অযোগ্যতা আমার, কাঁদবো নাকি হাসবো!

Sunday, 29/10/2017 @ 12:24 pm

:: জিল্লুর রহমান পলাশ ::

একই বিষয়ে একই স্থানে একাধিক সংগঠন নতুন কিছু না, অপরাধও না। সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠন আছে দেশজুড়ে। নানা কারণে সংবাদকর্মীদের একই সাথে একাধিক সংগঠন হতেই পারে। তবে প্রতিটা সংগঠনেরই মূল উদ্দেশ্য পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, অধিকার রক্ষা, নিজেদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মাঝে যখন ক্ষতিকর জীবানুর প্রবেশ ঘটে তখন তা উদ্বেগের।

সংবাদকর্মীদের যে কোন নতুন সংগঠন নতুন উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা ও কর্মব্যস্ততা বৃদ্ধিসহ সুফল আনবে এমনটাই প্রত্যাশা করে সবাই। কিন্তু ক্ষতিকারক জীবানু-বিষবাষ্প-রাক্ষস খ্যাত ‘রাজনৈতিক এজেন্ট/আমলার তোষামোদকারী/ধান্দাবাজী/সুবিধাবাদি, চাপাবাজ/ফিতেকাটা নামক “সিন্ডিকেট সংগঠন” সৃষ্টি করা হলে তার উদ্দেশ্য একেবারে স্পষ্ট। এমন সংগঠন আসলেই আতঙ্কের। এসব সংগঠন সৃষ্টি হচ্ছে যেমন, তেমনি নিষ্ক্রিয়ও হচ্ছে। নেতৃত্ব সুবিধা আর ভাগবাটোয়ারা দ্বন্দেই এসব সংগঠনের টেকসই হয়না।

মূলত সুবিধাবাদি কয়েকজনের চুলকা চুলকিতে ছয় মাস বা বছর পরেই নাম পাল্টিয়ে এমন সংগঠন হচ্ছে। তবে তাদের চুলকানিটা আসলে কোথায় তা খুঁজতে হয়ত মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করতে হবে। (চুলকানি বলছি এ কারণে সারাদেশের সংবাদকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার, দরকার এক পতাকা তলে থাকা, কিন্তু তা না করে, আরও একাধিক সংগঠন সৃষ্টিতে বিভক্তি বাড়ছে)।

আসলে সংগঠন করতে হবে এটা আমি মনে করি না। একটি জেলা শহরে যখন একাধিক সংগঠন থাকতে পারে সেখানে নেতৃত্ব কতটুকু শক্তি বহন করবে? বিপদে-আপদে কি ধরনের সহযোগিতা পাবে একজন সংবাদকর্মী? শুধু রাজনীতির শিকার আর স্বার্থবাজদের স্বার্থ উদ্ধার করাই হবে, ব্যবহার হতে হবে।

তবে একজন সংবাদকর্মীর গুণ, মান নির্ধারণের একমাত্র পাঠক-দর্শকেই যথেষ্ট। এছাড়া নীতি-নৈতিকতার বিষয়টি স্পষ্ট থাকে শুভাকাঙ্খিদের কাছেও। দায়িত্ববোধে খবরের পিছনে ছুটে চলা প্রকৃত সংবাদকর্মীদের সংগঠন লাগে না, কাজের দক্ষতা আর নিজ প্রতিষ্ঠানের অবস্থানই যথেষ্ট।

বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় পত্রিকা, অনলাইন, টিভি, রেডিওসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি রয়েছে। এসব প্রতিনিধি স্থানীয় প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনে জড়িত। আবার অনেকে কোন সংগঠনের সাথে নিজেকে জড়াতে চাননা। সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলার কর্মরত টিভি সংবাদকর্মীদের নিয়ে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।

সেখানে ১৮ জন সংবাদকর্মীর নাম থাকলেও অনেকে বিষয়টি জানেন না। ১৮ জনের তালিকায় থাকা একজন সম্পৃক্ত না থাকার কথা লিখেছেন ফেসবুকে। তাছাড়া এ নিয়ে অনেকে ফেসবুকে নানা স্ট্যার্টাসও দিয়েছেন।

দেশের শীর্ষ ও জনপ্রিয় যমুনা টিভি, সময় টিভি, এটিএন বাংলা, এটিএন নিউজ, বাংলাভিশন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, আরটিভি ও চ্যানেল নাইন, এসএ টিভিসহ অনেক টিভির সংবাদকর্মী সেখানে নেই। এসব গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী কি জেলায় কর্মরত নেই? তবে বিভক্তি কেন?

কমিটি গঠন কি হঠাৎ হয়েছে নাকি পরিকল্পিত। কেন, কি এর উদ্দ্যেশ্য? এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে জেলার টিভি পত্রিকা, অনলাইনের সংবাদকর্মীদের মধ্যে। বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমেও তো করা যেত। (কেউ সম্মতি দিক বা না দিক)। গ্রামের ছেলে, উপজেলা থেকে জেলা পর্যায়ে কাজ করছি তাই হয়তো যোগ্যতা হয়নি আমার। এটা কি প্রতিযোগিতা নাকি প্রতিহিংসা।

কমিটির সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছ আমার। অধিকাংশের সঙ্গে ব্যক্তিগত বা কাজের ক্ষেত্রেও যোগাযোগ হয় প্রতিদিন। কিন্তু তারা সংগঠন করলেন অথচ একজনও আমাকে বিষয়টি জানালেন না, কার সাথে অন্যায়-অপরাধ বা ভুল কিছু করেছি মনে পড়ছে না (করলেও ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন)। এই অযোগ্যতার জন্য দু:খে কাঁদবো নাকি হাসবো…।

তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কি শুধুই প্রয়োজনের নাকি স্বার্থের। নাকি নিরুৎসাহিত করতে? উঠে আসতে বাধা দিতে? নাকি একক দখলদারিত্ব এবং মানহীন, অপসাংবাদিকতার নতুন আবরণে ছড়িয়ে দিতে? নাকি সবগুলোই! (এসব কথায় কেউ ভূল বুঝবেন না, ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন)। তবুও অভিনন্দন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সদস্যদের। সেই সাথে সংগঠনের গতিশীলতা কামনা করি।

লেখক: গাইবান্ধা প্রতিনিধি, যমুনা টিভি, বাংলা ট্রিবিউন ও দৈনিক যায়যায়দিন।
মেইল: zrpalash2009@gmail.com