দৈনিক আমার দেশ ও প্যান্ডোরার বাক্স

Saturday, 20/04/2013 @ 8:48 am

মিজানুর রহমান খান::

journalist nirjatonবর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকার স্বৈরাচারী সরকার ১৯৮১ সালে নিতান্ত কারিগরি যুক্তিতে কৃষ্ণাঙ্গ মালিকানাধীন চারটি সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল। আমার দেশ বন্ধেও বর্তমান সরকার সেই একই কারিগরি চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছে।
সরকারি রোষানলে সংবাদপত্র বন্ধ করার যে ভীতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের সরকার দূর করে গিয়েছিল, সেই ভীতি প্রায় আড়াই দশক পরে এক নতুন রূপে ফিরে এসেছে। আশঙ্কা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে ক্ষমতাসীন দলের এই সংবাদক্ষেত্র দলন কেবল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক এক প্রচারপ্রিয় ব্যক্তির সম্পাদিত প্রচারধর্মী দৈনিকের টুঁটি চেপে ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতের সরকারগুলো আর দশটা অপকর্ম অনুসরণের মতো সংবাদপত্র দলনের এই হাতিয়ারটিও ব্যবহার করতে চাইবে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ১৭ এপ্রিল এটিএন নিউজে সতর্কতার সঙ্গে আক্ষেপ করেন যে পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের আইন এখন নেই। এ রকম আইনের প্রয়োজনীয়তার দিকে তিনি ইঙ্গিত করেন। বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখন কেবল শুধু এটুকু বলেই থামব।’
পত্রিকাটি ও তার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কী অপরাধ করেছেন, সে বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত ও দণ্ডের ধার ধারেনি সরকার। আমার দেশ সরকারি কোপানলে অনেক আগ থেকেই। একটি রিটের ভিত্তিতে এটি বন্ধের আগের প্রক্রিয়াটি উচ্চ আদালতে থমকে ছিল। চূড়ান্ত রায় হয়নি। ব্লগের আপত্তিকর বিষয় পুনঃপ্রকাশে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রশ্নে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই বলতে শুনেছিলাম, পত্রিকার প্রকাশনা-সংক্রান্ত একটি মামলা উচ্চ আদালতে চলমান।
তুঘলকি কাণ্ড ঘটিয়ে আমার দেশ-এর কণ্ঠরোধের ঘটনা বাংলাদেশের সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার প্রতি একটি অশনিসংকেত। লক্ষণীয় যে সরকার আমার দেশ-এর বিরুদ্ধে ন্যায্য অভিযোগ আনতে প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। জোট সরকারের মতো এই সরকারের আমলেও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পৌনঃপুনিক হস্তক্ষেপ ঘটছে। আমার দেশ-এর ক্ষেত্রে অন্য সব অভিযোগ খাটো করে স্কাইপগেটকে বড় করে তোলাটাও দেখার মতো। মাহমুদুর রহমানকে স্কাইপগেট ও গাড়ি ভাঙচুরের দুটি মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অথচ পত্রিকাটির কয়েকটি মুদ্রিতসংখ্যায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও পরিকল্পিতভাবে উসকানি দেওয়ার গ্রহণযোগ্য আলামত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে হেফাজতে ইসলাম কিংবা উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর অনুভূতি হয়তো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর ফলে মামলার ভিত্তিটাই ধসে যেতে পারে। সরকার প্রকৃত অপরাধের জন্য জনাব রহমানের শাস্তি চায় কি না, সেই প্রশ্নও উঠতে পারে।
আমরা উইকিগেট সমর্থন করেছি। তাই স্কাইপগেটও সমর্থন করি। রাষ্ট্র স্কাইপগেট সংশ্লিষ্ট পদত্যাগী বিচারকের অসদাচরণ তদন্ত করতেও নারাজ। অথচ প্রতিশোধমূলকভাবে এর প্রকাশকারীর জন্য বিচারবহির্ভূত দণ্ড কার্যকর করে চলেছে। স্কাইপগেটের দায়ে সরকার আদালতের কাছে নালিশ নিয়ে যেতেই পারে। কিন্তু তাকে গ্রহণযোগ্যতা দিতে একই সঙ্গে বিচারকের আচরণও তদন্ত করতে হবে। বিচারকের স্কাইপ বক্তব্য সম্পর্কে সরকারের বা সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।
স্কাইপগেট রাষ্ট্রযন্ত্রে কার্যকর প্রভাব ফেলেছে। আলোচিত বিচারক ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করে হাইকোর্টে ফিরে এসেছেন।
