‘গেটিং অ্যাওয়ে উইথ মার্ডার’

Thursday, 02/11/2017 @ 6:26 pm

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

‘গেটিং অ্যাওয়ে উইথ মার্ডার’ শিরোনামে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিচারহীনতার সূচক তৈরি করা হয়েছে সেপ্টেম্বর ১, ২০০৭ থেকে আগস্ট ৩১, ২০১৭ পর্যন্ত সাংবাদিক হত্যা ও হত্যা মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার দৃষ্টান্ত নিয়ে। শুধু যে দেশগুলোয় পাঁচজন বা তার চেয়ে বেশিসংখ্যক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, সেই দেশগুলোকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ওই প্রতিবেদনে সারা বিশ্বে সাংবাদিক হত্যার বিচার না হওয়া নিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছে। সাংবাদিক হত্যায় বিচার না হওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) গতকাল বুধবার সারা বিশ্বে সাংবাদিক হত্যার বিচার না হওয়া নিয়ে যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে সোমালিয়া।

সিপিজে বলেছে, তালিকায় থাকা সাংবাদিকেরা তাঁদের কাজের জন্য খুন হয়েছেন। সংগঠনটির গবেষণায় দেখা গেছে, সাংবাদিক হত্যার দুই-তৃতীয়াংশই ঘটেছে তাঁদের পেশাগত কাজের কারণে। এ তালিকায় বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে পাকিস্তান। দেশটির অবস্থান সপ্তম। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান ১২। গত বছরও বাংলাদেশের অবস্থান দশম ছিল।

সিপিজের হিসাবে, বাংলাদেশে গত এক দশকে সাতজন সাংবাদিক খুনের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিপিজে আলোচনায় নিয়ে এসেছে মুক্তমনা ব্লগারদের প্রসঙ্গ। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক দশকে তাঁদের মৌলবাদী ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলো খুঁজে বের করে হত্যা করেছে। নিহত ব্যক্তিরা ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ব্লগার এবং তাঁরা মাদক পাচারের ওপর প্রতিবেদন লিখেছেন। এসব খুনের মধ্যে কেবল ২০১৩ সালে আহমেদ রাজীব হায়দার নামের একজন ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালত রায় ঘোষণা করেছেন। ২০১৫ সালে অভিজিৎ রায় খুনের পর বিভিন্ন ধরনের তথ্য-প্রমাণ হাতে পাওয়া এবং বেশ কিছু গ্রেপ্তারের পরও কারও বিচার হয়নি।

সিপিজে প্রতিবছর ২ নভেম্বর ‘সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত অপরাধের বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি বন্ধে’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিটি দেশের মোট জনসংখ্যা এবং ১০ বছরের ওপরে অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা নিয়ে সূচক তৈরি হয়। এ বছরের সূচকে গত ১০ বছরের তথ্য দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সূচকের প্রথম ১২টি দেশে অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ। খুন হওয়া সাংবাদিকদের এক-তৃতীয়াংশ মৌলবাদী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর শিকার। নিহত সাংবাদিকদের ৯৩ শতাংশই মফস্বল সাংবাদিক, তাঁরা প্রধানত অপরাধ ও দুর্নীতি নিয়ে লিখতেন।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দীন আহমেদ বলেন, বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি, তদন্তে ধীরগতি, তদন্ত না হওয়া উদ্বেগের। সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় বিচারে খুবই ধীরগতি দেখা যায়। এখন পর্যন্ত কোনো সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় যথাযথ বিচার হয়নি। সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত যথাযথ তদন্ত পর্যন্ত হয়নি। সেদিক থেকে বলা যায়, সিপিজের পর্যবেক্ষণ ঠিকই আছে।

সূত্র: প্রথম আলো ও সিপিজে।