলে গেলেই তবে ছবি তুলেবো, নচেৎ নয়।

আপনার তোলা ছবিগুলোর কম্পোজিশনে উপরে স্পেস রাখার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। আপনার ছবির দর্শকদের উদ্দেশ্যে এবিষয়ে কিছু বলবেন?
আসলে ছবি তোলা হয় কিছু নিয়মের উপর ভিত্তি করে। যাকে রুল অব থার্ড বলা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কাজে লেগে যায় ছবির ক্ষেত্রে। কিন্তু ছবি তুলতে গেলে ক্লিক করার শেষ মুহূর্তে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। এটা খুবই ব্যক্তিগত ব্যাপার যে আপনি কিভাবে দেখতে এবং দেখাতে চাচ্ছেন। কারণ সব ফটোগ্রাফারই তার নিজের চোখ দিয়ে ছবি তোলে এবং সে নিজের মতোই দেখে। তবে আমি মনে করি, আপনি যত কম্পেজিশন নিয়ে ভাববেন ততই আপনি নতুন নতুন বিষয়গুলো দেখতে পাবেন। ভিউফাইন্ডার দিয়ে দেখার অভ্যেস বাড়াতে হবে।

আপনার স্ট্রিট ফটোগ্রাফিগুলোর মধ্যে একপ্রকার শান্ত-শীতলতা আছে। এর কি ব্যাখ্যা আছে আপনার কাছে?
আমি অন্যদের তুলনায় অনেক অবসর যাপনকারী মানুষ। আর সেটাই মনে হয় আমার ছবিতে উঠে আসে বারবার। প্রতিদিনকার জীবনের প্রতিটি অনুসঙ্গকেই আমি খুব সাধারণভাবে দেখতে চাই। কিছু সময় আমার ভাগ্য আমাকে সহায়তা করে একটা ভালো ছবি পেতে।

রাস্তায় ছবি তোলার ক্ষেত্রে আপনার ভঙ্গি কিরকম হয়?
আমি সাধারণত ভিড় এড়িয়ে চলতে পছন্দ করি। কিন্তু কিছু সময় আপনি চাইলেও মুম্বাইয়ে ভিড় এড়িয়ে যেতে পারবেন না। আমি সবসময় চেষ্টা করি সেই দৃশ্যগুলোর ছবি তুলতে যা সচরাচর মানুষের চোখে আটকায় না। আর এটা ভিড় রাস্তাতেও সম্ভব। যার জন্য আপনার অনেক ধৈর্য্য থাকতে হবে।

কোনো স্মরণীয় ঘটনা?
আমি যখন সিয়াটলে আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ছবি তুলছিলম, তখন শহরের কিছু মজার দৃশ্য থেকে থমকে দাড়ালাম। আমার ক্যামেরা বের করলাম এবং কম্পোজিশন ঠিক করলাম। আর তখনই আমার স্ত্রী, যিনি ততক্ষনে আমার ছবি তোলা নিয়ে বেশ বিরক্ত, সিদ্ধান্ত নিলেন আমার ফ্রেমের সামনে দিয়ে হেটে যাওয়ার এবং ফ্রেমের মাঝখানের একটি বেঞ্চে সে বসে পরলো। সে মনে করেছিল যে সে আমার ছবিটা নষ্ট করে দিতে পেরেছে। কিন্তু সে বুঝতেও পারেনি যে সে ওই বেঞ্চে বসার কারণেই আমার ফ্রেমটা পরিপূর্ণ হয়েছিল। এটাকে আমি ভাগ্যই বলবো।

কৌশলের কাছে একটি ভালো স্ট্রিট ফটোর ধারনা কেমন?
ভালো ফটোগ্রাফির কোনো গোপন ফর্মুলা নেই। ফ্রান্সের বিখ্যাত স্ট্রিট ফটোগ্রাফার রবার্ট দসিনেসুর মতে, ‘যদি আমি জানতাম কিভাবে একটি ভালো ছবি তুলতে হয়, তাহলে আমি সবসময়ই সেভাবে তুলতাম।’ আমার কাছে সেই ছবিটিই গুরুত্বপূর্ণ যাতে আমি আমার ভাষা খুঁজে পাই। আর ভালো ছবি সেটাই যা আমার সঙ্গে দীর্ঘদিন থাকবে।

নবীন ফটোগ্রাফারদের জন্য কোনো উপদেশ
অবিরত ছুবি তুলে যেতে হবে। গড়পড়তা কাজের জন্য না ছুটে নিজের সবচেয়ে ভালো কাজের দিকে ছোটাই ভালো।

জীবনে সুখী হওয়ার উপায় কি?
ভয়হীন জীবনযাপন করা।

আপনার ভয়ের কারণ?
দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া।

আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন?
নিঃসন্দেহে আমার সন্তান।

কোথায় থাকতে চান?
ইস্তামবুল।

সৌজন্যে: বাংলামেইল।