যুদ্ধাপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল কাদের মোল্লা ৩ এপ্রিল তাঁর মামলার বিচারকার্যে আপিল বিভাগের দুজন বিচারককে নিবৃত্ত হওয়ার আবেদন জানান। কারণ, স্কাইপগেটে তাঁদের বিষয়ে পদত্যাগী বিচারকের মন্তব্য ছিল। এই কারণ দেখিয়ে কাদের মোল্লার আইনজীবী ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। ৩ থেকে ১৬ এপ্রিল এই আবেদনের নিষ্পত্তি হওয়ার অন্তর্বর্তীকালে ওই দুজন বিচারক এই মামলার শুনানিতে অংশ নেননি। ১৬ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন ও অপর তিন বিচারকের বেঞ্চের আদেশে বলা হয়েছে, ‘দুই বিচারক বিচারকাজে অংশ নেবেন কি না, সেটি তাঁদের নিজস্ব বিবেচনার ওপর নির্ভর করে।’ (ইত্তেফাক, ১৭ এপ্রিল) স্কাইপগেট নিয়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালেও একটি বিচার-প্রক্রিয়া চলমান আছে। স্কাইপগেটের ব্রিটিশ প্রকাশক দি ইকোনমিস্ট সেখানে তার যুক্তি পেশ করেছে। এ রকম একটি প্রেক্ষাপটে মূলত স্কাইপগেটের ঢোল পিটিয়ে মাহমুদুর রহমানকে নিগ্রহ এবং আমার দেশ বন্ধের অনিয়ম-আশ্রয়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ৪১টি বাক্যসংবলিত একটি বিবৃতির কোথাও নির্দিষ্টভাবে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর কথা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ’ বলতে তথ্যমন্ত্রী কেবল স্কাইপগেট প্রসঙ্গে ‘সাইবার অপরাধের’ কথাই উল্লেখ করেছেন। অথচ ব্লগের ধর্মীয় অবমাননা পরিকল্পিতভাবে পত্রিকাটি মুদ্রণ করেছে। জনাব রহমানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনের ২৯৫ক ধারার আওতায় ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ খুবই পরিষ্কার।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির যেসব ধারা আমার দেশ-এর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এই পর্বে সরকার-সমর্থকদের দ্বারা একে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, এর বিরুদ্ধে দলীয় তকমামুক্ত গণমাধ্যমকে যথেষ্ট উদ্বেগের সঙ্গে সোচ্চার হতে হবে। কারণ, অতীত শেখায় যে এটা ‘তাদের’ বিরুদ্ধে আটকে থাকবে না। ‘আমাদের’ বিরুদ্ধেও আসবে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ২০০৬ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের যে ৫৭ ধারায় পত্রিকাটির বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের অভিযোগ এনেছেন, সেটি ছদ্মবেশী কালাকানুন। এখনকার প্রায় প্রতিটি পত্রিকাই মুদ্রণ ও ইলেকট্রনিক। সংবাদপত্র দলনের বিলুপ্ত কালাকানুনগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনলে হইচই হবে। তাই বিএনপি সরকার এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছিল, যা মুদ্রিত সংবাদপত্র, তাই অনলাইন সংস্করণ। তাই কান টানলে মাথা আসবেই।
আমাদের সতর্ক আইন কমিশন কাঁচা কাজ করেনি। তাদের প্রস্তাবিত ৫৭ ধারাটি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল। তারা ভারতের ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারার আলোকে এই ধারাটি সুপারিশ করেছিল। তাই তারা এই ধারায় ধর্মীয় অনুভূতি বা মানহানি অন্তর্ভুক্ত করেনি। হতে পারে এটা মওদুদ আহমদের করিতকর্মা কর্তাদের কীর্তি। এক দেশ, এক অপরাধ, শাস্তি করা হলো দুই রকম। এখন আবার শফিক আহমেদের কর্মকর্তারা খেপেছেন। যদিও তারা সাইবার ট্রাইব্যুনালই গঠন করতে পারেনি।
মাহমুদুর রহমান সাইবার ট্রাইব্যুনালে গেলে ১০ বছর জেল। এক কোটি টাকা জরিমানা। আর সাধারণ আদালতে গেলে পাবেন দুই বছর। এই হলো বাংলাদেশ। ফৌজদারি কার্যবিধির ২৯৫ক ধারায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত একটি অপরাধ। এর সাজা দুই বছর। ব্রিটিশ আমলে এটা ধার্য করা হয়েছিল। ভারতে এটা এক বছর বাড়িয়ে অনেক আগেই তিন বছর করা হয়েছে।
আমাদের আইন কমিশনে তখন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ টি এম আফজাল, বিচারপতি কে এম সাদেক ও বিচারপতি নইমুদ্দিন আহমেদ ছিলেন। তাই তাঁরা সেখানে কেবল ‘অশ্লীলতা’ এবং এমন কিছুর প্রকাশ যা নৈতিকতাকে কলুষিত করবে, সেসব নিষিদ্ধের সুপারিশ করেছিলেন। ভারতের আইনে বলা আছে, এই অপরাধ প্রথমবার করলে তিন বছর সাজা ও পাঁচ লাখ রুপি জরিমানা এবং দ্বিতীয়বার করলে পাঁচ বছর জেল ও ১০ লাখ রুপি জরিমানা করা হবে।
আমাদের আইন কমিশন এরই অনুসরণে প্রথমবারের জন্য পাঁচ বছর জেল ও এক লাখ টাকা এবং দ্বিতীয়বারের জন্য ১০ বছর জেল ও দুই লাখ টাকা সুপারিশ করেছিল। কিন্তু মওদুদ অ্যান্ড কোং যে অবৈধ ও কুচক্রী বিধানটি করে, সেটি তথ্যমন্ত্রী গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, ৫৭ ধারায় মামলা করেছি। তিনি প্রকারান্তরে বলছেন, বিএনপির সৃষ্ট প্যান্ডোরার বাক্সটির আমরা উদ্বোধন করেছি মাত্র। ৫৭ ধারাটি বলেছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে এই কার্য হইবে একটি অপরাধ। কোনো ব্যক্তি এই অপরাধ করিলে তিনি অনধিক দশ বৎসরের কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’ এটা কোনো সুস্থ আইনের ভাষা হতে পারে না। রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি কী বস্তু?
এ রকম উদ্ভট বিধানের সংযোজন কি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বিএনপি ও জামায়াতের সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ ছিল? এক-এগারোতে ইয়াজউদ্দিন-খালেদা জিয়ার সাজানো বাগান তছনছ না হলে বিএনপির তথাকথিত নয়া নির্বাচিত সরকারের আমলে আমরা হয়তো এর অপপ্রয়োগ দেখতাম। বিএনপি-জামায়াতের পাতা ফাঁদে আমার দেশ খাবি খাচ্ছে। যাঁরা এখন তালি দিচ্ছেন, হয়তো তাঁদের রাউন্ড সামনে।
২০০৬ সালের অক্টোবরে দুই বড় দলের লোক দেখানো সংলাপের ডামাডোলের মধ্যে এই আইন পাস করা হয়। তখন এ নিয়ে কোনো হইচই করার পরিবেশ ছিল না। তথ্যমন্ত্রীর কথায় আফসোসের আভাস, সরকারের কাছে মুদ্রণ সংবাদপত্র দলনের কোনো হাতিয়ার নেই।
তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, জনাব রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৬ ও ৫৭ ধারা অনুযায়ী। ৫৬ ধারা ‘জনসাধারণের বা কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে’ হ্যাকিং অপরাধ সংঘটনকে দণ্ডনীয় করেছে। দি ইকোনমিস্ট বা আমার দেশ স্কাইপগেট প্রকাশ করে ৫৬ ধারায় কোনো প্রকৃত অপরাধ করেনি।
তথ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন ডেকে যেভাবে আইনের অপব্যাখা দিয়েছেন, তা জবর রসাল। তিনি লিখেছেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৮০ ধারা অনুযায়ী, প্রেসের মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এ সকল কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা করেছে। এর সাথে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন মত প্রকাশের কোনো সম্পর্ক নেই।’
ছাপাখানায় চিরস্থায়ী তালা মারা কি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, নাকি দলীয় দাসত্ব? রাষ্ট্রদ্রোহ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মতো এই আইনেও কোনো মামলা সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনো আদালত গ্রহণ করতে পারবেন না। এখন রাষ্ট্র দানব হলে মানুষ যাবে কোথায়? কারণ, ৮০ ধারা কেবল ‘তল্লাশি’ এবং ‘যেকোনো বস্তু আটকের’ ক্ষমতা দিয়েছে। আর ৭৭ ধারা বলেছে, এই আইনের অধীনে অপরাধ সংঘটনের আলামত কেবল ‘বিচারকারী আদালতের আদেশানুসারে বাজেয়াপ্তযোগ্য হবে’। অথচ সরকারের কাছে আদালতের কোনো আদেশ নেই।
সন্দেহাতীতভাবে পত্রিকাটির সাম্প্রতিক কিছু ভূমিকা প্রচলিত আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। তবে প্রচারপত্র বলে তার কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। এ কথাও ঠিক, আমার দেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রচারপত্র ও সংবাদপত্রের মধ্যে পার্থক্য রাখেনি। বিএনপি বা জামায়াতের একজন উগ্রপন্থী সমর্থক হলেও নাগরিক হিসেবে মাহমুুদুর রহমানের যে মৌলিক অধিকার সংবিধানে স্বীকৃত, তা সরকার খর্ব করতে পারে না। সাংবাদিক ও নাগরিকের বাকস্বাধীনতায়ও তারতম্য নেই।
মাহমুদুর রহমানকে অবিলম্বে জামিন দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের দ্রুত বিচার কাম্য। এটিএন নিউজে তথ্যমন্ত্রীর কথায় মনে হয়েছে, তিনি জানেন, নির্দিষ্ট অভিযোগে কোনো একটি বা দুটি সংখ্যা বাজেয়াপ্ত করা যায়। কিন্তু যে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়নি, তাকে হত্যা করা যায় না। ছাপাখানা বন্ধ করে সরকার তেমনি এক হন্তারকের ভূমিকা পালন করছে কি না, সেটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com
সৌজন্যে- প্রথম আলো।

সর্বশেষ